Dhaka ১০:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ

রাউজানে গোলাগুলিতে ১২ পুলিশ আহত, অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী গ্রেফতার

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৪:১৮:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪৬ সময় দেখুন

মোঃ সৈয়দ মিয়া চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের রাউজানে পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির ঘটনায় ১২ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দিলদার হোসেন (৩৭) নামে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার হেফাজত ও দেখানো মতে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয় জানান চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। এর আগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে উপজেলার ৮ নম্বর কদলপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়া পাড়ায় এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেফতার দিলদার হোসেন ওই এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ। মাসুদ আলম বলেন, মো. জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম ও মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বসের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি ও আদায় করে আসছিল। সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর তারা আবু বক্কর চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবি করে।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রাম নগরীর গোলপাহাড় মোড় থেকে জিইসি মোড় পর্যন্ত সড়কের ফুটপাত দখল মুক্ত চসিকের অভিযান

 

বিষয়টি যাচাই করে সত্যতা পাওয়ার পর চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশে অভিযান চালায় রাউজান থানা পুলিশ। পুলিশ আরও জানায়, বুধবার রাতে কদলপুরের দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়া পাড়ায় জানে আলম ওরফে ডাকাত আলমের বসতঘরের সামনে পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘরের ভেতরে থাকা জানে আলম, আজিজ বস, দিলদার হোসেন, রুবেল, মামুন-অর-রশিদ ওরফে মামুন ও বাঁচাসহ কয়েকজন পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। গোলাগুলিতে এসআই জান্নাতুন নাঈম রাজন, এসআই খোরশেদ আলম, এসআই বায়েজিদ মৃধা, এসআই জাহাঙ্গীর আলম, এএসআই জুয়েল চন্দ্র বিশ্বাস, এএসআই রবিউল হোসেনসহ মোট ১২ পুলিশ সদস্য আহত হন।

আরও পড়ুনঃ  ইলিশের দামে লাফ কেজিতে বেড়েছে ৩০০ টাকা

 

অভিযানের একপর্যায়ে দিলদার হোসেনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়। তবে অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দিলদারের হেফাজত ও তার দেখানো জায়গা থেকে একটি দোনলা বন্দুক, একটি একনলা কাটা বন্দুক, চায়না রাইফেলের ১১৯ রাউন্ড গুলি, ছয় রাউন্ড সীসা কার্তুজ, চারটি রামদা, দুটি কটি ও দুটি গুলি রাখার প্রসেস উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতার দিলদার ও পলাতক সহযোগীদের সংঘবদ্ধ ও অস্ত্রধারী অপরাধী হিসেবে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে কদলপুর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিনজনকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি এলজি, দুই রাউন্ড সীসা কার্তুজ, একটি রামদা ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  মনন সাহিত্য সংগঠনের ১২১তম পাক্ষিক অধিবেশন সম্পন্ন
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

তারাগঞ্জে সাড়ে ৩ কেজি গাঁজাসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

রাউজানে গোলাগুলিতে ১২ পুলিশ আহত, অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী গ্রেফতার

আপডেটের সময়: ০৪:১৮:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

মোঃ সৈয়দ মিয়া চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের রাউজানে পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির ঘটনায় ১২ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দিলদার হোসেন (৩৭) নামে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার হেফাজত ও দেখানো মতে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয় জানান চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। এর আগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে উপজেলার ৮ নম্বর কদলপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়া পাড়ায় এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেফতার দিলদার হোসেন ওই এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ। মাসুদ আলম বলেন, মো. জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম ও মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বসের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি ও আদায় করে আসছিল। সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর তারা আবু বক্কর চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবি করে।

আরও পড়ুনঃ  লালপুরে অবৈধ মাটি পরিবহনকালে ২ ড্রাম ট্রাকসহ ৪ জন আটক

 

বিষয়টি যাচাই করে সত্যতা পাওয়ার পর চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশে অভিযান চালায় রাউজান থানা পুলিশ। পুলিশ আরও জানায়, বুধবার রাতে কদলপুরের দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়া পাড়ায় জানে আলম ওরফে ডাকাত আলমের বসতঘরের সামনে পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘরের ভেতরে থাকা জানে আলম, আজিজ বস, দিলদার হোসেন, রুবেল, মামুন-অর-রশিদ ওরফে মামুন ও বাঁচাসহ কয়েকজন পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। গোলাগুলিতে এসআই জান্নাতুন নাঈম রাজন, এসআই খোরশেদ আলম, এসআই বায়েজিদ মৃধা, এসআই জাহাঙ্গীর আলম, এএসআই জুয়েল চন্দ্র বিশ্বাস, এএসআই রবিউল হোসেনসহ মোট ১২ পুলিশ সদস্য আহত হন।

আরও পড়ুনঃ  ইলিশের দামে লাফ কেজিতে বেড়েছে ৩০০ টাকা

 

অভিযানের একপর্যায়ে দিলদার হোসেনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়। তবে অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দিলদারের হেফাজত ও তার দেখানো জায়গা থেকে একটি দোনলা বন্দুক, একটি একনলা কাটা বন্দুক, চায়না রাইফেলের ১১৯ রাউন্ড গুলি, ছয় রাউন্ড সীসা কার্তুজ, চারটি রামদা, দুটি কটি ও দুটি গুলি রাখার প্রসেস উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতার দিলদার ও পলাতক সহযোগীদের সংঘবদ্ধ ও অস্ত্রধারী অপরাধী হিসেবে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে কদলপুর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিনজনকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি এলজি, দুই রাউন্ড সীসা কার্তুজ, একটি রামদা ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান