Dhaka ০২:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দাম বেড়ে অকটেন ১৪০, পেট্রোল ১৩৫, ডিজেল ১১৫ টাকা ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলাকালীন যানচলাচল সম্পর্কিত ডিএমপির নির্দেশনাবলী প্রকাশ চিলমারীতে বাড়ির পাশেই মিলল শিশু আয়শার ক্ষতবিক্ষত নিথর মৃত দেহ যোগ্যদের স্বীকৃতি দিতে পেরে গর্বিত” চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন লক্ষ্মীপুরে ফোর লেন সড়ক প্রকল্পের কাজ ২০২৯ সালে শেষ হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী আফমি প্লাজা ঈদ বিক্রয় উৎসব, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা সম্পন্ন বায়েজিদে প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে চেক ছিনতাই, উল্টো মামলা ও হয়রানির শিকার রেমিটেন্স যোদ্ধা নাগরপুরে তিন দিনব্যাপী বর্ণিল আয়োজনে বর্ষবরণ উৎসব ৮ দলীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন জয়মনি উইনার্স ক্লাব থানারহাট মডেল মাদরাসার দোয়া ও বিদায় অনুষ্ঠান

সুন্দরবনে গোলপাতা আহরণ শুরু

বাগেরহাট প্রতিনিধি: পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন-এ শুরু হয়েছে চলতি বছরের গোলপাতা আহরণ মৌসুম। বন বিভাগের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) সকাল থেকে গোলপাতা কাটা শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত।তবে নৌকার মাপ নিয়ে বনবিভাগ ও বাওয়ালীদের দ্বন্দ্ব চলছে। সুন্দরবনে গোলপাতা আহরণের মৌসুম ঘিরে উপকূলের নদীতীরের জনপদগুলোয় কয়েক সপ্তাহ ধরেই ছিল ব্যস্ততা। কোথাও পুরোনো নৌকা মেরামত, কোথাও নতুন পাটাতন বসানো, আবার কোথাও শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ৩ মার্চ থেকে বাওয়ালিদের সুন্দরবনে ঢুকে গোলপাতা কাটার কথা ছিল। সেই আশায় প্রস্তুতিও শেষ করেছিলেন তাঁরা। তবে নৌকার মাপ নিয়ে বন বিভাগের আপত্তি ওঠায় শেষ মুহূর্তে অনিশ্চয়তায় পড়েছে গোলপাতা আহরণ।

‎সুন্দরবনে বছরজুড়ে বিভিন্ন বনজ সম্পদ আহরণের মৌসুম থাকলেও গোলপাতা উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের কাছে অন্যতম অর্থকরী সম্পদ। স্থানীয়ভাবে ঘরের ছাউনি, বেড়া নির্মাণ এবং বিভিন্ন গ্রামীণ কাজে গোলপাতার ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করেও আয় করেন বাওয়ালীরা। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর প্রায় সাড়ে চারশ’ বাওয়ালী বৈধ পাস-পারমিট নিয়ে গোলপাতা আহরণে অংশ নিচ্ছেন। নির্ধারিত রাজস্ব পরিশোধ ও অনুমতি সাপেক্ষে তারা নির্দিষ্ট ব্লকে প্রবেশ করে পাতা সংগ্রহ করছেন। বনজ সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রতিদিনের আহরণ, প্রবেশ ও বহির্গমনের ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলন: রাস্তাঘাট ধ্বংস ও পরিবেশ বিপর্যয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত 


‎বন বিভাগ জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি নৌকা সর্বোচ্চ ১৮৬ কুইন্টাল বা প্রায় ৫০০ মণ গোলপাতা বহন করতে পারবে। সে হিসাবে সর্বোচ্চ এক হাজার মণ ধারণক্ষমতার নৌকা পর্যন্ত অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু পরিমাপ করে দেখা গেছে, গোলপাতা আহরণের প্রস্তুতি নেওয়া অধিকাংশ নৌকাই নির্ধারিত মাপের চেয়ে বড়। এ কারণে সেসব নৌকাকে আপাতত সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। বন কর্মকর্তারা বলছেন, অতীতে অনেক বাওয়ালি ৫০০ মণ গোলপাতার রাজস্ব দিলেও বড় নৌকায় দেড় থেকে দুই হাজার মণ পর্যন্ত পাতা বোঝাই করে এনেছেন। এমনকি গোলপাতার নিচে লুকিয়ে সুন্দরবনের মূল্যবান গাছের গুঁড়ি কেটে আনার প্রমাণও পাওয়া গেছে। এসব অনিয়ম ঠেকাতেই এবার নৌকার ধারণক্ষমতার সীমা কঠোরভাবে প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ফেনীতে হজ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত


‎তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর আহরণের সময়সীমা কিছুটা কম হওয়ায় বাওয়ালীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, সময় কম থাকায় কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ পাতা সংগ্রহ করা কঠিন হতে পারে। আবার কেউ কেউ বলছেন, বন সংরক্ষণের স্বার্থে সময়সীমা নির্ধারণ প্রয়োজনীয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, অনিয়ন্ত্রিত আহরণে বনজ সম্পদের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিয়ম মেনে গোলপাতা কাটার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের বাইরে গোলপাতা কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং আইন ভঙ্গ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বন বিভাগ সতর্ক করেছে।

