Dhaka ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দোহাজারীতে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারে ব্যপক অভিযোগ টানা ৫ দিন ধরে বন্ধ হিলি বন্দরের আমদানি-রপ্তানি পত্নীতলায় পুলিশের অভিযানে ৫ যুবক আটক ২শত টাকার জন্য হত্যা পুলিশের অভিযানে পাঁচজন আসামি গ্রেপ্তার তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবসে শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের মাঝে খাবার বিতরণ চিলমারীতে মধ্যযুগীয় বর্বরতায় নারীর গর্ভস্খলন ও ঘর-বাড়িতে অগ্নি সংযোগের প্রতিবাদে মানব বন্ধন নিরাপত্তার আশ্বাস ও ৫ ছাত্রদল নেতা বহিষ্কারের পর শজিমেকে কর্মবিরতি প্রত্যাহার ধুনটে বিস্ফোরক, ভাঙচুর ও নাশকতা মামলায় ৩ আ’লীগ নেতা গ্রেপ্তার। কাউনিয়ায় আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে টেকসই কৃষি উন্নয়নে কৃষকদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত সম্পত্তি লিখে নিতে চাপ, ছেলের বিরুদ্ধে বৃদ্ধা মায়ের নির্যাতন ও হত্যার হুমকির অভিযোগ‌

হেফাজতের ৫৮ জন নিহত, প্রধান আসামি হচ্ছেন শেখ হাসিনা: চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক: মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের ২০১৩ সালের ৫ মে সমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার (৫ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওই সময়ের ঘটনায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ৫৮ জন নিহতের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে এই গণহত্যার পেছনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্তত ৩০ জনের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শাপলা চত্বর ও এর সংলগ্ন এলাকায় নিহতের সংখ্যা নির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, রাজধানীর শাপলা চত্বরে এবং ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ৩২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  লক্ষ্মীপুরে জমি নিয়ে বিরোধ আদালতে পাল্টাপাল্টি মামলা

 

এছাড়া নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় ১ জনের নিহতের তথ্য ও পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। এই হত্যাকাণ্ডগুলো মূলত ২০১৩ সালের ৫ মে দিনে ও রাতে ঢাকায় সংঘটিত হয় এবং তার পরদিন নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। তদন্ত সংস্থা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে প্রতিটি ঘটনার তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছে এবং ইতিমধ্যে ৯০ শতাংশ তদন্ত কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মামলার আসামিদের বিষয়ে প্রসিকিউটর জানান, তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরাই এই অভিযানের নীলনকশা তৈরি করেছিলেন। সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের সম্পৃক্ততা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই সময় তিনি মিশনে দেশের বাইরে থাকলেও দূরে থেকে পরিকল্পনায় অংশ নেওয়া বা নির্দেশ দেওয়া সম্ভব। তাই তদন্তের স্বার্থে কারো নাম এখনই পুরোপুরি প্রকাশ না করা হলেও প্রত্যেকটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগামী ৭ জুনের মধ্যে এই মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুনঃ  এআইয়ের অপব্যবহার যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে: আইনমন্ত্রী

 

দীর্ঘ ১৩ বছর পর শাপলা চত্বর ট্র্যাজেডির বিচার প্রক্রিয়া গতিশীল হওয়ায় জনমনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর সংবাদ সম্মেলনে আরও স্পষ্ট করেন, এটি কেবল একটি সাধারণ অভিযান ছিল না বরং এটি ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই ঘটনার বিচারিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণহত্যার মতো গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে এই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা দেশের বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আরও পড়ুনঃ  জামালপুরে নারী অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

দোহাজারীতে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারে ব্যপক অভিযোগ

হেফাজতের ৫৮ জন নিহত, প্রধান আসামি হচ্ছেন শেখ হাসিনা: চিফ প্রসিকিউটর

আপডেটের সময়: ০৬:০০:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের ২০১৩ সালের ৫ মে সমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার (৫ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওই সময়ের ঘটনায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ৫৮ জন নিহতের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে এই গণহত্যার পেছনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্তত ৩০ জনের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শাপলা চত্বর ও এর সংলগ্ন এলাকায় নিহতের সংখ্যা নির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, রাজধানীর শাপলা চত্বরে এবং ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ৩২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  জামালপুরে নারী অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

 

এছাড়া নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় ১ জনের নিহতের তথ্য ও পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। এই হত্যাকাণ্ডগুলো মূলত ২০১৩ সালের ৫ মে দিনে ও রাতে ঢাকায় সংঘটিত হয় এবং তার পরদিন নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। তদন্ত সংস্থা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে প্রতিটি ঘটনার তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছে এবং ইতিমধ্যে ৯০ শতাংশ তদন্ত কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মামলার আসামিদের বিষয়ে প্রসিকিউটর জানান, তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরাই এই অভিযানের নীলনকশা তৈরি করেছিলেন। সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের সম্পৃক্ততা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই সময় তিনি মিশনে দেশের বাইরে থাকলেও দূরে থেকে পরিকল্পনায় অংশ নেওয়া বা নির্দেশ দেওয়া সম্ভব। তাই তদন্তের স্বার্থে কারো নাম এখনই পুরোপুরি প্রকাশ না করা হলেও প্রত্যেকটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগামী ৭ জুনের মধ্যে এই মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুনঃ  লক্ষ্মীপুরে জমি নিয়ে বিরোধ আদালতে পাল্টাপাল্টি মামলা

 

দীর্ঘ ১৩ বছর পর শাপলা চত্বর ট্র্যাজেডির বিচার প্রক্রিয়া গতিশীল হওয়ায় জনমনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর সংবাদ সম্মেলনে আরও স্পষ্ট করেন, এটি কেবল একটি সাধারণ অভিযান ছিল না বরং এটি ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই ঘটনার বিচারিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণহত্যার মতো গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে এই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা দেশের বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আরও পড়ুনঃ  এআইয়ের অপব্যবহার যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে: আইনমন্ত্রী