
মোঃ সৈয়দ মিয়া ( ব্যুরো চিফ চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত ও পৈশাচিক শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামীকাল ১৭ জুন (বুধবার)। দীর্ঘ সাড়ে তিন বছরের আইনি প্রক্রিয়া শেষে চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাসের আদালত এই রায় প্রকাশ করবেন। সারা দেশকে স্তব্ধ করে দেওয়া এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাষ্ট্রপক্ষ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে। সাড়ে তিন বছর আগের সেই লোমহর্ষক ঘটনা ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় সোহেল রানার ৫ বছর বয়সী কন্যাসন্তান আলিনা ইসলাম আয়াত। নিখোঁজের পর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলে তদন্তে নামে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে বেড়িয়ে আসে এক গা শিউরে ওঠা সত্য। আয়াতদের বাসার ভাড়াটিয়া মো. আবির মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে অপহরণ করে এবং পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। প্রমাণ লোপাটের জন্য সে শিশুটির মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করে সাগরপাড় ও খালের পাশে ফেলে দেয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর আবিরকে গ্রেফতারের পর সে আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
৩৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ, কাঠগড়ায় আসামি গত ২৩ মে আদালতে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে আদালত রায়ের জন্য ১৭ জুন দিন ধার্য করেন। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি জালাল উদ্দিন বলেন, এই স্পর্শকাতর মামলায় মোট ৩৩ জন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। নিবিড় তথ্য-প্রমাণ ও জবানবন্দির ভিত্তিতে আমরা আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি তথা ফাঁসি প্রার্থনা করেছি। আমরা আশাবাদী আদালত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন। আর কোনো বাবার বুক যেন খালি না হয়’ রায়ের পূর্বমুহূর্তে বুকভরা ক্ষোভ আর কান্না চেপে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন আয়াতের বাবা ও মামলার বাদী সোহেল রানা। অশ্রুভেজা চোখে তিনি বলেন আমার নিষ্পাপ মেয়েটাকে যেভাবে পৈশাচিকভাবে হত্যা করা হয়েছে, আমি তার একমাত্র বিচার চাই—হত্যাকারীর ফাঁসি। আমার আর কোনো দাবি নেই। আমি শুধু দেখতে চাই এই নরপশুর এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক, যাতে আর কোনো অপরাধী এমন অপরাধ করার সাহস না পায় এবং আর কোনো বাবার বুক এভাবে খালি না হয়। পাঁচ বছরের অবুঝ শিশুকে হারিয়ে যে ক্ষত তৈরি হয়েছিল পরিবারটিতে, আগামীকাল আদালতের রায়ের মাধ্যমে সেই বিচারের বাণী ঘোষিত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা নিহতের পরিবার ও সচেতন মহলের।
প্রতিবেদকের নাম 


















