Dhaka ০২:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নীলফামারীতে গ্রামপুলিশ মিনহাজুলের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে প্রশাসন পতেঙ্গায় অবৈধ টমটমের দাপট ও লক্ষ টাকার টোকেন বাণিজ্য ধোপাছড়ি শীলঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটিতে সভাপতি হলেন আব্দুল মান্নান রানা অভাবের দেয়ালে বন্দি রিকশাচালকের ৩ হাজার পাতার স্বপ্ন! ক্যান্সারের সঙ্গে জীবনযুদ্ধ: অসহায় নব মুসলিম জাকারিয়ার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান শনির আখড়া জিয়া সরণি রুটে ময়লার স্তূপ: চরম দুর্ভোগে পথচারী ও এলাকাবাসী সমবায়কে উপেক্ষা করে পল্লী উন্নয়ন নয়: জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস কমিটিতে ইউসিসিএ সভাপতিদের বাদ দেওয়া কেন উদ্বেগজনক কুড়িগ্রামে ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা ও ভ্যাকসিন কার্যক্রম সাঘাটায় বজ্রপাতে মা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু, ছয় মাসের শিশুকে নিয়ে দিশেহারা পুত্রবধূ বগুড়া শহর বাইপাস করে নতুন রেলপথের উদ্যোগ

পতেঙ্গায় অবৈধ টমটমের দাপট ও লক্ষ টাকার টোকেন বাণিজ্য

সাব্বির হোসেন মিদুল স্টাফ রিপোর্টার চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকার মহাসড়ক থেকে শুরু করে অলিগলিতে এখন চরম দাপট দেখাচ্ছে অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত অবৈধ টমটম। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতা ও নামধারী সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে চলছে এই বিশাল সিন্ডিকেট। শুধু তাই নয়, এদের ঘিরে গড়ে উঠেছে লক্ষ লক্ষ টাকার অবৈধ ‘টোকেন বাণিজ্য’। তবে চালক ও মালিকদের দাবি— তারা এই চাঁদাবাজির অবসান চান এবং সরকারের নির্ধারিত কর দিয়ে বৈধভাবে গাড়ি চালাতে ইচ্ছুক। এ নিয়ে বিস্তারিত পতেঙ্গা থেকে জানাচ্ছেন দৈনিক আজকের জনবাণী পত্রিকার রিপোর্টার সাব্বির হোসেন মিদুল কে বলেন চট্টগ্রামের পতেঙ্গা জোনের প্রধান মহাসড়ক ও সংযোগ সড়কগুলোতে এখন সাধারণ মানুষের চলাচলের অন্যতম প্রধান বাধা এই ব্যাটারিচালিত অবৈধ টমটম। বিশেষ করে পতেঙ্গা স্টিলমিল, খালপাড় রোড, খেজুরতলা রোড, কলসি দিঘিরপাড় রোড এবং এয়ারপোর্ট রোডে এদের দাপট সবচেয়ে বেশি।

আরও পড়ুনঃ  নওগাঁয় বিশৃংখলা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগে  ছাত্রলীগের ৩ সদস্য আটক

 

এছাড়াও কাঠগড় ১ ও ২ নম্বর গলি, কাঠগড় মহিলা কলেজ থেকে নাজিরপাড়ার ডিলপাড়া এবং কাঠগড় বাজার থেকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত অবধি বিস্তৃত সড়কগুলোতে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শত শত অনুমোদনহীন টমটম। ট্রাফিক আইন তোয়াক্কা না করে মহাসড়কে চলায় প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।মালিকদের বক্তব্য: “আমরা শোরুম থেকে লাখ লাখ টাকা দিয়ে গাড়ি কিনে আনি। কিন্তু রাস্তায় নামলেই শুরু হয় আসল জুলুম। গাড়ি কেনার খরচের চেয়ে বেশি টাকা চলে যায় স্থানীয় সিন্ডিকেটের অবৈধ টোকেন কিনতে। আমরা এই চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি চাইঅনুসন্ধানে জানা গেছে, এই বিপুল সংখ্যক অবৈধ টমটম রাস্তায় টিকিয়ে রাখতে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নেতা এবং গণমাধ্যমের পরিচয় দেওয়া কিছু অসাধু ব্যক্তিকে নিয়মিত মাসোহারা দিতে হয়। প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার এই টোকেন বাণিজ্যের কারণে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব, আর পকেট ভারী হচ্ছে স্থানীয় চাঁদাবাজদের।

আরও পড়ুনঃ  কুলিয়ারচরে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার

 

অথচ, সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে নিয়মের মধ্যে আনতে নির্দিষ্ট কর হার নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে। সংযুক্ত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সরকারিভাবে এলাকাভেদে ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য বার্ষিক করের হার নির্ধারণ করা হয়েছে:ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায়: ১ হাজার টাকা।পৌরসভা এলাকায়: ২ হাজার টাকা।সিটি কর্পোরেশন এলাকায়: ৫ হাজার টাকা।পাশাপাশি মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রেও সিসিভেদে ১১০ সিসি পর্যন্ত কর মওকুফ এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত করের বিধান রয়েছে।)টমটম মালিকদের স্পষ্ট দাবি, তারা এই সরকারি কর পরিশোধ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সিটি কর্পোরেশনের আওতায় নির্ধারিত ৫ হাজার টাকা ট্যাক্স দিয়ে তারা বৈধভাবে মাথা উঁচু করে গাড়ি চালাতে চান, কিন্তু স্থানীয় কোনো চাঁদাবাজ বা সিন্ডিকেটের পকেটে আর একটি টাকাও দিতে রাজি নন তারা।

আরও পড়ুনঃ  ভোলায় তোফায়েল আহমেদের দ্বিতীয় জানাজা, পারিবারিক কবরস্থানে দাফন

 

পতেঙ্গার সাধারণ মানুষ এবং টমটম মালিক উভয়েরই এখন একটাই দাবি— এই অবৈধ টোকেন বাণিজ্য ও চাঁদাবাজি দ্রুত বন্ধ করা হোক। প্রশাসন যদি এই বাহনগুলোকে সরকারি ট্যাক্সের আওতায় এনে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মধ্যে নিয়ে আসে, তবে যেমন সরকারের রাজস্ব বাড়বে, তেমনই বন্ধ হবে অলিতে-গলির এই নৈরাজ্য।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

নীলফামারীতে গ্রামপুলিশ মিনহাজুলের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে প্রশাসন

পতেঙ্গায় অবৈধ টমটমের দাপট ও লক্ষ টাকার টোকেন বাণিজ্য

আপডেটের সময়: ১২:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

সাব্বির হোসেন মিদুল স্টাফ রিপোর্টার চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকার মহাসড়ক থেকে শুরু করে অলিগলিতে এখন চরম দাপট দেখাচ্ছে অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত অবৈধ টমটম। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতা ও নামধারী সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে চলছে এই বিশাল সিন্ডিকেট। শুধু তাই নয়, এদের ঘিরে গড়ে উঠেছে লক্ষ লক্ষ টাকার অবৈধ ‘টোকেন বাণিজ্য’। তবে চালক ও মালিকদের দাবি— তারা এই চাঁদাবাজির অবসান চান এবং সরকারের নির্ধারিত কর দিয়ে বৈধভাবে গাড়ি চালাতে ইচ্ছুক। এ নিয়ে বিস্তারিত পতেঙ্গা থেকে জানাচ্ছেন দৈনিক আজকের জনবাণী পত্রিকার রিপোর্টার সাব্বির হোসেন মিদুল কে বলেন চট্টগ্রামের পতেঙ্গা জোনের প্রধান মহাসড়ক ও সংযোগ সড়কগুলোতে এখন সাধারণ মানুষের চলাচলের অন্যতম প্রধান বাধা এই ব্যাটারিচালিত অবৈধ টমটম। বিশেষ করে পতেঙ্গা স্টিলমিল, খালপাড় রোড, খেজুরতলা রোড, কলসি দিঘিরপাড় রোড এবং এয়ারপোর্ট রোডে এদের দাপট সবচেয়ে বেশি।

আরও পড়ুনঃ  ঈদ উদযাপন শেষে সচিবালয়ে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী

 

এছাড়াও কাঠগড় ১ ও ২ নম্বর গলি, কাঠগড় মহিলা কলেজ থেকে নাজিরপাড়ার ডিলপাড়া এবং কাঠগড় বাজার থেকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত অবধি বিস্তৃত সড়কগুলোতে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শত শত অনুমোদনহীন টমটম। ট্রাফিক আইন তোয়াক্কা না করে মহাসড়কে চলায় প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।মালিকদের বক্তব্য: “আমরা শোরুম থেকে লাখ লাখ টাকা দিয়ে গাড়ি কিনে আনি। কিন্তু রাস্তায় নামলেই শুরু হয় আসল জুলুম। গাড়ি কেনার খরচের চেয়ে বেশি টাকা চলে যায় স্থানীয় সিন্ডিকেটের অবৈধ টোকেন কিনতে। আমরা এই চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি চাইঅনুসন্ধানে জানা গেছে, এই বিপুল সংখ্যক অবৈধ টমটম রাস্তায় টিকিয়ে রাখতে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নেতা এবং গণমাধ্যমের পরিচয় দেওয়া কিছু অসাধু ব্যক্তিকে নিয়মিত মাসোহারা দিতে হয়। প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার এই টোকেন বাণিজ্যের কারণে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব, আর পকেট ভারী হচ্ছে স্থানীয় চাঁদাবাজদের।

আরও পড়ুনঃ  কুলিয়ারচরে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার

 

অথচ, সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে নিয়মের মধ্যে আনতে নির্দিষ্ট কর হার নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে। সংযুক্ত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সরকারিভাবে এলাকাভেদে ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য বার্ষিক করের হার নির্ধারণ করা হয়েছে:ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায়: ১ হাজার টাকা।পৌরসভা এলাকায়: ২ হাজার টাকা।সিটি কর্পোরেশন এলাকায়: ৫ হাজার টাকা।পাশাপাশি মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রেও সিসিভেদে ১১০ সিসি পর্যন্ত কর মওকুফ এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত করের বিধান রয়েছে।)টমটম মালিকদের স্পষ্ট দাবি, তারা এই সরকারি কর পরিশোধ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সিটি কর্পোরেশনের আওতায় নির্ধারিত ৫ হাজার টাকা ট্যাক্স দিয়ে তারা বৈধভাবে মাথা উঁচু করে গাড়ি চালাতে চান, কিন্তু স্থানীয় কোনো চাঁদাবাজ বা সিন্ডিকেটের পকেটে আর একটি টাকাও দিতে রাজি নন তারা।

আরও পড়ুনঃ  সাঘাটায় বজ্রপাতে মা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু, ছয় মাসের শিশুকে নিয়ে দিশেহারা পুত্রবধূ

 

পতেঙ্গার সাধারণ মানুষ এবং টমটম মালিক উভয়েরই এখন একটাই দাবি— এই অবৈধ টোকেন বাণিজ্য ও চাঁদাবাজি দ্রুত বন্ধ করা হোক। প্রশাসন যদি এই বাহনগুলোকে সরকারি ট্যাক্সের আওতায় এনে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মধ্যে নিয়ে আসে, তবে যেমন সরকারের রাজস্ব বাড়বে, তেমনই বন্ধ হবে অলিতে-গলির এই নৈরাজ্য।