
সেলিম হোসেন রুবেল,জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের শেখপুর গ্রামের প্রায় ২০ বছরের পুরোনো একটি কাঁচা রাস্তা ইটের সলিংয়ের মাধ্যমে উন্নয়নের উদ্যোগে এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সেই আনন্দের মধ্যেই রাস্তার কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ,নাম মাত্র কাজ আর নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তা তৈরির।ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের তত্ত্বাবধানে ২২০ ফুট রাস্তার কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের দাবি, ব্যবহৃত কিছু ইট এতটাই দুর্বল যে হাতে চাপ দিলেই ভেঙে যাচ্ছে।
এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা ডলি আক্তার, ছামছুল ও হেলাল উদ্দিনসহ কয়েকজনের অভিযোগ, রাস্তার মাটি যথাযথভাবে সমান না করেই অল্প পরিমাণ বালির ওপর ইট বসানো হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে রাস্তার স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।
অনিয়মের অভিযোগ সাংবাদিকদের কাছে পৌঁছেনোর পর এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম মুঠোফোনে বলেন, বর্তমানে ভালো মানের ইট পাওয়া কঠিন। আমার এলাকায় এর চেয়ে ভালো মানের ইট দিয়ে কোনো কাজ হয়নি। ইটের দামও অনেক বেশি, ফলে কাজ করতে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। অন্য একটি কাজের ঝামেলার প্রভাবও এখানে পড়েছে।
এর পর একাধিকবার তার সাক্ষাৎকার ও অনিয়মের কারণ জানতে চাইলে তিনি আর ফোন রিসিভ করেনি।এমন কি পরিষদে নিজের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল রেখে তিনি সরে যান। বার বার ফোন করে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর ইউনিয়ন পরিষদের ব্যতিক্রমী সচিবকে মৃল্যায়ন করে না।
এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পেও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
কাজের বাজেট ও তদারকি বিষয়ে বক্তব্য নিতে কালাই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাসিবুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি অফিসে না থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে উদয়পুর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন,কাজে কোনো অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। আমি জেনেছি, প্রয়োজন হলে নিম্নমানের ইট সরিয়ে ভালো মানের ইট দিয়ে পুনরায় কাজ করা হবে। আমার ইউনিয়নের কোনো উন্নয়নকাজ নিম্নমানের হবে, তা হতে দেওয়া হবে না।
বাজেট সম্পর্কে তিনি বলেন, এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সঠিক তথ্য দিতে পারবেন।
এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ২০ বছরের অপেক্ষার পর শেখপুরের এই রাস্তার কাজ যেন নির্ধারিত মান বজায় রেখে সম্পন্ন হয় এবং অভিযোগের বিষয়গুলো যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
প্রতিবেদকের নাম 



















