
কায়সার আশ্রাফীঃ চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম নগরীর খাল ও ছড়া দখলমুক্ত করতে দখলদারদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, যারা খাল-ছড়া দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছেন, তাদের স্বেচ্ছায় সরে যেতে হবে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ২৪ জুন(বুধবার) সকালে নগরীর দক্ষিণ পাহাড়তলী এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডে ঢুলুনিয়া ঢালা ছড়া, খাগড়িয়া ছড়া ও খোশাল শাহ ছড়ার পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন ও পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। মেয়র দৈনিক আজকের জনবাণীকে বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ সচল রাখতে খাল-ছড়া পুনরুদ্ধার অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে দখল ও দূষণের কারণে এসব জলাধারের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, অনেক স্থানে খালের ওপর নির্মিত স্ল্যাব ও বিভিন্ন অবকাঠামো পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
এসব বাধা দূর করে খালগুলোকে কার্যকর ও সচল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ওয়ার্ডভিত্তিক জলাবদ্ধতার কারণ চিহ্নিত করে পরিকল্পিতভাবে কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। নগরীর ৪০টি খালের উন্নয়ন পরিকল্পনা (ডিপিপি) প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় খাগড়িয়া ছড়া, খোশাল শাহ ছড়াসহ গুরুত্বপূর্ণ জলাধারগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, খালের গভীরতা বৃদ্ধি, রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং আধুনিক ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে হালদা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খাল-ছড়াগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করে নদী রক্ষার উদ্যোগও নেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে মেয়র বলেন, চলমান খনন ও সংস্কারকাজের মান তদারকিতে এলাকাবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। প্রকল্প বাস্তবায়নে গুণগত মান নিশ্চিত করা হবে এবং একটি পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। এ সময় চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদকের নাম 


















