Dhaka ০৬:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সড়ক নয় যেন সরু খাল, ভোগান্তিতে নাগরপুর চৌহালীবাসী ঠাকুরগাঁওয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে অপমৃত্যু : ২ জমকালো আয়োজনে বাউফল উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন ভোলার তজুমদ্দিনে কোস্ট গার্ডের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ প্রবাস জীবনের কষ্টে গড়া কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ জামালপুরের সরিষাবাড়িতে, ইয়াবা সহ এক যুবক গ্রেফতার নীলফামারীতে ব্র্যাক ব্যাংকের নতুন শাখা উদ্বোধন আধুনিক ব্যাংকিং সেবায় যুক্ত হলো নতুন দিগন্ত দুই মাসের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও জনসেবায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হবে: আরএমপি কমিশনার মৌলভীবাজারের রাজনগরে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে  নিহত ১ গাজীপুর ডুয়েটে ভিসি নিয়োগ ইস্যুতে সংঘর্ষ, শিক্ষার্থী-পুলিশ-ছাত্রদল মুখোমুখি

প্রবাস জীবনের কষ্টে গড়া কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ

লোকমান হোসাইন, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ):
দীর্ঘ ১৯ বছরের প্রবাস জীবনের কষ্টার্জিত নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও স্থাবর সম্পত্তিসহ প্রায় এক কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাৎ করে ১৪ বছরের সংসার ছেড়ে স্ত্রী অন্যত্র বিয়ে করেছেন— এমন অভিযোগ এনে বিচার ও সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন দুবাই প্রবাসী মো. আবু কালাম (৪৪)। স্থানীয় চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সালিশানদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও ন্যায়বিচার পাননি বলে দাবি তার।মো. আবু কালাম কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ভাটি জগৎচর গ্রামের মৃত চান্দু মিয়া ও মৃত মোছা. জামেনা বেগমের ছেলে।স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আবু কালাম জানান, ২০০৭ সালে আর্থিক স্বচ্ছলতার আশায় তিনি দুবাইয়ে পাড়ি জমান। প্রবাসে যাওয়ার আগে পার্শ্ববর্তী জাফরাবাদ গ্রামের মো. মেরাজ আলী শাহ্-এর মেয়ে মোছা. তানজিনা আক্তারের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ২০১৩ সালের ৪ অক্টোবর দেশে এসে পারিবারিকভাবে রেজিস্ট্রি কাবিনের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়।

তার দাবি, বিয়ের পর প্রায় ১০ বছর তাদের দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিক ছিল। তবে দীর্ঘ সংসার জীবনে তাদের কোনো সন্তান হয়নি। তিনি বলেন, প্রবাসে উপার্জিত অর্থ বিশ্বাসের ভিত্তিতে স্ত্রীর কাছেই সংরক্ষণ করতেন।
আবু কালামের অভিযোগ, জাফরাবাদ মোড়ে একটি জায়গা কেনার জন্য তিনি প্রায় ২৬ লাখ টাকা এবং রেজিস্ট্রি ও অন্যান্য খরচের জন্য আরও ৪ লাখ টাকা পাঠান। জায়গাটি তার নামে রেজিস্ট্রি হওয়ার কথা থাকলেও স্ত্রী প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া ওই জায়গায় মাটি ভরাট ও দোকান নির্মাণের জন্য আরও প্রায় ৩০ লাখ টাকা বিভিন্ন সময়ে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি তার।তিনি আরও জানান, স্ত্রীর জন্য প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার কিনে দেন এবং পারিবারিক প্রয়োজনে স্ত্রী’র বাবা মো. মেরাজ আলী শাহ্ ও বড় ভাই সুজন তার কাছ থেকে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা নিয়েছেন।প্রবাসী আবু কালামের ভাষ্য, প্রায় এক বছর আগে স্ত্রী তার হোয়াটসঅ্যাপে এফিডেভিটের মাধ্যমে তালাকের কাগজ পাঠান। যদিও ওই এফিডেভিট এরও প্রায় এক বছর আগে করা হয়েছিল বলে তিনি জানতে পারেন। এ সময়ও সাংসারিক খরচের কথা বলে নিয়মিত তার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দেশে ফিরে তিনি জানতে পারেন, তার স্ত্রী তানজিনা আক্তার অন্যত্র বিয়ে করেছেন এবং বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  গাজীপুর ডুয়েটে ভিসি নিয়োগ ইস্যুতে সংঘর্ষ, শিক্ষার্থী-পুলিশ-ছাত্রদল মুখোমুখি

সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন উল্লেখ করে আবু কালাম বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, স্থানীয় সংসদ সদস্য, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে সুষ্ঠু বিচার ও তার সম্পদ উদ্ধার করে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রবাসী ভাইদের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
অন্যদিকে, গত ১৩ মে বুধবার দুপুরে মোছা. তানজিনা আক্তার (৩৩) এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। তার সঙ্গে আমার কোনো মনোমালিন্য ছিল না। ওর শারীরিক সমস্যার কারণে ১৪ বছরের সংসার জীবনে আমাদের সন্তান হয়নি। ডাক্তারি কাগজপত্রও আছে। বারবার বলার পরও সে বিদেশ থেকে দেশে আসেনি। আমি সারাবছর বাবার বাড়িতে পড়ে থাকবো কেন?”
তিনি আরও বলেন, “আমার বড় বড় রোগ আছে। লিভারে সমস্যা, চর্বি ও পানি জমেছে। আমার বাবা চিকিৎসা করান। এছাড়া সে আমার খোঁজখবরও নিত না। এসব কারণেই আমি তাকে ডিভোর্স দিয়েছি।”
তানজিনা আক্তারের দাবি, আবু কালামের টাকা দিয়ে তিনটি দলিলের মাধ্যমে তার নামে জায়গা কেনা হয়েছে। তবে জাফরাবাদ মোড়ের জায়গাটি তিনি নিজের জমানো টাকা, স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি এবং বাবার দেওয়া অর্থ দিয়ে কিনেছেন বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, “তাকে তালাক দিয়ে প্রায় এক বছর আগে ঢাকার গোলাপবাগ এলাকার সুব্রত’র ছেলে সুমন (৩৫)-কে বিয়ে করেছি। বর্তমানে আমি ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সে যদি বেশি বাড়াবাড়ি করে তাহলে আমি তার বিরুদ্ধে মামলা করতে বাধ্য হবো।”
এদিকে, ২০২৪ সালের ২৭ জুন তারিখে নোটারি পাবলিক অব বাংলাদেশ, কিশোরগঞ্জের মাধ্যমে সম্পাদিত একটি এফিডেভিটে তানজিনা আক্তার উল্লেখ করেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বনিবনা না হওয়া এবং নিয়মিত ঝগড়া-বিবাদের কারণে তিনি আবু কালামের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেন।
তবে একই বিষয়ে তানজিনা আক্তারের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য নিয়ে এলাকায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের পারিবারিক আইন অনুযায়ী স্ত্রী তখনই স্বামীকে তালাক দিতে পারেন, যখন কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামে তাকে সেই ক্ষমতা অর্পণ করা থাকে। কেবল এফিডেভিটের মাধ্যমে তালাক কার্যকর হয় না। তালাকের নোটিশ স্বামী ও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠানো এবং পরবর্তীতে নিকাহ রেজিস্ট্রি অফিসে তা নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক।

আরও পড়ুনঃ  রাজীতিতে পুরোদমে সক্রিয় হচ্ছেন মাম্যাচিং: বান্দরবান জেলা বিএনপির সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়

এ অবস্থায়, কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামে স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল কিনা, তালাকের নোটিশ আইনানুগভাবে পাঠানো হয়েছিল কিনা এবং পরবর্তী দ্বিতীয় বিয়ে বৈধ হয়েছে কিনা— তা নিয়েও এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  মানুষ মানুষের জন্য,জীবন জীবনের জন্য" আব্বাসের চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে আসুন
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সড়ক নয় যেন সরু খাল, ভোগান্তিতে নাগরপুর চৌহালীবাসী

প্রবাস জীবনের কষ্টে গড়া কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেটের সময়: ০৪:৪৫:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

লোকমান হোসাইন, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ):
দীর্ঘ ১৯ বছরের প্রবাস জীবনের কষ্টার্জিত নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও স্থাবর সম্পত্তিসহ প্রায় এক কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাৎ করে ১৪ বছরের সংসার ছেড়ে স্ত্রী অন্যত্র বিয়ে করেছেন— এমন অভিযোগ এনে বিচার ও সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন দুবাই প্রবাসী মো. আবু কালাম (৪৪)। স্থানীয় চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সালিশানদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও ন্যায়বিচার পাননি বলে দাবি তার।মো. আবু কালাম কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ভাটি জগৎচর গ্রামের মৃত চান্দু মিয়া ও মৃত মোছা. জামেনা বেগমের ছেলে।স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আবু কালাম জানান, ২০০৭ সালে আর্থিক স্বচ্ছলতার আশায় তিনি দুবাইয়ে পাড়ি জমান। প্রবাসে যাওয়ার আগে পার্শ্ববর্তী জাফরাবাদ গ্রামের মো. মেরাজ আলী শাহ্-এর মেয়ে মোছা. তানজিনা আক্তারের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ২০১৩ সালের ৪ অক্টোবর দেশে এসে পারিবারিকভাবে রেজিস্ট্রি কাবিনের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়।

