Dhaka ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গোপালগঞ্জ মহাসড়কে বাসচাপায় ৫ জন নিহত ঈশ্বরদীতে পদ্মায় জেলেদের ওপর সশস্ত্র হামলা, গুলিবিদ্ধসহ আহত ৪ জয়পুরহাট সীমান্তে তিনজনকে বাংলাদেশ ডোকানোর চেস্টা ব্যর্থ: বিএসএফ টানা বর্ষণে পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে যুবদল নেতা ইউছুপ চৌধুরী জাতীয় পর্যায় শ্রেষ্ঠ হলেন প্রধান শিক্ষক মো. হেদায়েত হোসেন দিনাজপুর সীমান্তে ৪ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা চট্টগ্রামে বন্যাদুর্গত ও পানিবন্দি মানুষের পাশে বাংলাদেশ নৌবাহিনী বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, দ্রুত বিচারের দাবি পরিবারের নাগেশ্বরীতে জাতীয় ডেঙ্গু নির্দেশিকা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত চিলমারীতে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের অভিষেক অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত

পাহাড়ি ঢল ও সাগরের জোয়ারের টানাপোড়েন: কেন বারবার ডুবছে নিম্ন অঞ্চল, কেন উঠানামা করছে সাঙ্গুর পানি?

মাসুদ রানা মাসুম পার্বত্য ব্যুরো:
টানা কয়েকদিনের রেকর্ডভাঙা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দক্ষিণ চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য বান্দরবানের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে। তবে সর্বশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি ও নদ-নদীর পানিপ্রবাহ বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন বাস্তবতা—উজানের রুমা ও থানচিতে বৃষ্টি কমে সাঙ্গু নদীর পানি নামতে শুরু করলেও ভাটির সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও দোহাজারী এলাকায় লাখো মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে পাহাড়ি ঢল, ডলু নদীর বাঁধ ভাঙন, অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং বঙ্গোপসাগরের জোয়ার-ভাটার সম্মিলিত প্রভাবে হটাৎ এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরের পর থেকে বান্দরবান সদর পয়েন্টে সাঙ্গু নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। গত কয়েক ঘণ্টায় নদীর পানি প্রায় ৪১ সেন্টিমিটার নেমেছে। (নিউজ লেখা পর্যন্ত সন্ধ্যা৬.টা) রুমা ও থানচি সাঙ্গু নদীর উজানে অবস্থিত হওয়ায় পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুতগতিতে নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। কিন্তু সেই বিপুল পরিমাণ পানি যখন দোহাজারী, চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া হয়ে বঙ্গোপসাগরে প্রবেশের চেষ্টা করছে, তখন ভাটির নদীগুলোর সীমিত ধারণক্ষমতা তা সামাল দিতে পারছে না। ফলে নদীর পানি উপচে লোকালয়ে ঢুকে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। বর্তমানে দোহাজারী পয়েন্টে সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার প্রায় ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  পাহাড়ি ঢলে ছড়ার গর্ভে বিলীন নালকাটা-শুকনাছড়ি সড়ক

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া ও কেরানিহাট এলাকা। এর অন্যতম কারণ সাঙ্গুর শাখা নদী ডলু এবং পাহাড়ি ছড়া টঙ্কাবতীর প্রবল ঢল। পাহাড়ি পানির চাপে ডলু নদীর বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ভেঙে গেলে অল্প সময়ের মধ্যেই বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়। সাতকানিয়া ও কেরানিহাট এলাকার ভূমি তুলনামূলক নিচু হওয়ায় এবং পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বিভিন্ন অবকাঠামোগত কারণে বাধাগ্রস্ত থাকায় পানি দীর্ঘসময় আটকে থাকে। ফলে কেরানিহাট-বান্দরবান সড়কের ওপর দিয়ে প্রবল স্রোত বয়ে গেলেও আশপাশের গ্রামগুলোতে পানি প্রায় স্থির অবস্থায় রয়েছে। তাছাড়া নতুন করে ভারী বৃষ্টি না হলেও এসব এলাকায় পানি পুরোপুরি নামতে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পেছনে বঙ্গোপসাগরের জোয়ার-ভাটাও বড় ভূমিকা রাখছে। সাঙ্গু নদীর মোহনা সরাসরি সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় জোয়ারের সময় সমুদ্রের পানি উল্টো চাপ সৃষ্টি করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে। যেমন শনিবার দুপুরে ভাটা শুরু হওয়ার পর কিছু এলাকায় পানি নামতে শুরু করলেও বিকালের পর দ্বিতীয় দফা জোয়ার শুরু হওয়ায় আগেই পানি কমার পরিস্থিতি আবার স্থবির হয়ে পড়ে। তাই বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত সময়টিতে নদীর পানি সাগরে প্রবাহিত হওয়ার গতি কমে যাওয়ায় নিচু এলাকাগুলোতে পানি স্থির কিংবা সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রুমা ও থানচিতে আজ রাতে অতি ভারী বর্ষণ বা মেঘভাঙা বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হলেও তা নদী বহন করতে সক্ষম হবে, যদি না উজানে নতুন করে বড় ধরনের পাহাড়ি ঢল সৃষ্টি হয়। অনেকের মধ্যরাতের পর পুনরায় ভাটা শুরু হলে সাঙ্গু নদীর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করবে এবং লোকালয়ের পানি দ্রুত সাগরমুখী হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় বড় ধরনের বৃষ্টিপাত না হলে রোববার সকাল থেকেই দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হতে পারে। তবে ডলু নদীর ভাঙা বাঁধ, ক্ষতিগ্রস্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নিচু এলাকার পানি নিষ্কাশনে ধীরগতির কারণে সাতকানিয়া ও আশপাশের অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

আরও পড়ুনঃ  কুলাউড়া পৌরসভার ৯৮ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গোপালগঞ্জ মহাসড়কে বাসচাপায় ৫ জন নিহত

পাহাড়ি ঢল ও সাগরের জোয়ারের টানাপোড়েন: কেন বারবার ডুবছে নিম্ন অঞ্চল, কেন উঠানামা করছে সাঙ্গুর পানি?

