Dhaka ০১:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দাম বেড়ে অকটেন ১৪০, পেট্রোল ১৩৫, ডিজেল ১১৫ টাকা ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলাকালীন যানচলাচল সম্পর্কিত ডিএমপির নির্দেশনাবলী প্রকাশ চিলমারীতে বাড়ির পাশেই মিলল শিশু আয়শার ক্ষতবিক্ষত নিথর মৃত দেহ যোগ্যদের স্বীকৃতি দিতে পেরে গর্বিত” চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন লক্ষ্মীপুরে ফোর লেন সড়ক প্রকল্পের কাজ ২০২৯ সালে শেষ হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী আফমি প্লাজা ঈদ বিক্রয় উৎসব, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা সম্পন্ন বায়েজিদে প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে চেক ছিনতাই, উল্টো মামলা ও হয়রানির শিকার রেমিটেন্স যোদ্ধা নাগরপুরে তিন দিনব্যাপী বর্ণিল আয়োজনে বর্ষবরণ উৎসব ৮ দলীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন জয়মনি উইনার্স ক্লাব থানারহাট মডেল মাদরাসার দোয়া ও বিদায় অনুষ্ঠান

দুই মাস ব্ন্ধ থাকার পর সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ শুরু

বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ সুন্দরবনে প্রজনন মৌসুমে টানা দুই মাস বন্ধ থাকার পর  আবারও কাঁকড়া আহরণ শুরু হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর উপকূলজুড়ে জেলে পরিবারগুলোতে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য।তারা যেন কর্মব্যস্ততা মুখর। বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে রোববার (১ মার্চ) সকাল থেকেই জেলেরা সুন্দরবনের উদ্দেশে রওনা দেন কাঁকড়া আহরণকারীরা। প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময় কাঁকড়া আহরণ বন্ধ রাখা হয়। এ সময় অনেক জেলে পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। কেউ বিকল্প পেশায় যুক্ত হন, আবার কেউ ধারদেনা করে সংসার চালান। নতুন মৌসুম শুরু হওয়ায় তাঁদের চোখে-মুখে এখন স্বস্তির ছাপ। সুন্দরবনসংলগ্ন বাগেরহাটের রামপাল ও মোংলার জেলেপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, পাশের নদীর তীর থেকে জেলেরা কাঁকড়া ধরার সরঞ্জাম ও চারো  নৌকায় তুলছেন। নৌকার সামনের অংশে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গোছানো হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার স্মরণে বিএনপির উদ্যোগে ম্রো কমপ্লেক্সে ক্রীড়া সামগ্রী ও খাবার বিতরণ

 

কেউ নৌকার ছোটোখাটো সানাই কাজ করছেন, কেউ আবার কাঁকড়া ধরার দোন-দড়ি ঠিকঠাক করছেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বনে ফেরার প্রস্তুতির রণে ব্যস্ত যেন সবাই। জেলেরা জানায়, সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরেই তাদের সংসার চলে। অন্য কোনো পেশায় তারা অভ্যস্ত নন, এলাকাতেও বিকল্প কাজের সুযোগ সীমিত। গত দুই মাস নিষেধাজ্ঞার কারণে আয় বন্ধ থাকায় মহাজনের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা ঋণ নিতে হয়েছে। এখন কাঁকড়া আহরণ শুরু হওয়ায় সেই ঋণ শোধের আশা করছেন তারা। বিভিন্ন এলাকার জেলেরা বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে তাদের মতো দরিদ্র জেলেদের দিন কেটেছে চরম কষ্টে। সরকারি ভাতার ব্যবস্থা না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে। তাদের ভাষ্য, আর্থিকভাবে সচ্ছল কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে যান না, অধিকাংশই দরিদ্র পরিবার থেকে আসা।

আরও পড়ুনঃ  শতবর্ষের ঐতিহ্য ধুঁকছে অব্যবস্থাপনায়: হোসেনপুর সরকারি পাইল্ট স্কুলের সোনালি দিন কি অতীত?