তার দাবি, বিয়ের পর প্রায় ১০ বছর তাদের দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিক ছিল। তবে দীর্ঘ সংসার জীবনে তাদের কোনো সন্তান হয়নি। তিনি বলেন, প্রবাসে উপার্জিত অর্থ বিশ্বাসের ভিত্তিতে স্ত্রীর কাছেই সংরক্ষণ করতেন।
আবু কালামের অভিযোগ, জাফরাবাদ মোড়ে একটি জায়গা কেনার জন্য তিনি প্রায় ২৬ লাখ টাকা এবং রেজিস্ট্রি ও অন্যান্য খরচের জন্য আরও ৪ লাখ টাকা পাঠান। জায়গাটি তার নামে রেজিস্ট্রি হওয়ার কথা থাকলেও স্ত্রী প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া ওই জায়গায় মাটি ভরাট ও দোকান নির্মাণের জন্য আরও প্রায় ৩০ লাখ টাকা বিভিন্ন সময়ে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি তার।তিনি আরও জানান, স্ত্রীর জন্য প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার কিনে দেন এবং পারিবারিক প্রয়োজনে স্ত্রী’র বাবা মো. মেরাজ আলী শাহ্ ও বড় ভাই সুজন তার কাছ থেকে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা নিয়েছেন।প্রবাসী আবু কালামের ভাষ্য, প্রায় এক বছর আগে স্ত্রী তার হোয়াটসঅ্যাপে এফিডেভিটের মাধ্যমে তালাকের কাগজ পাঠান। যদিও ওই এফিডেভিট এরও প্রায় এক বছর আগে করা হয়েছিল বলে তিনি জানতে পারেন। এ সময়ও সাংসারিক খরচের কথা বলে নিয়মিত তার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দেশে ফিরে তিনি জানতে পারেন, তার স্ত্রী তানজিনা আক্তার অন্যত্র বিয়ে করেছেন এবং বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ঠাকুরগাঁওয়ের শান্ত বণিকের লাশ উদ্ধার সিলেটের গোয়াইনঘাটে

সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন উল্লেখ করে আবু কালাম বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, স্থানীয় সংসদ সদস্য, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে সুষ্ঠু বিচার ও তার সম্পদ উদ্ধার করে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রবাসী ভাইদের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
অন্যদিকে, গত ১৩ মে বুধবার দুপুরে মোছা. তানজিনা আক্তার (৩৩) এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। তার সঙ্গে আমার কোনো মনোমালিন্য ছিল না। ওর শারীরিক সমস্যার কারণে ১৪ বছরের সংসার জীবনে আমাদের সন্তান হয়নি। ডাক্তারি কাগজপত্রও আছে। বারবার বলার পরও সে বিদেশ থেকে দেশে আসেনি। আমি সারাবছর বাবার বাড়িতে পড়ে থাকবো কেন?”
তিনি আরও বলেন, “আমার বড় বড় রোগ আছে। লিভারে সমস্যা, চর্বি ও পানি জমেছে। আমার বাবা চিকিৎসা করান। এছাড়া সে আমার খোঁজখবরও নিত না। এসব কারণেই আমি তাকে ডিভোর্স দিয়েছি।”
তানজিনা আক্তারের দাবি, আবু কালামের টাকা দিয়ে তিনটি দলিলের মাধ্যমে তার নামে জায়গা কেনা হয়েছে। তবে জাফরাবাদ মোড়ের জায়গাটি তিনি নিজের জমানো টাকা, স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি এবং বাবার দেওয়া অর্থ দিয়ে কিনেছেন বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, “তাকে তালাক দিয়ে প্রায় এক বছর আগে ঢাকার গোলাপবাগ এলাকার সুব্রত’র ছেলে সুমন (৩৫)-কে বিয়ে করেছি। বর্তমানে আমি ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সে যদি বেশি বাড়াবাড়ি করে তাহলে আমি তার বিরুদ্ধে মামলা করতে বাধ্য হবো।”
এদিকে, ২০২৪ সালের ২৭ জুন তারিখে নোটারি পাবলিক অব বাংলাদেশ, কিশোরগঞ্জের মাধ্যমে সম্পাদিত একটি এফিডেভিটে তানজিনা আক্তার উল্লেখ করেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বনিবনা না হওয়া এবং নিয়মিত ঝগড়া-বিবাদের কারণে তিনি আবু কালামের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেন।
তবে একই বিষয়ে তানজিনা আক্তারের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য নিয়ে এলাকায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের পারিবারিক আইন অনুযায়ী স্ত্রী তখনই স্বামীকে তালাক দিতে পারেন, যখন কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামে তাকে সেই ক্ষমতা অর্পণ করা থাকে। কেবল এফিডেভিটের মাধ্যমে তালাক কার্যকর হয় না। তালাকের নোটিশ স্বামী ও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠানো এবং পরবর্তীতে নিকাহ রেজিস্ট্রি অফিসে তা নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক।

আরও পড়ুনঃ  সড়ক নয় যেন সরু খাল, ভোগান্তিতে নাগরপুর চৌহালীবাসী

এ অবস্থায়, কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামে স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল কিনা, তালাকের নোটিশ আইনানুগভাবে পাঠানো হয়েছিল কিনা এবং পরবর্তী দ্বিতীয় বিয়ে বৈধ হয়েছে কিনা— তা নিয়েও এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  উত্তরের কৃষকের ঘাম ঝরা উৎপাদন: অর্থনৈতিক বৈষম্যের বেড়াজালে থমকে জীবন