
এম. আজাদ খান,স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া: বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভুল ইনজেকশন প্রয়োগে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে হাসপাতাল চত্বরে এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। পরে স্বজনদের পক্ষের ছয়জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে কর্মবিরতি পালন করছেন হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বগুড়া সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মালেক (৫০) অ্যাজমায় আক্রান্ত ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালের বেডেই তাঁর মৃত্যু হয়।
মালেকের মৃত্যুর পর স্বজনেরা অভিযোগ করেন, ভুল ইনজেকশন প্রয়োগের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে স্বজনেরা জড়ো হন। একপর্যায়ে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। সংঘর্ষের একপর্যায়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা স্বজনদের পক্ষের ছয়জনকে আটক করে রাখেন বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে স্থানীয় ফাঁড়ির পুলিশ ও বগুড়া সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের হেফাজতে নেয়। পুলিশ হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন তানরিন (২৬), নিশিন্দারা; রাকিবুল হাসান (১৯), ফুলবাড়ী; প্রান্ত (২২), ফুলবাড়ী; এম এম মিনহাজ (১৮), ফুলবাড়ী; নাফিউল (২৬), ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া এবং বিপ্লব হোসেন (২৬), নামাজগড় ভান্ডারী মসজিদ এলাকা, বগুড়া। এদিকে সংঘর্ষের ঘটনার পর নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও হামলার প্রতিবাদে কর্মবিরতি শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। এতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং সংঘর্ষের ঘটনা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আব্দুল মালেকের মৃত্যুর সঙ্গে ভুল ইনজেকশন প্রয়োগের অভিযোগের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রতিবেদকের নাম 



















