
মাহাদী হাসান অন্তর, মোরেলগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি, (বাগেরহাট)
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার গুলিশাখালী ফাজিল মাদ্রাসায় সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অধ্যক্ষের দায়িত্বে বহাল থাকার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযোগের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করেছে এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের অংশগ্রহণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৫ জুলাই ২০২৬) সাবেক অধ্যক্ষকে অপসারণ এবং সহকারী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ মাসুদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
মানববন্ধন কারিদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে অধ্যক্ষ আব্দুল বারীর চাকরির মেয়াদ শেষ হয়। এরপর ৩০ জুন পরিচালনা কমিটির এক সভায় তিনি আরও দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের দাবি করেন। তবে এ দাবির বিরোধিতা করেন মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটি বড় অংশ। এরই ধারাবাহিকতায় তারা সংবাদ সম্মেলন করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ওই সংবাদ সম্মেলনে ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ মাসুদ বক্তব্য দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে শনিবার আসরের নামাজের পর গুলিশাখালী বাজার এলাকায় তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল বারী। এ ঘটনার প্রতিবাদেই রবিবার শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করে এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী মানববন্ধনে অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে অতীতে সীমাহীন অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, বিভিন্ন সময় নানা অজুহাত ও প্রতিশ্রুতির কথা বলে তিনি একাধিক শিক্ষকের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েছেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
আন্দোলনরত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কোনোভাবেই আব্দুল বারীকে পুনরায় অধ্যক্ষের দায়িত্বে দেখতে চান না তারা। তাদের ভাষ্য, তার কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়া শিক্ষকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং ভবিষ্যতে তাদের ওপর হামলার আশঙ্কা রয়েছে। তাই তারা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত হস্তক্ষেপ, নিরপেক্ষ তদন্ত, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
প্রতিবেদকের নাম 



















