
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যালট বক্স ছিনতাইয়ের মতো কোনো ঘটনা ঘটলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, ভোটের দিন কোনো কেন্দ্রে ব্যালট বক্স ছিনতাই হলে শুধু দোষীরা নয়, সংশ্লিষ্ট পোলিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার এমনকি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। এ ক্ষেত্রে কাউকে রেহাই দেওয়ার সুযোগ থাকবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় প্রশাসনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সবাইকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে এবং কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাব বা তোষামোদ থেকে দূরে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগতভাবে কাউকে খুশি করার প্রয়োজন নেই; বরং দেশের স্বার্থে নিরপেক্ষ ও সৎভাবে দায়িত্ব পালন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এবারের নির্বাচন হবে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর।
শেরপুরে সাম্প্রতিক নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণহানির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, অপরাধীদের গ্রেপ্তারে কিছুটা সময় লাগলেও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, পারিবারিক বা অভ্যন্তরীণ বিরোধ অনেক সময় হঠাৎ সহিংসতায় রূপ নেয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে নির্বাচনের দিন যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে আগেই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ে মেডিকেল টিম ও ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েনের সিদ্ধান্তকে তিনি স্বাভাবিক ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কোনো আশঙ্কার বিষয় নয়; বরং ভোটারদের সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ। বিশেষ করে বয়স্ক ভোটারদের জরুরি চিকিৎসা সহায়তার কথা বিবেচনায় রেখে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সবশেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সেনাবাহিনীসহ সব নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ভোটারদের নিরাপত্তা ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের মনোবল ধরে রাখতে সরকার কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বলেও তিনি জানান।
প্রতিবেদকের নাম 






















