
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ের ১-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছে স্পেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে ট্রফি গ্রহণ করেন স্প্যানিশ দলের খেলোয়াড়েরা। স্পেনের এই বিশ্বজয়ে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ও ঘরবাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ায় যৌথভাবে খেলা দেখতে গাজার বিভিন্ন ক্যাফেতে বড় পর্দা টানানো হয়েছিল। খেলার শেষ বাঁশি বাজতেই সেই জমায়েতগুলো রূপ নেয় উৎসবের নগরীতে। গাজার ধ্বংসস্তূপের মাঝেই স্প্যানিশ ও ফিলিস্তিনি পতাকা নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে শিশু ও তরুণরা। স্পেনের এই বিশ্বজয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ ও প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজকে পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় তিনি একে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।একই সঙ্গে স্পেনের এই জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছে ফিলিস্তিন স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাসেম নাঈম জানান, যোগ্য দল হিসেবে স্পেনের এই জয়ে তারা আনন্দিত এবং এই উৎসবে গাজাবাসীও শামিল হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, আনন্দমিছিলে মুখরিত গাজার সাধারণ মানুষ। অনেকে বলছেন, এ আনন্দ শুধু ফুটবল জেতার নয়, ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে শুরু থেকেই পাশে থাকার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। গাজার এক নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘যারা গাজার কষ্টে পাশে ছিল, মন তো তাদের পক্ষেই সায় দেবে।’
পশ্চিম তীরের বেথলেহেম, হেব্রন ও নাবলুসেও নেমেছিল উৎসবের জোয়ার। ফিলিস্তিনের বিখ্যাত কার্টুনিস্ট আলা আল-লাকতা স্প্যানিশ তারকা লামিনে ইয়ামালের একটি কার্টুন তুলে ধরেন, যেখানে তাকে ফিলিস্তিনের পতাকা তুলে ধরতে দেখা যায়। গত মে মাসেও বার্সেলোনার হয়ে ট্রফি উদযাপনের সময় ইয়ামাল ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ান। স্পেন বনাম ইসরায়েল রাজনৈতিক যুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলের চালানো গণহত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে স্পেনের পেদ্রো সানচেজ সরকার। ২০২৪ সালে স্পেন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এ ছাড়া ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ ও কূটনৈতিক সম্পর্ক সীমিত করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে তেল আবিব। ফিলিস্তিনি সাংবাদিক আলা রিমাভি জানান, এই বিশ্বকাপ ফাইনাল ইসরায়েলিদের জন্য কেবল কোনো খেলা ছিল না, ছিল একটি রাজনৈতিক সংঘাত। কারণ, ইসরায়েলি গণমাধ্যম খোলাখুলিভাবে স্পেনের হার কামনা করেছিল। তবে মাঠের খেলায় শেষ হাসি হেসেছে ফিলিস্তিনিদের প্রিয় দল স্পেন।
প্রতিবেদকের নাম 























