Dhaka ০৮:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গুম তদন্তের পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়ার অধিকার লক্ষ্মীপুরে জমি নিয়ে বিরোধ আদালতে পাল্টাপাল্টি মামলা মনপুরায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার, পাঠানো হলো শিশু আদালতে বিস্ফোরক মামলায় ভাঙ্গুড়া পৌরসভার কর্মকর্তা ও আ.লীগ নেতা কালু গ্রেপ্তার নন্দীগ্রামে পানিতে ভেসে উঠল শিশুর নিথর দেহ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে তাজকিয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মিষ্টান্ন বিতরণ লালপুরে পৃথক অভিযানে ১০টি স্মার্ট ফোন ও ৪০ হাজার টাকাসহ ৫ হ্যাকার আটক বগুড়ায় ড্রেন নির্মাণকাজের সময় মাটির নিচে মিলল এসএমজির ৩৩৪ রাউন্ড গুলি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধামরাই খাদ্য গোডাউন পরিদর্শনে খাদ্যমন্ত্রী গুমের পুনরাবৃত্তি চিরতরে বন্ধ করাই আমাদের দায়িত্ব: ইশরাক

চট্টগ্রাম লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস হাব হয়ে উঠবে: অর্থমন্ত্রী

জাহেদ কায়সার ( চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি ) :
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, লালদিয়া টার্মিনালকে একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। এই টার্মিনাল শুধু চীনের জন্য নয়, বৈশ্বিক লজিস্টিকস ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে হিসেবে পরিণত করা হবে।

রবিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে পতেঙ্গায় চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

এসময় অর্থমন্ত্রী বলেন, লালদিয়া টার্মিনাল প্রকল্প একটি উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ। একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে বিশ্বের সেরা লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান, আধুনিক বাণিজ্যিক অবকাঠামো, উন্নত বন্দর ও আধুনিক শহর প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে লালদিয়া টার্মিনালের মতো প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে বন্দর ও বাণিজ্য খাতের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এই বাণিজ্য খাতকে ঘিরে পরিচালিত হচ্ছে। ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও অনেকাংশে বন্দরের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে। বর্তমান সরকার উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর লক্ষ্য এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতকে নেতৃত্বের ভূমিকায় আনতে হবে। আমাদের দায়িত্ব হবে প্রয়োজনীয় নীতি, সহায়তা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা।
বন্দরকে দেশের উন্নয়ন ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস হাবে পরিণত করতে চায়।

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

সম্পুর্ন নিজস্ব বিদ্যুৎ শক্তির মাধ্যমে কোনো ধরনের দূষণ না ঘটিয়ে ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে আধুনিক প্রযুুক্তির সমন্বয়ে দেশের প্রথম গ্রিন পোর্ট এই টার্মিনাল নির্মাণ করছে বিশ্বখ্যাত শিপিং কোম্পানি মায়ের্সক গ্রুপের এপি মোলার। ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব অর্থায়নে এটি নির্মাণ করবে এবং প্রতি বছর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে আড়াই লাখ মার্কিন ডলার দেবে। এই টার্মিনালের মাধ্যমে দেশের শিপিং খাত আরও আধুনিক হবে বলে বন্দর ব্যবহারকারীদের অভিমত।
কনসেশন চুক্তি অনুযায়ী, গত বছর চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রথম তিন বছর টার্মিনাল নির্মাণের সময়। নির্মাণের পর ২০৩০ সাল থেকে বাণিজ্যিক অপারেশনে যাবে এটি। আগামী ৩০ বছর এপি মোলারের অধীনে তা পরিচালিত হবে এবং চুক্তির শর্তানুযায়ী বার্ষিক ফি ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ চট্টগ্রাম বন্দরকে প্রদান করবে। যদি এপি মোলারের কাজ সন্তোষজনক হয়, তবে এই চুক্তির মেয়াদ আরও ১৫ বছর বর্ধিত করা যাবে। সেই আলোকে এপি মোলারকে দেওয়া ৫০ একর ভূমির মধ্যে ৩২ একরে টার্মিনাল, ৮ একরে কনটেইনার ইয়ার্ড ও ১০ একরে ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। এরমধ্যে টার্মিনাল নির্মাণের কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হবে আজ রবিবার।
জানা গেছে, টার্মিনালটি বছরে ৮ লাখ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করবে। এটি সর্বোচ্চ ১০ লাখ পর্যন্তও হতে পারে। চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ একক কনটেইনার নিয়ে জাহাজ ভিড়লেও এই টার্মিনালে ৬ হাজার কনটেইনার নিয়ে ১১ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভিড়তে পারবে। সম্পূর্ণ গ্রিন পোর্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাওয়া এই টার্মিনালে সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে।
চিটাগাং চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও ব্যবসায়ী নেতা আমিরুল হক বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের এ পর্যন্ত যত উন্নয়ন হয়েছে তা করেছে আমদানিকারক কিংবা রপ্তানিকারকরা। আমরা পণ্য আমদানি বা রপ্তানি করি বলেই কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে বন্দর রেকর্ড করে। এর পুরো অবদান আমাদের। ঠিক তেমনিভাবে এই বন্দরে বিশ^খ্যাত কোম্পানি এপি মোলার বিনিয়োগে এগিয়ে আসায় আপগ্রেড হবে আমাদের শিপিং খাত।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ফেরদৌস বলেন, এপি মোলারের মতো প্রতিষ্ঠান যেহেতু গ্রিন ফিল্ডে বিনিয়োগ করে আধুনিক প্রযুক্তির টার্মিনাল নির্মাণ করছে, এর সুবিধাভোগী হবো আমরা। চুক্তির নির্ধারিত সময়ের পর তারা চলে গেলে টার্মিনালটির মালিকানা আমাদের হবে। প্রয়োজনে নতুন চুক্তিতে অন্য যে কেউ পরিচালনা করলেও আমরা লাভবান হবো।

