Dhaka ০৪:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
‘শক্তিশালী অবস্থানে’ থেকে যুদ্ধ শেষ করতে চান ইরানের প্রেসিডেন্ট কাজের পরিধি ও গতি বাড়াতেই পররাষ্ট্রে দুই প্রতিমন্ত্রী: শামা ওবায়েদ বিপ্লবী ছাত্রনেতা থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী শৌচাগার শুধু দেওয়ালে, টাকা সিন্ডিকেটের পকেটে: পিআইও-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও মানুষের কল্যাণের রাজনীতি: মোকামতলায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম লাকসামে ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল স্কুলশিক্ষকের কেরানীগঞ্জে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনদুর্ভোগ: শুভাঢ্যা ও জিনজিরা অফিসের সমন্বয়হীনতা মাগুরা ট্রান্সফরমার খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, মাঠে পড়ে রইলেন চোরচক্রের সদস্য বড়াইগ্রামে সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ দীপেন দেওয়ানের পর সাচিং প্রু জেরী: পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়, তিন জেলায় নতুন প্রত্যাশা

দীপেন দেওয়ানের পর সাচিং প্রু জেরী: পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়, তিন জেলায় নতুন প্রত্যাশা

মাসুদ রানা মাসুম পার্বত্য ব্যুরো
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নেতৃত্বের পরিবর্তনে তিন পার্বত্য জেলা—বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি—নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ১ জুন ২০২৬ দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পর ২১ আগস্ট বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। দীপেন দেওয়ানের অধ্যায়ের পর সাচিং প্রু জেরীর আগমনকে শুধু দায়িত্ব বদল হিসেবে দেখলে বিষয়টির গুরুত্ব কমে যায়। এটি পাহাড়ের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির একটি সুযোগ। বোমাং রাজপরিবারের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক সম্পর্কের পাশাপাশি দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, স্থানীয় সরকার ও জেলা রাজনীতিতে অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব—সব মিলিয়ে তাঁর সামনে রয়েছে পাহাড়ের অভিজ্ঞতাকে জাতীয় নীতিনির্ধারণে কাজে লাগানোর একটি বড় সুযোগ। তাঁর রাজনৈতিক পথচলার বিভিন্ন ধাপের তথ্য সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তাঁর মন্ত্রিত্বের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা এখানেই—তিনি যদি বান্দরবানের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে একটি সমন্বিত নীতির দিকে এগোতে পারেন, তাহলে তাঁর নেতৃত্বের পরিধি শুধু নিজ নির্বাচনী এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে একটি নতুন আস্থার জায়গা তৈরি হতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতা জটিল। ভূমি, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, স্থানীয় সরকার এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর পারস্পরিক আস্থা—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়। এই জায়গায় সাচিং প্রু জেরীর জন্য সুযোগ হলো, তিনি পাহাড়ের বাস্তবতা সম্পর্কে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে মন্ত্রণালয়ে এসেছেন। ফলে নীতিনির্ধারণে স্থানীয় বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের মানুষের বাস্তবতা এক নয়। তাই সাচিং প্রু জেরীর সামনে বড় সুযোগ হবে দলীয় বা আঞ্চলিক সীমারেখার বাইরে গিয়ে তিন জেলার সমান উন্নয়ন ও সমান মর্যাদার নীতি সামনে আনা। তাঁর মন্ত্রণালয় যদি প্রকল্প গ্রহণে প্রয়োজনভিত্তিক অগ্রাধিকার, স্বচ্ছতা এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে নতুন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তিন পার্বত্য জেলার মানুষের প্রত্যাশা যে এক নয়, সেটিই নতুন মন্ত্রীর জন্য বাস্তব চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এই বৈচিত্র্যকে দুর্বলতা না বানিয়ে শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। পাহাড়ের প্রতিটি জেলার স্বতন্ত্র প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে পারলে সাচিং প্রু জেরীর মন্ত্রিত্ব একটি জেলার প্রতিনিধিত্বের গণ্ডি ছাড়িয়ে আঞ্চলিক নেতৃত্বের উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা, চিকিৎসা ও শিক্ষা, পর্যটন সম্ভাবনার সুষ্ঠু ব্যবহার, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ভূমি ও অধিকারসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান এবং তরুণদের কর্মসংস্থান—এসব ক্ষেত্রে দ্রুত ও বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নিতে হবে। সাচিং প্রু জেরীর রাজপরিবারের পরিচয় তাঁর ঐতিহাসিক ও সামাজিক পটভূমির অংশ; কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের শক্তি শুধু ঐতিহ্যে নয়, মাঠের রাজনীতিতে দীর্ঘ সম্পৃক্ততার মধ্যেও। স্থানীয় সরকার থেকে জাতীয় সংসদ—এই অভিজ্ঞতা তাঁকে প্রশাসনিক বাস্তবতা, স্থানীয় চাহিদা ও জাতীয় রাজনীতির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির সুযোগ দিয়েছে। এখন সেই অভিজ্ঞতাকে মন্ত্রণালয়ের কার্যকর সিদ্ধান্তে রূপ দেওয়ার সময়। দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পর সাচিং প্রু জেরীর আগমন তাই শুধু মন্ত্রিসভায় একটি পদ পরিবর্তন নয়; এটি পাহাড়ের উন্নয়ন ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে নতুন প্রত্যাশার সূচনা। দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের সময় তা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক আলোচনা হয়েছিল; এখন নতুন মন্ত্রীকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু স্বাভাবিকভাবেই ভবিষ্যৎ কাজ ও নেতৃত্বের দিকে। এখন প্রশ্নটি তাই অন্যভাবে দেখা যেতে পারে—সাচিং প্রু জেরী কি তাঁর নতুন দায়িত্বকে এমন একটি মডেলে রূপ দিতে পারবেন, যেখানে বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি—তিন জেলার মানুষই নিজেদের উন্নয়ন-প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখতে পাবে? উত্তর সময় দেবে, তবে শুরুটা সম্ভাবনাময়। সাচিং প্রু জেরীর কাছে এখন সুযোগ রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে জাতীয় নীতিতে কাজে লাগানোর। উন্নয়ন প্রকল্পে ভারসাম্য, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং তিন জেলার জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা—এই জায়গাগুলোতে দৃশ্যমান সাফল্য দেখাতে পারলে তাঁর মন্ত্রিত্ব পাহাড়ের রাজনীতিতে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে। সাচিং প্রু জেরীর মন্ত্রিত্বকে শুধু ‘রাজপরিবারের সন্তান মন্ত্রী হলেন’—এই পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করার সুযোগ নেই। তাঁর সামনে আরও বড় একটি রাজনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে: রাজপরিবারের ঐতিহ্য, দীর্ঘ মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বের অভিজ্ঞতাকে একত্র করে বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির জন্য সমন্বিত নেতৃত্বের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করা। তাঁর নিয়োগের আরেকটি তাৎপর্য হলো—পার্বত্য চট্টগ্রামের একজন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাই এখন সরাসরি মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে। ফলে পাহাড়ের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আরও সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এটি শুধু সাচিং প্রু জেরীর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অর্জন নয়; সফলভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারলে তিন পার্বত্য জেলার মানুষের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিত্বের সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। এখন সাচিং প্রু জেরীর সামনে মূল পরীক্ষা একটাই—এই সুযোগকে কতটা কার্যকর নেতৃত্বে রূপ দেওয়া যায়। পাহাড়ের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রতিটি উন্নয়ন উদ্যোগ এবং জনগণের সঙ্গে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততাই ভবিষ্যতে তাঁর মন্ত্রিত্বের মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি হবে।

