
মোবারক হোসাইন, কক্সবাজার জেলা: কক্সবাজারের ঈদগাঁও বাজারে দফায় দফায় বৃদ্ধি পেয়ে সবজির দাম এখন প্রায় তিনগুণে ঠেকেছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চড়া রয়েছে মাছ ও মুরগির বাজারও। নিত্যপণ্যের এই ঊর্ধ্বগতির কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষেরা। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঈদগাঁও কাঁচাবাজার ও মাছ বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজার ঘুরে জানা গেছে, বর্তমানে বাজারে প্রায় প্রতিটি সবজি বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। খুচরা বাজারে কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ২০০ টাকা, শসা ১০০ টাকা, বেগুন ১৬০ টাকা, করলা ১৬০ টাকা, টমেটো ১৪০ টাকা, ঢেঁড়স ১২০ টাকা এবং গাজর ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কচু ৬০ টাকা, আলু ৩০ টাকা এবং পেঁপে প্রতি কেজি ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছ বাজারেও স্বস্তি ফেরেনি। পাঙ্গাশ মাছ প্রতি কেজি ১৭০ টাকা, তেলাপিয়া ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা এবং ছোট নদীর মাছ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য মাছও আকারভেদে চড়া দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। দোহাজারী বাজার থেকে কাঁচামাল কিনে এনে ঈদগাঁওতে বিক্রি করেন এক ব্যবসায়ী। তিনি জানান, মালামাল কেনার আগে দোহাজারী কাঁচামালের মাঠে দালালকে টাকা দিয়ে মাল কিনতে হয়। এছাড়া সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে ক্ষেতখামার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সবজির সরবরাহ কমে গেছে।
ফলে তাদের চড়া দামে কিনতে হচ্ছে খুচরা কাঁচামাল ব্যবসায়ী ইমন জানান, তরিতরকারীর দাম অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় পুঁজি সামলাতে তিনি এখন তুলনামূলক কম দামের সবজি এনে বিক্রি করছেন। বর্তমানে ঈদগাঁও বাজারে ১০০ টাকার নিচে কোনো তরকারি পাওয়া যাচ্ছে না। আরেক তরকারী ব্যবসায়ী বলেন, বৃষ্টির মধ্যে ক্ষেত থেকে তরকারি সংগ্রহ করা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। পাইকারিতে যে দামে কিনতে হচ্ছে, অনেক সময় সেই দামে বিক্রি করাও মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়। বাজারে আসা আজিম ও তাহেরসহ বেশ কয়েকজন ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সাধারণ মানুষের আয়ের তুলনায় ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে। রান্নাবান্নায় সাধ থাকলেও অতিরিক্ত দামের কারণে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করা এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তরিতরকারির এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে তাদের নাভিশ্বাস উঠেছে। উপজেলার আওতাধীন পাঁচটি ইউনিয়নের অসহায়, হতদরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের কষ্টের কথা বিবেচনা করে কাঁচাতরিতরকারীর মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
প্রতিবেদকের নাম 



