আপডেটের সময়: ০৬:১৯:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

মাসুদ রানা মাসুম পার্বত্য ব্যুরো:
টানা কয়েকদিনের রেকর্ডভাঙা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দক্ষিণ চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য বান্দরবানের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে। তবে সর্বশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি ও নদ-নদীর পানিপ্রবাহ বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন বাস্তবতা—উজানের রুমা ও থানচিতে বৃষ্টি কমে সাঙ্গু নদীর পানি নামতে শুরু করলেও ভাটির সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও দোহাজারী এলাকায় লাখো মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে পাহাড়ি ঢল, ডলু নদীর বাঁধ ভাঙন, অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং বঙ্গোপসাগরের জোয়ার-ভাটার সম্মিলিত প্রভাবে হটাৎ এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরের পর থেকে বান্দরবান সদর পয়েন্টে সাঙ্গু নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। গত কয়েক ঘণ্টায় নদীর পানি প্রায় ৪১ সেন্টিমিটার নেমেছে। (নিউজ লেখা পর্যন্ত সন্ধ্যা৬.টা) রুমা ও থানচি সাঙ্গু নদীর উজানে অবস্থিত হওয়ায় পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুতগতিতে নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। কিন্তু সেই বিপুল পরিমাণ পানি যখন দোহাজারী, চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া হয়ে বঙ্গোপসাগরে প্রবেশের চেষ্টা করছে, তখন ভাটির নদীগুলোর সীমিত ধারণক্ষমতা তা সামাল দিতে পারছে না। ফলে নদীর পানি উপচে লোকালয়ে ঢুকে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। বর্তমানে দোহাজারী পয়েন্টে সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার প্রায় ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  তারাকান্দায় ভূমি সেবা সহায়তা কেন্দ্র (LSFC) পরিদর্শন : সরকার নির্ধারিত ফিতে সেবা নিশ্চিতকরণে মতবিনিময়

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া ও কেরানিহাট এলাকা। এর অন্যতম কারণ সাঙ্গুর শাখা নদী ডলু এবং পাহাড়ি ছড়া টঙ্কাবতীর প্রবল ঢল। পাহাড়ি পানির চাপে ডলু নদীর বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ভেঙে গেলে অল্প সময়ের মধ্যেই বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়। সাতকানিয়া ও কেরানিহাট এলাকার ভূমি তুলনামূলক নিচু হওয়ায় এবং পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বিভিন্ন অবকাঠামোগত কারণে বাধাগ্রস্ত থাকায় পানি দীর্ঘসময় আটকে থাকে। ফলে কেরানিহাট-বান্দরবান সড়কের ওপর দিয়ে প্রবল স্রোত বয়ে গেলেও আশপাশের গ্রামগুলোতে পানি প্রায় স্থির অবস্থায় রয়েছে। তাছাড়া নতুন করে ভারী বৃষ্টি না হলেও এসব এলাকায় পানি পুরোপুরি নামতে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পেছনে বঙ্গোপসাগরের জোয়ার-ভাটাও বড় ভূমিকা রাখছে। সাঙ্গু নদীর মোহনা সরাসরি সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় জোয়ারের সময় সমুদ্রের পানি উল্টো চাপ সৃষ্টি করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে। যেমন শনিবার দুপুরে ভাটা শুরু হওয়ার পর কিছু এলাকায় পানি নামতে শুরু করলেও বিকালের পর দ্বিতীয় দফা জোয়ার শুরু হওয়ায় আগেই পানি কমার পরিস্থিতি আবার স্থবির হয়ে পড়ে। তাই বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত সময়টিতে নদীর পানি সাগরে প্রবাহিত হওয়ার গতি কমে যাওয়ায় নিচু এলাকাগুলোতে পানি স্থির কিংবা সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রুমা ও থানচিতে আজ রাতে অতি ভারী বর্ষণ বা মেঘভাঙা বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হলেও তা নদী বহন করতে সক্ষম হবে, যদি না উজানে নতুন করে বড় ধরনের পাহাড়ি ঢল সৃষ্টি হয়। অনেকের মধ্যরাতের পর পুনরায় ভাটা শুরু হলে সাঙ্গু নদীর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করবে এবং লোকালয়ের পানি দ্রুত সাগরমুখী হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় বড় ধরনের বৃষ্টিপাত না হলে রোববার সকাল থেকেই দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হতে পারে। তবে ডলু নদীর ভাঙা বাঁধ, ক্ষতিগ্রস্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নিচু এলাকার পানি নিষ্কাশনে ধীরগতির কারণে সাতকানিয়া ও আশপাশের অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

আরও পড়ুনঃ  পাহাড়ি ঢলে ছড়ার গর্ভে বিলীন নালকাটা-শুকনাছড়ি সড়ক