Dhaka ০৭:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কালিয়াকৈর গ্রামবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় সভা ও এলাকা পরিদর্শনে গাসিক প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার সোনাকানিয়া ইউপি চেয়ারম্যান পদে জসিম উদ্দিনের পুনর্বহাল নিয়ে বিতর্ক, এলাকাজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ফ্যামিলি কার্ড অস্বচ্ছল পরিবারের সক্ষমতার প্রতীক হয়ে উঠবে: ডিসি ফরিদা নাচোলে কৃষকদের অংশগ্রহণে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত বান্দরবান মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনে ছাতা মার্কার নুরুল ইসলাম বাচ্চুর বিজয় সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে নদী থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় শনাক্তে তদন্ত অস্তিত্ব সংকটে আসকার দিঘি উপরে কচুরিপানা, নিচে দূষিত কালো পানি সলঙ্গায় সেতুর নিচে মিলল ব্যক্তির মরদেহ, রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ​কেরানীগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন এমপি আমান উল্লাহ আমান নবাবগঞ্জে আমবাগান থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার

চাঞ্চল্যকর শিশু আয়াত হত্যা মামলায় আবিরের মৃত্যুদণ্ড

মোঃ সৈয়দ মিয়া ( ব্যুরো চিফ চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামে পাঁচ বছরের শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে হত্যার পর মরদেহ ৬ টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার ঘটনায় করা চাঞ্চল্যকর মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে আসামি আবির মিয়ার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বিচারক।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। গত শনিবার মামলাটির যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হওয়ার পর রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।

আদালতের পিপি জালাল উদ্দিন বলেন, মামলায় ৩৩ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার নয়ারহাট ওয়াছ মুন্সী বাড়ির বাসিন্দা সোহেল রানার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াতকে হত্যা করা হয়। ওই দিন বিকেলে ঘরের পাশে মসজিদে আরবি পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিল আয়াত।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামে ব্রাজিল আর্জেন্টিনার প্রীতি ফুটবল ম্যাচে কেউ হারেনি: ১-১ গোলে ড্র হয়েছে

ওই ঘটনায় প্রতিবেশী আবিরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে আবির স্বীকার করেন, আয়াতকে খুনের পর লাশ ছয় টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছেন। আয়াতদের নিচতলায় যে বাসাটিতে তার বাবা থাকেন, সেটির চাবি তার কাছেও ছিল। ঘটনার দিন বিকেলে ঘরে ঢুকে শ্বাসরোধে আয়াতকে হত্যা করেন।

আরও পড়ুনঃ  বিমানবন্দরে সিগারেট ও আমদানি নিষিদ্ধ বিউটি ক্রিমের বড় চালান আটক

পিবিআই জানায়, মুক্তিপণের জন্য আয়াতকে অপহরণ করেন আবির। কিন্তু কোথাও রাখার জায়গা না পেয়ে তাকে হত্যা করা হয়। তারপর আয়াতের বাবার কাছে টাকা দাবি করার পরিকল্পনা করেন তিনি। সে জন্য একটি মোবাইলও কেনেন। আর আগে রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া একটি সিম তার সংগ্রহে ছিল। কিন্তু সেটা সচল না থাকায় ফোন করতে পারেননি।

ঘটনার ১৬ দিন পর ৩০ নভেম্বর আউটার রিং রোডের আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন স্লুইচ গেটের এক গর্ত থেকে আয়াতের দুই পা এবং পরদিন খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পিবিআই। ওই ঘটনায় আয়াতের বাবা নগরের ইপিজেড থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে আবিরের বাবা, মা ও ছোট বোনকে গ্রেফতার করা হয়। আবিরের বাসায় পাওয়া রক্তের ডিএনএর সঙ্গে আয়াতের ডিএনএর মিল পায় পিবিআই।

আরও পড়ুনঃ  ফরিদপুরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই প্রদান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পিবিআই। সেখানে আবিরকে আসামি করে তার বাবা-মা ও বোনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ড ও মরদেহ কেটে গুমের পরিকল্পনা এবং ঘটনা জেনেও গোপন রাখায় আবিরের সঙ্গী এক কিশোরকেও অভিযুক্ত করা হয়।

দীর্ঘ শুনানি ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে প্রায় পৌনে চার বছর পর চাঞ্চল্যকর ওই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

কালিয়াকৈর গ্রামবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় সভা ও এলাকা পরিদর্শনে গাসিক প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার

চাঞ্চল্যকর শিশু আয়াত হত্যা মামলায় আবিরের মৃত্যুদণ্ড

আপডেটের সময়: ০১:৪৬:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

মোঃ সৈয়দ মিয়া ( ব্যুরো চিফ চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামে পাঁচ বছরের শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে হত্যার পর মরদেহ ৬ টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার ঘটনায় করা চাঞ্চল্যকর মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে আসামি আবির মিয়ার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বিচারক।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। গত শনিবার মামলাটির যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হওয়ার পর রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।

আদালতের পিপি জালাল উদ্দিন বলেন, মামলায় ৩৩ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার নয়ারহাট ওয়াছ মুন্সী বাড়ির বাসিন্দা সোহেল রানার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াতকে হত্যা করা হয়। ওই দিন বিকেলে ঘরের পাশে মসজিদে আরবি পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিল আয়াত।

আরও পড়ুনঃ  ফরিদপুরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই প্রদান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

ওই ঘটনায় প্রতিবেশী আবিরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে আবির স্বীকার করেন, আয়াতকে খুনের পর লাশ ছয় টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছেন। আয়াতদের নিচতলায় যে বাসাটিতে তার বাবা থাকেন, সেটির চাবি তার কাছেও ছিল। ঘটনার দিন বিকেলে ঘরে ঢুকে শ্বাসরোধে আয়াতকে হত্যা করেন।

আরও পড়ুনঃ  বান্দরবান মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনে ছাতা মার্কার নুরুল ইসলাম বাচ্চুর বিজয়

পিবিআই জানায়, মুক্তিপণের জন্য আয়াতকে অপহরণ করেন আবির। কিন্তু কোথাও রাখার জায়গা না পেয়ে তাকে হত্যা করা হয়। তারপর আয়াতের বাবার কাছে টাকা দাবি করার পরিকল্পনা করেন তিনি। সে জন্য একটি মোবাইলও কেনেন। আর আগে রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া একটি সিম তার সংগ্রহে ছিল। কিন্তু সেটা সচল না থাকায় ফোন করতে পারেননি।

ঘটনার ১৬ দিন পর ৩০ নভেম্বর আউটার রিং রোডের আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন স্লুইচ গেটের এক গর্ত থেকে আয়াতের দুই পা এবং পরদিন খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পিবিআই। ওই ঘটনায় আয়াতের বাবা নগরের ইপিজেড থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে আবিরের বাবা, মা ও ছোট বোনকে গ্রেফতার করা হয়। আবিরের বাসায় পাওয়া রক্তের ডিএনএর সঙ্গে আয়াতের ডিএনএর মিল পায় পিবিআই।

আরও পড়ুনঃ  সিরাজগঞ্জের আদালতে মুফতি আমির হামজা, মানহানি মামলায় পেলেন স্থায়ী জামিন।

তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পিবিআই। সেখানে আবিরকে আসামি করে তার বাবা-মা ও বোনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ড ও মরদেহ কেটে গুমের পরিকল্পনা এবং ঘটনা জেনেও গোপন রাখায় আবিরের সঙ্গী এক কিশোরকেও অভিযুক্ত করা হয়।

দীর্ঘ শুনানি ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে প্রায় পৌনে চার বছর পর চাঞ্চল্যকর ওই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।