
এস কে সাগর মির্জা, জেলা প্রতিনিধি বগুড়া: বগুড়ার শাজাহানপুরের আমরুল ইউনিয়নের বড়নগর গ্রামে মৃত আত্মীয়ের বিয়ের সময় ধার দেওয়া স্বর্ণালঙ্কার দীর্ঘ ৩৪ বছরেও ফেরত না পাওয়ায় এবং পরবর্তীতে সেই গহনা পরিশোধ করতে অস্বীকৃতি জানানোর অভিযোগে বগুড়ার শাজাহানপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক প্রবীণ নারী। ভুক্তভোগী নারীর নাম মোছাঃ আনোয়ারা বেগম (লিলি) (৬৮)। তিনি উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের কৈলধুকড়ী গ্রামের এ.এম মোয়াজ্জেম হোসেনের স্ত্রী। অভিযুক্তরা হলেন— মৃত জামাল উদ্দিন (খোকা)-এর সন্তান মোঃ আমজাদ হোসেন (৪৫), মোঃ শামিম বাবু (৪০), মোছাঃ সান্তনা খাতুন (৪৮) এবং মৃত মোজাম হোসেনের পুত্র মোঃ আব্দুর রাজ্জাক (৫৮)। তারা সকলেই শাজাহানপুর উপজেলার বড় নগর ও নাথপাড়া এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৪ বছর পূর্বে মৃত জামাল উদ্দিন (যিনি অভিযোগকারিণীর আপন মামা শ্বশুর) তাঁর মেয়ে মোছাঃ সান্তনা খাতুনের বিবাহের জন্য আনোয়ারা বেগমের (লিলি) কাছ থেকে ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের গলার মালা এবং ১০ আনি ওজনের স্বর্ণের হাতের বালা ধার হিসেবে গ্রহণ করেন। সে সময় জামাল উদ্দিন এবং তাঁর ওয়ারিশরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, গহনা ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে তারা এর সমমূল্য পরিশোধ করবেন।
পরবর্তীতে আনুমানিক ৫ বছর পর আনোয়ারা বেগম (লিলি) তাঁর গহনা ফেরত চাইলে মৃত জামাল উদ্দিন জানান, গহনাটি তিনি তাঁর মেয়েকে দিয়ে দিয়েছেন এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যে নতুন গহনা গড়িয়ে দেবেন। এভাবে তিনি দীর্ঘ ২৪ বছর যাবৎ কালক্ষেপণ করেন এবং ২০১৬ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। জামাল উদ্দিনের মৃত্যুর পর তাঁর সন্তানদের কাছে গহনা ফেরত বা এর মূল্য দাবি করা হলে তারা গহনা নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী তা পরিশোধ করতে অস্বীকৃতি জানান। এই বিষয়ে কোনো সমাধান না পেয়ে ভুক্তভোগী নারী গত ২১/১২/২০২৫ তারিখে স্থানীয় আমরুল ইউনিয়ন পরিষদে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশি বৈঠকে বসলে অভিযুক্তরা ১ মাসের মধ্যে স্বর্ণালঙ্কার পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও তারা কোনো পাওনা পরিশোধ করেননি। পুনরায় ইউনিয়ন পরিষদে যোগাযোগ করা হলে চেয়ারম্যান ভুক্তভোগীকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং আত্মীয়-স্বজনদের সাথে আলোচনা শেষে গত ২৫/১২/২০২৫ তারিখের পর থানায় লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেন আনোয়ারা বেগম (লিলি)। অভিযোগপত্রে মোঃ আফিলুজার রহমান (৫০) সহ বেশ কয়েকজনকে ঘটনার সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী আনোয়ারা বেগম (লিলি)তাঁর অভিযোগে প্রশাসনের নিকট ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এই বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদকের নাম 



















