
কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ইসলাম ও আলেম-ওলামাদের নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ তুলে ‘নারীর শিকল’ বইকে কেন্দ্র করে আন্দোলন, বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও লেখিকার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাতে উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কামাল সদ্দার বাড়ির বাসিন্দা লেখিকা হাফিজা উম্মে বিবি হাবিবার লেখা ‘নারীর শিকল’ বইকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে এলাকাবাসী বইটিতে ইসলাম,ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং আলেম-ওলামাদের সম্পর্কে আপত্তিকর ও ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যের অভিযোগ এনে ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে দাবি করে তারা বইটির প্রচার বন্ধ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই এলাকার কিছু লোকজন ও আলেম-ওলামা বিভিন্নভাবে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৪ আগস্ট লিখিকার বাড়ির দরজায় মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা। আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রায় দুই বছর আগেও লেখিকার বিরুদ্ধে ইসলাম ও ধর্মীয় ব্যক্তিদের নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য ও প্রচারণার অভিযোগ উঠেছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সে সময়ও স্থানীয়ভাবে তাঁর কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তারা।
সম্প্রতি লেখিকা দীর্ঘদিন পর আবার এলাকায় ফিরে এসে তাঁর লেখা বইকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আলোচনা ও নারীদের সভার আয়োজন করেন। এসব কার্যক্রমকে ঘিরে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানাযায়, ১৪ আগস্টের কর্মসূচির পরও বইটি নিয়ে কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২০ আগস্ট লেখিকার বাড়িতে বৈঠকের আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় লোকজন সেখানে গিয়ে আপত্তি জানিয়ে কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিলে লেখিকাসহ তার পরিবারের সকল সদস্য এলাকা ছেড়ে চলে যান। এবিষয়ে জানতে চাইলে লেখিকার দেবর সিমাত মাহমুদ জানান,আমার ভাবি এলাকার নারীদের নিয়ে ধর্মীয় প্রোগ্রাম করতেন,তার কিছু আলোচনায় অনেকের বিতর্ক তৈরি হয়। এটি নিয়ে গত ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রোগ্রাম চলাকালীন অপরিচিত কিছু ব্যক্তি এসে বাঁধা তৈরি করেন এবং ভাঙচুর করেন। এছাড়াও স্বামী সন্তানসহ সকলকে নিয়ে দুই দিনের মধ্যে এলাকা ছাড়ার আল্টিমেটামও দেন তারা। অবশেষে
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে লেখিকার দাবি, তাঁর বইয়ে তিনি নারী অধিকার, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, ধর্মীয় ব্যাখ্যা এবং সমাজে নারীর অবস্থান নিয়ে নিজের মতামত ও প্রশ্ন তুলে ধরেছেন। তাঁর অভিযোগ, একটি সভা চলাকালে তাঁর ওপর, তাঁর শাশুড়ির ওপর এবং তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা তাঁর স্বামীর ওপর হামলা করা হয়। এছাড়াও স্বামী সন্তান কে হত্যার ঘোষণাও দেন হামলাকারীরা। নিরাপত্তার আশঙ্কায় ঐদিনই তিনি পরিবারসহ গ্রাম ছেড়ে চলে যান।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, অগ্নিকাণ্ডে বাড়িটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। লেখিকার লেখা বইসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র পুড়ে গেছে বলেও জানা গেছে। পরে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
এবিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নূরুল হাকিম জানান,ঘটনার বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে শুনেছি তবে এখন পর্যন্ত কেউ কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ নিয়ে আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রতিবেদকের নাম 


















