
মোঃ জামাল উদ্দিন, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া বাজারের সুনামধন্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এম,বি ফার্নিচার,গোডাউন এবং কারখানার সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে এ পর্যন্ত কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
শনিবার (২৩-মে) ভোর ৪.০০ মিঃ দিকে এ আগুনের সুত্রপাত হয়। এতে আগুনে পুড়ে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান এমবি ফার্নিচারের স্বত্বাধিকারী মোঃ আল আমীন।
তিনি আরো জানান, আমি তিল তিল করে আমার জীবনের স্বপ্ন লালন করে এ পর্যন্ত এসেছি। কিন্তু আজ আমার সব শেষ হয়ে গেল!! এ বলে দুঃখ প্রকাশ করেন। তবুও তিনি আল্লাহর উপর ভরসা রেখে বলেন,, সবই আল্লাহর ইচ্ছে। আমার কোন কিছুই করার ক্ষমতা নেই। আমি সবুর করেছি। ধৈর্য ধরবো। আল্লাহ চাহে তো সবই সম্ভব। আমি আমার পরিবার,ও সন্তানদের জীবিত উদ্ধার করেতে পেরেছি সেই জন্য। আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহর কাছে লাখো শুকরিয়া।
সরকারের কাছে কোন চাওয়া পাওয়ার আছে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, আমার তো যা ছিল চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন সরকারি সাহায্য সহযোগিতা ছাড়া আমাকে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব না। আমি আশা করবো সরকার আমার বিষয়ে বিশেষ বিবেচনা করবেন। সরকারি সাহায্য সহযোগিতা পেলে আবারো ঘুরে দাঁড়াতে পারবো। ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরো জানান,ভোর রাতে যখন ঘুম ভাঙে তখন পিছনের গোডাউনে আগুনের লেলিহান দেখতে পেয়ে আমি হতভম্ব হয়ে যাই। কি করবো কিছুই বুঝতে পারিনি। মাথায় কোন কিছু কাজ করছিলো না। কোন রকম কারখানার পিছনে থাকা আমার বাসা থেকে আমার পরিবারকে সবার আগে সরালাম। আমার ছোট ছেলেটাকে নিয়ে দুইড্রাম কেমিক্যাল ছিল সেটাকে খুব কষ্ট করে সরাতে পেরেছি। না হয় আগুনের ভয়াবহতা আরো তীব্র হত। তারপর দৌড়ে মসজিদের ইমাম সাহেব কে ডেকে তুলে মাইকে ঘোষণা দেয়ার পর এলাকাবাসী দৌড়ে আসেন। যার যার মতে আগুন নিভানোর জন্য চেষ্টা করে। কিন্তু কোন ভাবেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে না। এরই মধ্যে মাধবপুর ফায়ার সার্ভিসে কল করা হলে ফায়ার সার্ভিসের তিনটা ইউনিট একযোগ আগুন নিভানোর চেষ্টা করলে প্রায় ২ ঘন্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আমি এতটাই দিশেহারা হয়ে পড়ি যে, আমার হাতের দামী আই ফোনটা পর্যন্ত নিতে ভুলে যাই।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আল-শেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী মোঃ শামছুর রহমান জানান, আগুনের ভয়াবহতা তখন এমন ছিল কাছে যাওয়া বা নিভানোর জন্য চেষ্টা করা ছিল অসাধ্য। তবুও এলাকার মানুষ সবাই মিলে যার যার মত সহযোগিতা করেছে। অবশেষে ফায়ার সার্ভিসের ২ঘন্টা চেষ্টার ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু ততক্ষণে প্রায় কোটি টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
আগুনের সুত্রপাত কোথায় থেকে হল সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সম্ভবত বিদুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করছি।
আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী ইটাখোলা ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মোঃ আমান স্যার জানান, যখন গভীর রাতে শুনতে পাই এমবি ফার্নিচারে আগুন লেগেছে সাথে সাথেই দৌড়ে এসে দেখি আগুনের তীব্রতা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এম,বি ফার্নিচারের পাশেই আমার মোটরসাইকেলের শোরুম থাকায় আমার দোকানেও আগুন লাগার খুবই সম্ভাবনা ছিল। খুবই ভয়ে ছিলাম এবং আগুন নিভানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু আগুনের তীব্রতা ছিল আমাদের সাধ্যের বাহিরে। অবশেষে ফায়ার সার্ভিস আসাতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু দুঃখজনক হলো ততক্ষণে আলামিন ভাইর কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে গেছে।
নোয়াপাড়া বাজার কমিটির পক্ষ থেকে ফায়ারসার্ভিস কর্মীদের ধন্যবাদ জানানো হয়৷ ফায়ারসার্ভিস কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসাতে নোয়াপাড়া বাজার আরো বেশি ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেল। না হয় পুরো নোয়াপাড়া বাজার আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যেত।
সকাল ৬.০০ মিঃ আগুনে পুড়ে যাওয়া দোকান পরিদর্শনে এলাকার চেয়ারম্যান সৈয়দ মোঃ আতাউল মোস্তফা সোহেল এবং হবিগঞ্জ-৪ আসনের এমপি সহোদর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ মোঃ শাহজাহান আসেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত দোকান, গোডাউন এবং কারখানা ঘুরে ঘুরে দেখেন।
এমপি সহোদর সৈয়দ মোঃ শাজাহান বলেন, এমন একটা দূর্ঘটনা খুবই দুঃখজনক! আমরা তাকে স্বান্তনা দেয়ার কোন ভাষা নেই। তবুও বলবো ধৈর্য ধরুন। মনোবল হারাবেন না। তকবিরের উপরে কারো হাত নেই। সবই আল্লাহর ইচ্ছে।।
তিনি ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিককে স্বান্তনা দেয়ার পাশাপাশি সরকারি সহযোগিতা করা যায় কিনা সে বিষয়েও আস্বস্ত করেন।।
প্রতিবেদকের নাম 



















