Dhaka ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
আত্মগোপনে থাকার পর ডিবির হাতে গ্রেপ্তার সাবেক মেয়র রাসেল ও বশির আহমেদ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত ঈশ্বরগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে চুরির মামলা ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ আটক ৮ নীলফামারীতে জুলাইয়ের চেতনায় ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান এনসিপির ফুলবাড়ীতে বিজিবির অভিযানে মাদক, মোটরসাইকেল ও সিরাপ জব্দ, আটক ১ মাগুরায় খেলার ফাঁকে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই চাচাতো বোনের কাজিপুরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এমপি সেলিম রেজা হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রথম এডহক কমিটির সভা,বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত নাচোলে নানা আয়োজনে দূর্ণীতি প্রতিরোধ দিবস পালিত ঈশ্বরদীতে মাদক মামলায় এক ব্যাক্তির ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড

করতোয়ার করাল গ্রাসে কুলানন্দনপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প, আতঙ্কে শতাধিক পরিবার

মোঃ রিফাত হোসেন, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
​দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার করতোয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হতে বসেছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরসহ অসংখ্য বসতভিটা। ঘোড়াঘাট উপজেলার ১নং বুলাকিপুর ইউনিয়নের কুলানন্দনপুর নাপিতপাড়া এলাকায় নদীর তীব্র ভাঙনে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা। ইতিমধ্যে নদীর পারের বেশ কিছু ঘর ও জমি বিলীন হয়ে গেছে, আর যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে শতটিরও বেশি পরিবার।
​স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নদীতে পানি বাড়ার পাশাপাশি স্রোত বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙন আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। কয়েক দিন আগেই কুলানন্দনপুর নাপিতপাড়া সংলগ্ন আশ্রয়ণের পাশের বেশ কয়েকটি ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
​আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা সুরাইয়া বেগম আকুতি জানিয়ে বলেন, “নদীভাঙনের কারণে ঘর খুলে সরিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পাইনি। নতুন করে ঘর বানানোর মতো টাকা নেই, জমি কেনারও সামর্থ্য নেই। কয়েক দিন আগেই পাশের ঘর নদীতে চলে গেছে। এখন আমাদের পালার অপেক্ষা।”
​আরেক বাসিন্দা আদরী রাণী তাঁর আতঙ্কের কথা জানিয়ে বলেন, “বৃষ্টি শুরু হলেই বুক ধড়ফড় করে। সরকার অনেক কষ্টে আমাদের এই ঘর দিয়েছে। এখন সেই ঘরই হারানোর ভয়। রাতে ঘুমাতে পারি না। নিরাপদ জায়গায় আমাদের সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।”
​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, করতোয়া নদীর একেবারে কিনারে দাঁড়িয়ে আছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের সারিবদ্ধ ঘরগুলো। নদী পারের মাটি ক্রমাগত ধসে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছেন। আশ্রয়হীন হয়ে পড়ার ভয়ে অনেকে ঘরের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চিন্তা করলেও বিকল্প কোনো স্থান না থাকায় তারা নিরুপায় হয়ে পড়েছেন।
​এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, “আশ্রয়ণ প্রকল্পের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
​তীব্র নদীভাঙনের হাত থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্প ও স্থানীয় পরিবারগুলোকে রক্ষায় অতি দ্রুত স্থায়ী জিওব্যাগ বা বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকার অসহায় মানুষগুলো।

আরও পড়ুনঃ  দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে অটোরিকশা ছি,নতাইয়ের সময় সু,রিকাঘাতে নিহত
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

আত্মগোপনে থাকার পর ডিবির হাতে গ্রেপ্তার সাবেক মেয়র রাসেল ও বশির আহমেদ

করতোয়ার করাল গ্রাসে কুলানন্দনপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প, আতঙ্কে শতাধিক পরিবার

আপডেটের সময়: ০৩:৪৭:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

মোঃ রিফাত হোসেন, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
​দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার করতোয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হতে বসেছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরসহ অসংখ্য বসতভিটা। ঘোড়াঘাট উপজেলার ১নং বুলাকিপুর ইউনিয়নের কুলানন্দনপুর নাপিতপাড়া এলাকায় নদীর তীব্র ভাঙনে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা। ইতিমধ্যে নদীর পারের বেশ কিছু ঘর ও জমি বিলীন হয়ে গেছে, আর যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে শতটিরও বেশি পরিবার।
​স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নদীতে পানি বাড়ার পাশাপাশি স্রোত বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙন আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। কয়েক দিন আগেই কুলানন্দনপুর নাপিতপাড়া সংলগ্ন আশ্রয়ণের পাশের বেশ কয়েকটি ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
​আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা সুরাইয়া বেগম আকুতি জানিয়ে বলেন, “নদীভাঙনের কারণে ঘর খুলে সরিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পাইনি। নতুন করে ঘর বানানোর মতো টাকা নেই, জমি কেনারও সামর্থ্য নেই। কয়েক দিন আগেই পাশের ঘর নদীতে চলে গেছে। এখন আমাদের পালার অপেক্ষা।”
​আরেক বাসিন্দা আদরী রাণী তাঁর আতঙ্কের কথা জানিয়ে বলেন, “বৃষ্টি শুরু হলেই বুক ধড়ফড় করে। সরকার অনেক কষ্টে আমাদের এই ঘর দিয়েছে। এখন সেই ঘরই হারানোর ভয়। রাতে ঘুমাতে পারি না। নিরাপদ জায়গায় আমাদের সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।”
​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, করতোয়া নদীর একেবারে কিনারে দাঁড়িয়ে আছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের সারিবদ্ধ ঘরগুলো। নদী পারের মাটি ক্রমাগত ধসে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছেন। আশ্রয়হীন হয়ে পড়ার ভয়ে অনেকে ঘরের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চিন্তা করলেও বিকল্প কোনো স্থান না থাকায় তারা নিরুপায় হয়ে পড়েছেন।
​এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, “আশ্রয়ণ প্রকল্পের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
​তীব্র নদীভাঙনের হাত থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্প ও স্থানীয় পরিবারগুলোকে রক্ষায় অতি দ্রুত স্থায়ী জিওব্যাগ বা বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকার অসহায় মানুষগুলো।

আরও পড়ুনঃ  দেওয়ালে নেই প্রাচীর, সেবার মান তলানিতে: অরক্ষিত গাইবান্ধার বল্লমঝাড় উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র