আরও পড়ুনঃ  ধুনট মাঠপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন এডহক কমিটির আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গুম তদন্তের পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়ার অধিকার

চট্টগ্রাম লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস হাব হয়ে উঠবে: অর্থমন্ত্রী

আপডেটের সময়: ০৪:৩৮:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

জাহেদ কায়সার ( চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি ) :
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, লালদিয়া টার্মিনালকে একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। এই টার্মিনাল শুধু চীনের জন্য নয়, বৈশ্বিক লজিস্টিকস ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে হিসেবে পরিণত করা হবে।

রবিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে পতেঙ্গায় চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

এসময় অর্থমন্ত্রী বলেন, লালদিয়া টার্মিনাল প্রকল্প একটি উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ। একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে বিশ্বের সেরা লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান, আধুনিক বাণিজ্যিক অবকাঠামো, উন্নত বন্দর ও আধুনিক শহর প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে লালদিয়া টার্মিনালের মতো প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে বন্দর ও বাণিজ্য খাতের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এই বাণিজ্য খাতকে ঘিরে পরিচালিত হচ্ছে। ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও অনেকাংশে বন্দরের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে। বর্তমান সরকার উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর লক্ষ্য এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতকে নেতৃত্বের ভূমিকায় আনতে হবে। আমাদের দায়িত্ব হবে প্রয়োজনীয় নীতি, সহায়তা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা।
বন্দরকে দেশের উন্নয়ন ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস হাবে পরিণত করতে চায়।

আরও পড়ুনঃ  পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে তাজকিয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মিষ্টান্ন বিতরণ

সম্পুর্ন নিজস্ব বিদ্যুৎ শক্তির মাধ্যমে কোনো ধরনের দূষণ না ঘটিয়ে ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে আধুনিক প্রযুুক্তির সমন্বয়ে দেশের প্রথম গ্রিন পোর্ট এই টার্মিনাল নির্মাণ করছে বিশ্বখ্যাত শিপিং কোম্পানি মায়ের্সক গ্রুপের এপি মোলার। ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব অর্থায়নে এটি নির্মাণ করবে এবং প্রতি বছর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে আড়াই লাখ মার্কিন ডলার দেবে। এই টার্মিনালের মাধ্যমে দেশের শিপিং খাত আরও আধুনিক হবে বলে বন্দর ব্যবহারকারীদের অভিমত।
কনসেশন চুক্তি অনুযায়ী, গত বছর চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রথম তিন বছর টার্মিনাল নির্মাণের সময়। নির্মাণের পর ২০৩০ সাল থেকে বাণিজ্যিক অপারেশনে যাবে এটি। আগামী ৩০ বছর এপি মোলারের অধীনে তা পরিচালিত হবে এবং চুক্তির শর্তানুযায়ী বার্ষিক ফি ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ চট্টগ্রাম বন্দরকে প্রদান করবে। যদি এপি মোলারের কাজ সন্তোষজনক হয়, তবে এই চুক্তির মেয়াদ আরও ১৫ বছর বর্ধিত করা যাবে। সেই আলোকে এপি মোলারকে দেওয়া ৫০ একর ভূমির মধ্যে ৩২ একরে টার্মিনাল, ৮ একরে কনটেইনার ইয়ার্ড ও ১০ একরে ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। এরমধ্যে টার্মিনাল নির্মাণের কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হবে আজ রবিবার।
জানা গেছে, টার্মিনালটি বছরে ৮ লাখ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করবে। এটি সর্বোচ্চ ১০ লাখ পর্যন্তও হতে পারে। চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ একক কনটেইনার নিয়ে জাহাজ ভিড়লেও এই টার্মিনালে ৬ হাজার কনটেইনার নিয়ে ১১ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভিড়তে পারবে। সম্পূর্ণ গ্রিন পোর্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাওয়া এই টার্মিনালে সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে।
চিটাগাং চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও ব্যবসায়ী নেতা আমিরুল হক বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের এ পর্যন্ত যত উন্নয়ন হয়েছে তা করেছে আমদানিকারক কিংবা রপ্তানিকারকরা। আমরা পণ্য আমদানি বা রপ্তানি করি বলেই কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে বন্দর রেকর্ড করে। এর পুরো অবদান আমাদের। ঠিক তেমনিভাবে এই বন্দরে বিশ^খ্যাত কোম্পানি এপি মোলার বিনিয়োগে এগিয়ে আসায় আপগ্রেড হবে আমাদের শিপিং খাত।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ফেরদৌস বলেন, এপি মোলারের মতো প্রতিষ্ঠান যেহেতু গ্রিন ফিল্ডে বিনিয়োগ করে আধুনিক প্রযুক্তির টার্মিনাল নির্মাণ করছে, এর সুবিধাভোগী হবো আমরা। চুক্তির নির্ধারিত সময়ের পর তারা চলে গেলে টার্মিনালটির মালিকানা আমাদের হবে। প্রয়োজনে নতুন চুক্তিতে অন্য যে কেউ পরিচালনা করলেও আমরা লাভবান হবো।

আরও পড়ুনঃ  আদমদীঘির নসরতপুর এলএসডিতে চাল সংগ্রহ-মজুত নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