আরও পড়ুনঃ  মৌলভীবাজারে আগাম বন্যা ও বৃষ্টির কারণে ধান কাটা নিয়ে কৃষকরা কিছুটা দুশ্চিন্তায়


‎প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং বননির্ভর মানুষের জীবিকা সুরক্ষার লক্ষ্যে চলতি মৌসুমের গোলপাতা আহরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ উদ্যোগকে বনপ্রেমি ও পরিবেশবিদরা স্বাগত জানালেও নাখোশ আহরণকারী বাওয়ালীরা।অনেকে গোলপাতা আহরণে বনে ঢুকতে অনিহা প্রকাশ করছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

দাম বেড়ে অকটেন ১৪০, পেট্রোল ১৩৫, ডিজেল ১১৫ টাকা

সুন্দরবনে গোলপাতা আহরণ শুরু

আপডেটের সময়: ০৭:০৯:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

বাগেরহাট প্রতিনিধি: পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন-এ শুরু হয়েছে চলতি বছরের গোলপাতা আহরণ মৌসুম। বন বিভাগের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) সকাল থেকে গোলপাতা কাটা শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত।তবে নৌকার মাপ নিয়ে বনবিভাগ ও বাওয়ালীদের দ্বন্দ্ব চলছে। সুন্দরবনে গোলপাতা আহরণের মৌসুম ঘিরে উপকূলের নদীতীরের জনপদগুলোয় কয়েক সপ্তাহ ধরেই ছিল ব্যস্ততা। কোথাও পুরোনো নৌকা মেরামত, কোথাও নতুন পাটাতন বসানো, আবার কোথাও শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ৩ মার্চ থেকে বাওয়ালিদের সুন্দরবনে ঢুকে গোলপাতা কাটার কথা ছিল। সেই আশায় প্রস্তুতিও শেষ করেছিলেন তাঁরা। তবে নৌকার মাপ নিয়ে বন বিভাগের আপত্তি ওঠায় শেষ মুহূর্তে অনিশ্চয়তায় পড়েছে গোলপাতা আহরণ।

‎সুন্দরবনে বছরজুড়ে বিভিন্ন বনজ সম্পদ আহরণের মৌসুম থাকলেও গোলপাতা উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের কাছে অন্যতম অর্থকরী সম্পদ। স্থানীয়ভাবে ঘরের ছাউনি, বেড়া নির্মাণ এবং বিভিন্ন গ্রামীণ কাজে গোলপাতার ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করেও আয় করেন বাওয়ালীরা। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর প্রায় সাড়ে চারশ’ বাওয়ালী বৈধ পাস-পারমিট নিয়ে গোলপাতা আহরণে অংশ নিচ্ছেন। নির্ধারিত রাজস্ব পরিশোধ ও অনুমতি সাপেক্ষে তারা নির্দিষ্ট ব্লকে প্রবেশ করে পাতা সংগ্রহ করছেন। বনজ সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রতিদিনের আহরণ, প্রবেশ ও বহির্গমনের ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ফেনীতে হজ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত


‎বন বিভাগ জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি নৌকা সর্বোচ্চ ১৮৬ কুইন্টাল বা প্রায় ৫০০ মণ গোলপাতা বহন করতে পারবে। সে হিসাবে সর্বোচ্চ এক হাজার মণ ধারণক্ষমতার নৌকা পর্যন্ত অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু পরিমাপ করে দেখা গেছে, গোলপাতা আহরণের প্রস্তুতি নেওয়া অধিকাংশ নৌকাই নির্ধারিত মাপের চেয়ে বড়। এ কারণে সেসব নৌকাকে আপাতত সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। বন কর্মকর্তারা বলছেন, অতীতে অনেক বাওয়ালি ৫০০ মণ গোলপাতার রাজস্ব দিলেও বড় নৌকায় দেড় থেকে দুই হাজার মণ পর্যন্ত পাতা বোঝাই করে এনেছেন। এমনকি গোলপাতার নিচে লুকিয়ে সুন্দরবনের মূল্যবান গাছের গুঁড়ি কেটে আনার প্রমাণও পাওয়া গেছে। এসব অনিয়ম ঠেকাতেই এবার নৌকার ধারণক্ষমতার সীমা কঠোরভাবে প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলন: রাস্তাঘাট ধ্বংস ও পরিবেশ বিপর্যয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত 


‎তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর আহরণের সময়সীমা কিছুটা কম হওয়ায় বাওয়ালীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, সময় কম থাকায় কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ পাতা সংগ্রহ করা কঠিন হতে পারে। আবার কেউ কেউ বলছেন, বন সংরক্ষণের স্বার্থে সময়সীমা নির্ধারণ প্রয়োজনীয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, অনিয়ন্ত্রিত আহরণে বনজ সম্পদের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিয়ম মেনে গোলপাতা কাটার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের বাইরে গোলপাতা কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং আইন ভঙ্গ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বন বিভাগ সতর্ক করেছে।

আরও পড়ুনঃ  আফমি প্লাজা ঈদ বিক্রয় উৎসব, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা সম্পন্ন


‎প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং বননির্ভর মানুষের জীবিকা সুরক্ষার লক্ষ্যে চলতি মৌসুমের গোলপাতা আহরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ উদ্যোগকে বনপ্রেমি ও পরিবেশবিদরা স্বাগত জানালেও নাখোশ আহরণকারী বাওয়ালীরা।অনেকে গোলপাতা আহরণে বনে ঢুকতে অনিহা প্রকাশ করছে।