
মাসুদ রানা মাসুম পার্বত্য ব্যুরো : প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা পাহাড় ও টিলা অধ্যুষিত সীমান্তবর্তী জেলা নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলা। এই এলাকায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও বাঙালি মিলিয়ে কয়েক লাখ মানুষের বসবাস। বিশেষ করে কুল্লাগড়া ও সদর ইউনিয়নের পাহাড়ি অঞ্চলের হাজারো মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির সংকটে ভুগছেন। বিশেষ করে গোপালপুর, ভবানীপুর, ফান্দা, বারোমারী, ভরতপুর, গাজিকোনাসহ একাধিক পাহাড়ি গ্রামের মানুষ বাধ্য হয়ে পাহাড়ি ছড়ার ময়লাযুক্ত পানি পান করছেন। সদর ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এক নারী বলেন, ছোটবেলা থেকে এই পানি খেয়ে বড় হয়েছি। গোসল, খাবার সবই এই পানির মাধ্যমে হয়। পানির কষ্ট কোনোদিন কমে না। প্রতিদিন পাহাড় থেকে নেমে ছড়ায় পানি নিতে হয়। সীমান্ত এলাকার অধিকাংশ গ্রামের মানুষের চিত্র একই। ছড়ার ময়লাযুক্ত পানি পান করে নানা রোগে আক্রান্ত হলেও জীবন বাঁচাতে এ পানিই তাদের একমাত্র ভরসা। দীর্ঘদিন সমস্যার সমাধান না হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
বারোমারী গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, বাপ-দাদা চৌদ্দ পুরুষ ধরে আমরা এই ছড়ার পানি খাই। বালুর মধ্যে ছোট ছোট গর্ত করে যে পরিষ্কার পানি উঠে, সেটাই পান করি। এতে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ি, তবুও বাঁচার জন্য খেতে হয়। বর্তমান সরকারের কাছে অনুরোধ, আমাদের জন্য পানি সরবরাহ করা হোক। রাজিব হাজং জানান, শুকনা মৌসুমে গর্ত করে পানি নেয়া যায়, কিন্তু বর্ষায় পানি ঘোলা হয়ে যায়। তখন পানির সংকট আরো তীব্র হয়। আমরা চাই সরকার দ্রুত পানি সরবরাহ করুক। বাংলাদেশ জাতীয় হাজং সংগঠনের সভাপতি পল্টন হাজং বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট দীর্ঘদিনের। বিশুদ্ধ পানির অভাবে নানা রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বাসিন্দারা। আমরা চাই, একটি বড় প্রকল্পের মাধ্যমে পাইপলাইনে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হোক। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের দুর্গাপুর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আলী আজগর জানান, পাহাড়ের কুল ঘেঁষে ৮ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের বসবাস রয়েছে। মাটির গভীরে পাথর থাকায় ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করা কঠিন।
তবে এই সমস্যা সমাধানে একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে; অনুমোদন পেলে কাজ শুরু হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা বলেন, সীমান্ত এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন করা হবে। আশা করি মানুষের দীর্ঘদিনের পানির কষ্ট লাঘব হবে। স্থানীয় এমপি ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, পাহাড়ের নিচে যারা থাকেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অর্থাৎ গারো-হাজং, তাদের পানির সমস্যা সবচেয়ে বেশি। এরইমধ্যে জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কথা বলে ৫২০ ফুট গভীর ৪০টি নলকূপ বরাদ্দ পেয়েছি। শুধু দুর্গাপুর-কলমাকান্দার পাঁচটি ইউনিয়নের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য। যদিও সংখ্যা অপ্রতুল, আমরা শুরু করেছি। পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক এলাকায় সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
প্রতিবেদকের নাম 























