
টেকনাফ (প্রতিনিধি কক্সবাজার: রাত হলেই আতঙ্ক বেড়ে যায়। শিশুদের বাইরে বের হতে দিতেও ভয় লাগে। সীমান্তে স্থায়ী শান্তি না এলে আমাদের এই ভয়ের জীবন শেষ হবে না। এভাবেই আতঙ্কের কথা জানাচ্ছিলেন মিয়ানমারের সীমান্তঘেঁষা কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম। শুধু তিনি নয় তার মতো অনেকেই চরম আতঙ্কে রয়েছেন। রাত হলে স্থানীয়দের মধ্যে উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে যায়। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ না শোনা গেলেও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় গত রোববার মিয়ানমারের রাখাইন থেকে ছোড়া গুলিতে শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনানের মাথায় গুলি লাগে। তাকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার (১২ জানুয়ারি) হোয়াইক্যং লম্বাবিল সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে এক যুবকের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এসব ঘটনার প্রতিবাদে গত দুদিন ধরে টেকনাফের হোয়াইক্যংসহ আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করছেন স্থানীয়রা।
গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফা সুলতানার চাচা আলী আকবর বলেন, ‘আমার ভাতিজির কোনো অপরাধ ছিল না। সীমান্তের সংঘাতের শিকার হয়ে সে আজ জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। আমরা চাই, সীমান্ত এলাকায় যেন আর কোনো নিরীহ শিশু এভাবে গুলিবিদ্ধ না হয়। গত রোববার সকালের দিকে মিয়ানমার দিক থেকে ছোড়া গুলি এসে লাগে শিশু হুজাইফা সুলতানা মাথায়। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলছে।
মাইন বিস্ফোরণে পা বিচ্ছিন্ন যুবক মোহাম্মদ হানিফের বাবা ফজলুল হক বলেন, গতকাল সকালে মিয়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি হোয়াইক্যং লম্বাবিল সীমান্তে এলাকায় মাটির নিচে পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে আমার ছেলে গুরুতর আহত হয়। বিস্ফোরণে তার ডান পায়ের গোড়ালি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বাম পায়েও সে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। বর্তমানে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেদকের নাম 

