আরও পড়ুনঃ  বড়াইগ্রামে সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

‘শক্তিশালী অবস্থানে’ থেকে যুদ্ধ শেষ করতে চান ইরানের প্রেসিডেন্ট

দীপেন দেওয়ানের পর সাচিং প্রু জেরী: পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়, তিন জেলায় নতুন প্রত্যাশা

আপডেটের সময়: ০১:২৫:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

মাসুদ রানা মাসুম পার্বত্য ব্যুরো
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নেতৃত্বের পরিবর্তনে তিন পার্বত্য জেলা—বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি—নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ১ জুন ২০২৬ দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পর ২১ আগস্ট বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। দীপেন দেওয়ানের অধ্যায়ের পর সাচিং প্রু জেরীর আগমনকে শুধু দায়িত্ব বদল হিসেবে দেখলে বিষয়টির গুরুত্ব কমে যায়। এটি পাহাড়ের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির একটি সুযোগ। বোমাং রাজপরিবারের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক সম্পর্কের পাশাপাশি দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, স্থানীয় সরকার ও জেলা রাজনীতিতে অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব—সব মিলিয়ে তাঁর সামনে রয়েছে পাহাড়ের অভিজ্ঞতাকে জাতীয় নীতিনির্ধারণে কাজে লাগানোর একটি বড় সুযোগ। তাঁর রাজনৈতিক পথচলার বিভিন্ন ধাপের তথ্য সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তাঁর মন্ত্রিত্বের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা এখানেই—তিনি যদি বান্দরবানের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে একটি সমন্বিত নীতির দিকে এগোতে পারেন, তাহলে তাঁর নেতৃত্বের পরিধি শুধু নিজ নির্বাচনী এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে একটি নতুন আস্থার জায়গা তৈরি হতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতা জটিল। ভূমি, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, স্থানীয় সরকার এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর পারস্পরিক আস্থা—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়। এই জায়গায় সাচিং প্রু জেরীর জন্য সুযোগ হলো, তিনি পাহাড়ের বাস্তবতা সম্পর্কে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে মন্ত্রণালয়ে এসেছেন। ফলে নীতিনির্ধারণে স্থানীয় বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের মানুষের বাস্তবতা এক নয়। তাই সাচিং প্রু জেরীর সামনে বড় সুযোগ হবে দলীয় বা আঞ্চলিক সীমারেখার বাইরে গিয়ে তিন জেলার সমান উন্নয়ন ও সমান মর্যাদার নীতি সামনে আনা। তাঁর মন্ত্রণালয় যদি প্রকল্প গ্রহণে প্রয়োজনভিত্তিক অগ্রাধিকার, স্বচ্ছতা এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে নতুন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তিন পার্বত্য জেলার মানুষের প্রত্যাশা যে এক নয়, সেটিই নতুন মন্ত্রীর জন্য বাস্তব চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এই বৈচিত্র্যকে দুর্বলতা না বানিয়ে শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। পাহাড়ের প্রতিটি জেলার স্বতন্ত্র প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে পারলে সাচিং প্রু জেরীর মন্ত্রিত্ব একটি জেলার প্রতিনিধিত্বের গণ্ডি ছাড়িয়ে আঞ্চলিক নেতৃত্বের উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা, চিকিৎসা ও শিক্ষা, পর্যটন সম্ভাবনার সুষ্ঠু ব্যবহার, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ভূমি ও অধিকারসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান এবং তরুণদের কর্মসংস্থান—এসব ক্ষেত্রে দ্রুত ও বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নিতে হবে। সাচিং প্রু জেরীর রাজপরিবারের পরিচয় তাঁর ঐতিহাসিক ও সামাজিক পটভূমির অংশ; কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের শক্তি শুধু ঐতিহ্যে নয়, মাঠের রাজনীতিতে দীর্ঘ সম্পৃক্ততার মধ্যেও। স্থানীয় সরকার থেকে জাতীয় সংসদ—এই অভিজ্ঞতা তাঁকে প্রশাসনিক বাস্তবতা, স্থানীয় চাহিদা ও জাতীয় রাজনীতির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির সুযোগ দিয়েছে। এখন সেই অভিজ্ঞতাকে মন্ত্রণালয়ের কার্যকর সিদ্ধান্তে রূপ দেওয়ার সময়। দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পর সাচিং প্রু জেরীর আগমন তাই শুধু মন্ত্রিসভায় একটি পদ পরিবর্তন নয়; এটি পাহাড়ের উন্নয়ন ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে নতুন প্রত্যাশার সূচনা। দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের সময় তা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক আলোচনা হয়েছিল; এখন নতুন মন্ত্রীকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু স্বাভাবিকভাবেই ভবিষ্যৎ কাজ ও নেতৃত্বের দিকে। এখন প্রশ্নটি তাই অন্যভাবে দেখা যেতে পারে—সাচিং প্রু জেরী কি তাঁর নতুন দায়িত্বকে এমন একটি মডেলে রূপ দিতে পারবেন, যেখানে বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি—তিন জেলার মানুষই নিজেদের উন্নয়ন-প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখতে পাবে? উত্তর সময় দেবে, তবে শুরুটা সম্ভাবনাময়। সাচিং প্রু জেরীর কাছে এখন সুযোগ রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে জাতীয় নীতিতে কাজে লাগানোর। উন্নয়ন প্রকল্পে ভারসাম্য, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং তিন জেলার জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা—এই জায়গাগুলোতে দৃশ্যমান সাফল্য দেখাতে পারলে তাঁর মন্ত্রিত্ব পাহাড়ের রাজনীতিতে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে। সাচিং প্রু জেরীর মন্ত্রিত্বকে শুধু ‘রাজপরিবারের সন্তান মন্ত্রী হলেন’—এই পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করার সুযোগ নেই। তাঁর সামনে আরও বড় একটি রাজনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে: রাজপরিবারের ঐতিহ্য, দীর্ঘ মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বের অভিজ্ঞতাকে একত্র করে বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির জন্য সমন্বিত নেতৃত্বের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করা। তাঁর নিয়োগের আরেকটি তাৎপর্য হলো—পার্বত্য চট্টগ্রামের একজন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাই এখন সরাসরি মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে। ফলে পাহাড়ের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আরও সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এটি শুধু সাচিং প্রু জেরীর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অর্জন নয়; সফলভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারলে তিন পার্বত্য জেলার মানুষের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিত্বের সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। এখন সাচিং প্রু জেরীর সামনে মূল পরীক্ষা একটাই—এই সুযোগকে কতটা কার্যকর নেতৃত্বে রূপ দেওয়া যায়। পাহাড়ের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রতিটি উন্নয়ন উদ্যোগ এবং জনগণের সঙ্গে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততাই ভবিষ্যতে তাঁর মন্ত্রিত্বের মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি হবে।

আরও পড়ুনঃ  রানীগঞ্জ ইসলামিক মিশনে চলছে অপচিকিৎসা: ফার্মাসিস্ট দিচ্ছেন প্রেসক্রিপশন,পরিচ্ছন্নতাকর্মীর হাতে মিলছে ঔষধ