Dhaka ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নব‌নির্বা‌চিত রাষ্ট্রপ‌তি‌কে শু‌ভেচ্ছা জা‌নি‌য়ে ধুনট উপ‌জেলা ছাত্রদলের মিছিল শরণখোলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নাগরপুরে অনিয়মের অভিযোগে তিন ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা লক্ষ্মীপুর জেলা পরিদর্শনে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কেশবপুরের প্রশংসিত ইউএনও এবার হোসেনপুরে, দায়িত্ব নিলেন রেকসোনা খাতুন দেবিদ্বারে মাদকবিরোধী অভিযানে এক যুবকের কারাদণ্ড কাশিমপুরে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের দাবি রাঙ্গামাটি খায়রুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার আয়োজনে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান পিবিআই পরিদর্শক আশরাফুল আলমের দক্ষ তদন্তে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য বাঁশখালীতে বিষপ্রয়োগে মাছ নিধনের অভিযোগ, ৫ লাখ টাকা ক্ষতির আশঙ্কা

বান্দরবানে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে ইটভাটা মালিকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা

মোঃ রাসেল বিশেষ প্রতিনিধি: পার্বত্য জেলা বান্দরবানে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং ইটভাটাগুলোতে পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) পরিবেশ অধিদপ্তর, বান্দরবান পার্বত্য জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে স্থানীয় একটি মিলনায়তনে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়িসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার ইটভাটা মালিক ও উদ্যোক্তারা অংশ নেন।অনুষ্ঠিত সভায় ইটভাটা পরিচালনায় ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’ (এবং সংশোধিত ২০১৯)-এর প্রচলিত আইনি বিধিবিধানগুলো কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলের সংবেদনশীল পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বায়ুদূষণ কমানো এবং ফসলি জমির ‘টপসয়েল’ (উপরিভাগের উর্বর মাটি) কাটা বন্ধে আইনের সুনির্দিষ্ট ধারাগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।সভায় পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান পার্বত্য জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নুর হাসান সজীব এবং উপস্থিত অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ

আরও পড়ুনঃ  নাটোরের নতুন জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার

 

আইন অনুযায়ী নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বাস্তবায়নের কড়া তাগিদ দেন:লাইসেন্স ও ছাড়পত্র: পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং জেলা প্রশাসকের অনুকূল লাইসেন্স ব্যতীত কোনো ইটভাটা চালানো সম্পূর্ণ অবৈধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।মাটি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা: কৃষি জমি, পাহাড় বা টিলা কেটে মাটি সংগ্রহ করে ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়।জ্বালানি কাঠ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা: ইট পোড়ানোর কাজে বনের কোনো কাঠ বা জ্বালানি ব্যবহার করা যাবে না। আইন অমান্য করে কাঠ ব্যবহার করলে অনূর্ধ্ব ৩ বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ৩ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।নিষিদ্ধ এলাকায় ভাটা স্থাপন: আবাসিক এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বনাঞ্চল, উদ্যান ও পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ECA) কোনো নতুন ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না।কর্মকর্তারা ইটভাটা মালিকদের সনাতন পদ্ধতি পরিহার করে পরিবেশবান্ধব আধুনিক প্রযুক্তি (যেমন- জিগজ্যাগ বা টানেল কিলন) এবং পরিবেশবান্ধব উন্নত কনক্রিট ব্লক বা হলো ব্লকের কারখানা স্থাপনের ওপর জোর দেন।

আরও পড়ুনঃ  সলঙ্গায় ট্রাক-পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে ব্যবসায়ী নিহত, মহাসড়ক অবরোধ

 

এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের পরিদর্শকবৃন্দ উপস্থিত থেকে বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে চলমান মোবাইল কোর্ট ও আইনি মামলার কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। সভায় প্রশাসন ও ব্যবসায়ী মালিকদের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ কমিয়ে আনার ব্যাপারে একমত পোষণ করা হয়।সবশেষে কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে সতর্ক করে দেওয়া হয় যে, পাহাড় ও বনের ক্ষতি করে এমন যেকোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  বাঁশখালীতে বিষপ্রয়োগে মাছ নিধনের অভিযোগ, ৫ লাখ টাকা ক্ষতির আশঙ্কা
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

নব‌নির্বা‌চিত রাষ্ট্রপ‌তি‌কে শু‌ভেচ্ছা জা‌নি‌য়ে ধুনট উপ‌জেলা ছাত্রদলের মিছিল

বান্দরবানে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে ইটভাটা মালিকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা

আপডেটের সময়: ০৯:১১:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

মোঃ রাসেল বিশেষ প্রতিনিধি: পার্বত্য জেলা বান্দরবানে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং ইটভাটাগুলোতে পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) পরিবেশ অধিদপ্তর, বান্দরবান পার্বত্য জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে স্থানীয় একটি মিলনায়তনে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়িসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার ইটভাটা মালিক ও উদ্যোক্তারা অংশ নেন।অনুষ্ঠিত সভায় ইটভাটা পরিচালনায় ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’ (এবং সংশোধিত ২০১৯)-এর প্রচলিত আইনি বিধিবিধানগুলো কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলের সংবেদনশীল পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বায়ুদূষণ কমানো এবং ফসলি জমির ‘টপসয়েল’ (উপরিভাগের উর্বর মাটি) কাটা বন্ধে আইনের সুনির্দিষ্ট ধারাগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।সভায় পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান পার্বত্য জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নুর হাসান সজীব এবং উপস্থিত অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ

আরও পড়ুনঃ  নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের স্মারকলিপি প্রদান

 

আইন অনুযায়ী নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বাস্তবায়নের কড়া তাগিদ দেন:লাইসেন্স ও ছাড়পত্র: পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং জেলা প্রশাসকের অনুকূল লাইসেন্স ব্যতীত কোনো ইটভাটা চালানো সম্পূর্ণ অবৈধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।মাটি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা: কৃষি জমি, পাহাড় বা টিলা কেটে মাটি সংগ্রহ করে ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়।জ্বালানি কাঠ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা: ইট পোড়ানোর কাজে বনের কোনো কাঠ বা জ্বালানি ব্যবহার করা যাবে না। আইন অমান্য করে কাঠ ব্যবহার করলে অনূর্ধ্ব ৩ বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ৩ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।নিষিদ্ধ এলাকায় ভাটা স্থাপন: আবাসিক এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বনাঞ্চল, উদ্যান ও পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ECA) কোনো নতুন ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না।কর্মকর্তারা ইটভাটা মালিকদের সনাতন পদ্ধতি পরিহার করে পরিবেশবান্ধব আধুনিক প্রযুক্তি (যেমন- জিগজ্যাগ বা টানেল কিলন) এবং পরিবেশবান্ধব উন্নত কনক্রিট ব্লক বা হলো ব্লকের কারখানা স্থাপনের ওপর জোর দেন।

আরও পড়ুনঃ  তদবিরমুক্ত বদলি: ঢাকার ৩৯ ইউনিয়ন পরিষদে লটারির মাধ্যমে পদায়ন

 

এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের পরিদর্শকবৃন্দ উপস্থিত থেকে বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে চলমান মোবাইল কোর্ট ও আইনি মামলার কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। সভায় প্রশাসন ও ব্যবসায়ী মালিকদের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ কমিয়ে আনার ব্যাপারে একমত পোষণ করা হয়।সবশেষে কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে সতর্ক করে দেওয়া হয় যে, পাহাড় ও বনের ক্ষতি করে এমন যেকোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  পতেঙ্গা কাঠগড় বাজারে আবারও উচ্ছেদ অভিযান: স্থায়ী সমাধান চান ব্যবসায়ীরা