 

‎বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কাঁকড়ার প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রতি বছর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এ বছরও ৫৯ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ মার্চ থেকে বনবিভাগের অনুমতিপত্র (পাস) নিয়ে জেলেরা আবারও সুন্দরবনে প্রবেশ শুরু করেছেন। ‎উপকূলবর্তী জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞার দুই মাস তারা জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন এলাকায় বিকল্প কাজের সন্ধানে যেতে বাধ্য হন। অনেকেই সংসার চালাতে স্থানীয় মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়েছেন। এখন মৌসুম শুরু হওয়ায় তারা নৌকা ও জাল মেরামত করে নতুন উদ্যমে কাঁকড়া আহরণে নেমেছেন।

আরও পড়ুনঃ  বান্দরবানে প্রতিমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা: বিএনপির নেতৃবৃন্দের বরণ

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

দাম বেড়ে অকটেন ১৪০, পেট্রোল ১৩৫, ডিজেল ১১৫ টাকা

দুই মাস ব্ন্ধ থাকার পর সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ শুরু

আপডেটের সময়: ০৬:১১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ সুন্দরবনে প্রজনন মৌসুমে টানা দুই মাস বন্ধ থাকার পর  আবারও কাঁকড়া আহরণ শুরু হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর উপকূলজুড়ে জেলে পরিবারগুলোতে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য।তারা যেন কর্মব্যস্ততা মুখর। বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে রোববার (১ মার্চ) সকাল থেকেই জেলেরা সুন্দরবনের উদ্দেশে রওনা দেন কাঁকড়া আহরণকারীরা। প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময় কাঁকড়া আহরণ বন্ধ রাখা হয়। এ সময় অনেক জেলে পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। কেউ বিকল্প পেশায় যুক্ত হন, আবার কেউ ধারদেনা করে সংসার চালান। নতুন মৌসুম শুরু হওয়ায় তাঁদের চোখে-মুখে এখন স্বস্তির ছাপ। সুন্দরবনসংলগ্ন বাগেরহাটের রামপাল ও মোংলার জেলেপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, পাশের নদীর তীর থেকে জেলেরা কাঁকড়া ধরার সরঞ্জাম ও চারো  নৌকায় তুলছেন। নৌকার সামনের অংশে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গোছানো হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  মুছাপুরে ছাত্রদলের শিক্ষা উপকরণ বিতরন

 

কেউ নৌকার ছোটোখাটো সানাই কাজ করছেন, কেউ আবার কাঁকড়া ধরার দোন-দড়ি ঠিকঠাক করছেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বনে ফেরার প্রস্তুতির রণে ব্যস্ত যেন সবাই। জেলেরা জানায়, সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরেই তাদের সংসার চলে। অন্য কোনো পেশায় তারা অভ্যস্ত নন, এলাকাতেও বিকল্প কাজের সুযোগ সীমিত। গত দুই মাস নিষেধাজ্ঞার কারণে আয় বন্ধ থাকায় মহাজনের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা ঋণ নিতে হয়েছে। এখন কাঁকড়া আহরণ শুরু হওয়ায় সেই ঋণ শোধের আশা করছেন তারা। বিভিন্ন এলাকার জেলেরা বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে তাদের মতো দরিদ্র জেলেদের দিন কেটেছে চরম কষ্টে। সরকারি ভাতার ব্যবস্থা না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে। তাদের ভাষ্য, আর্থিকভাবে সচ্ছল কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে যান না, অধিকাংশই দরিদ্র পরিবার থেকে আসা।

আরও পড়ুনঃ  শতবর্ষের ঐতিহ্য ধুঁকছে অব্যবস্থাপনায়: হোসেনপুর সরকারি পাইল্ট স্কুলের সোনালি দিন কি অতীত?

 

‎বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কাঁকড়ার প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রতি বছর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এ বছরও ৫৯ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ মার্চ থেকে বনবিভাগের অনুমতিপত্র (পাস) নিয়ে জেলেরা আবারও সুন্দরবনে প্রবেশ শুরু করেছেন। ‎উপকূলবর্তী জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞার দুই মাস তারা জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন এলাকায় বিকল্প কাজের সন্ধানে যেতে বাধ্য হন। অনেকেই সংসার চালাতে স্থানীয় মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়েছেন। এখন মৌসুম শুরু হওয়ায় তারা নৌকা ও জাল মেরামত করে নতুন উদ্যমে কাঁকড়া আহরণে নেমেছেন।

আরও পড়ুনঃ  পায়ের খন্ডিত অংশ উদ্ধার