
মোঃ ইসমাইল হোসেন: চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুর
রাত পেরিয়ে ভোর হলেই যেখানে নতুন সম্ভাবনার আলো ফোটে, সেখানে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন ৭নং ওয়ার্ড বসুদুহিতা গ্রামের চিত্রটি ভিন্ন। এখানকার শত শত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের মনে ভোর হলেই উঁকি দেয় এক অজানা আতঙ্ক। একটি ভাঙাচোরা কাঁচা রাস্তা আর অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পোল (ব্রিজ) পেরিয়ে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে তাদের পৌঁছাতে হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। যাতায়াতের এই ঝুঁকিপূর্ণ পথে একটু অসাবধান হলেই ঘটে যেতে পারে বড় কোনো দুর্ঘটনা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি কেবল এই ঝুঁকিপূর্ণ পোলেই সীমাবদ্ধ নয়। সামান্য বৃষ্টিতেই এই অঞ্চলের চিত্র বদলে যায় ভয়াবহ রূপে। বর্ষাকাল এলেই পুরো রাস্তাটি হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায় এবং তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বছরের পর বছর ধরে চলা এই চরম জনদুর্ভোগের যেন কোনো শেষ নেই। কাদা-পানিতে একাকার এই পথ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত চরম বিপাকে পড়ছেন বৃদ্ধ, নারী ও শিশুরা।
অত্র এলাকার একটি বড় অংশই প্রবাসী। দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা এই রেমিট্যান্স যোদ্ধারা যখন দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষ করে নিজ নাড়ির টানে বাড়ি ফেরেন, তখন এই রাস্তাই তাদের জন্য হয়ে ওঠে এক দুঃস্বপ্নের নাম। বিদেশ থেকে আনা মালপত্র নিয়ে এই কর্দমাক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে তাদের সম্মুখীন হতে হয় অবর্ণনীয় ভোগান্তির। প্রবাসীদের অভিযোগ— দেশের অর্থনীতি সচল রাখলেও তাদের নিজেদের গ্রামের ন্যূনতম নাগরিক সুবিধাটুকু নিশ্চিত হচ্ছে না।
একটি টেকসই পাকা রাস্তা আর একটি নিরাপদ ব্রিজের অভাবে প্রতিনিয়ত থমকে যাচ্ছে এই এলাকার হাজারো মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। জরুরি চিকিৎসা কিংবা কৃষিপণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রেও এই অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
এলাকাবাসী ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি এখন সময়ের দাবি। চন্দ্রগঞ্জের বসুদুহিতা গ্রামের এই কাঁচা রাস্তাটি দ্রুত পাকাকরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পোলটি সংস্কার করে জনগণের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন— এটাই ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের জোর দাবি।
প্রতিবেদকের নাম 


















