
মো. মুকলেছুর রহমান, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার পান্নারপুল থেকে মুরাদনগর উপজেলার নহল চৌমুহনী পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘ সাত বছর ধরে সংস্কারের অভাবে সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বারবার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কাজ না হওয়ায় প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী দুই উপজেলার অন্তত তিন লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজারো পথচারী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী যাতায়াত করলেও বর্তমানে এর পিচ, ইট ও পাথর উঠে গিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে ডোবার মতো রূপ নেয়, যার ফলে চালকদের পক্ষে রাস্তা ও গর্তের পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে যানবাহন অত্যন্ত ধীরগতিতে চলাচল করছে এবং প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, পণ্যবাহী যানবাহন এবং রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সগুলো এই সড়কে এসে তীব্র ভোগান্তিতে পড়ছে। অনেক সময় জরুরি রোগী নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় রোগীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, দেবিদ্বার ও মুরাদনগর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় সড়কটি অবস্থিত হওয়ায় এবং বিভিন্ন সময়ে এর দায়িত্ব পেট্রোল বাংলা, এলজিইডি ও সওজ বিভাগের মধ্যে হাতবদল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে এক ধরনের সমন্বয়হীনতা ও দায়িত্বের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। আর এই প্রশাসনিক অবহেলার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। মরিচাকান্দা জিয়া স্মৃতি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনেসহ সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগীরা। তবে এই দীর্ঘ ভোগান্তির অবসান ঘটতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। দেবিদ্বার ও মুরাদনগর উপজেলার প্রকৌশল দপ্তর থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারও কাজ শুরু করার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। মূলত বর্তমান বর্ষা মৌসুমের কারণে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পরপরই সড়কটির সংস্কার কাজ পুরোদমে শুরু করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুরাদনগর উপজেলা প্রকৌশলী।
প্রতিবেদকের নাম 


















