
শেখ রাফসান মোংলা প্রতিনিধিঃ পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সুন্দরবনে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে বন বিভাগ। বন্যপ্রাণী ও বনজ সম্পদ রক্ষায় এবার ঈদের ছুটিতেও দায়িত্ব পালন করবেন বনরক্ষীরা। এজন্য সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঈদের সময়কে কেন্দ্র করে প্রায় প্রতি বছরই চোরাশিকারি চক্র হরিণসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী শিকারের চেষ্টা করে। একই সঙ্গে এক শ্রেণির অসাধু জেলে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার অপচেষ্টাও চালায়। এসব অপরাধ ঠেকাতে এবার আগেভাগেই কঠোর নজরদারি শুরু করেছে বন বিভাগ। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত সময়টিতে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও বেশি থাকে। গত বছরের ২২ মার্চ চাঁদপাই রেঞ্জের তেইশেরছিলা ও কলমতেজী এলাকায় দস্যুদের দেওয়া আগুনে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকার গাছপালা পুড়ে যায়। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবার ঈদের ছুটিতেও বনরক্ষীরা কর্মস্থলে অবস্থান করবেন।
বন বিভাগের বনরক্ষী মোঃ ওহিবুল ইসলাম বলেন বছরে দুইটা ঈদ এই ঈদে প্রতিবছরের মতো আমাদের বনরক্ষীদের ছুটি এবছর ও বাতিল করা হয়েছে যাতে সুন্দরবনে কোন আপত্তিকর ঘটনা না ঘটে। তবে বন বিভাগ জানিয়েছে, সুন্দরবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বনের ভেতরে নিয়মিত ও বিশেষ টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। হরিণ শিকারি চক্র ও বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শুকনো মৌসুমে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে বনরক্ষীরা সব সময় সতর্ক অবস্থায় থাকবেন। বনের আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী মানুষদেরও সচেতন করতে প্রচার–প্রচারণা চালানো হচ্ছে। নামাজের সময় মসজিদেও অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধ ও বন রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বন্যপ্রাণী শিকার রোধ, বিষ প্রয়োগে মাছ ধরা বন্ধ এবং অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে বনরক্ষীরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। এজন্য ঈদের দীর্ঘ ছুটিতেও তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। বন বিভাগের মতে, ঈদের ছুটির সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র যাতে সুন্দরবনের ক্ষতি করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 



















