Dhaka ১০:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সমবায়কে উপেক্ষা করে পল্লী উন্নয়ন নয়: জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস কমিটিতে ইউসিসিএ সভাপতিদের বাদ দেওয়া কেন উদ্বেগজনক কুড়িগ্রামে ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা ও ভ্যাকসিন কার্যক্রম সাঘাটায় বজ্রপাতে মা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু, ছয় মাসের শিশুকে নিয়ে দিশেহারা পুত্রবধূ বগুড়া শহর বাইপাস করে নতুন রেলপথের উদ্যোগ কেন্দুয়ায় ৫শ টাকা পাওনার বিরোধে একজনকে কুপিয়ে হত্যা! মা-ছেলে আটক পবায় গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বার্ষিক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত মাদারগঞ্জে নিজ ঘরে বিষাক্ত সাপের কামড়ে, ছোট্ট শিশুর মৃত্যু ধমকিয়ে-পিটিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না: মির্জা ফখরুল নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে বাংলাদেশ বিদ্যুতের দাম বাড়লো

সংসদে ফজলুর রহমানের করা মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ: ড. শফিকুর রহমান

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৭:২২:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৯৮ সময় দেখুন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জাতীয় সংসদে নিজের পারিবারিক পরিচয় ও রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে করা মন্তব্যের জেরে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিনে ফজলুর রহমানের বক্তব্যের পরপরই দাঁড়িয়ে তিনি এ প্রতিবাদ জানান। এ সময় নিজের রাজনৈতিক অধিকার এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য হিসেবে তার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “শ্রদ্ধা রেখেই বলতে চাই, মাননীয় সংসদ সদস্য বয়সে আমার বড়, তিনি মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান সবকিছুই বলেছেন। কিন্তু নিজের অবদান বলতে গিয়ে আরেকজনের অবদানের ওপর হাতুড়ি পেটানোর অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  ঈদ উদযাপন শেষে সচিবালয়ে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী

 

শফিকুর রহমান বলেন, তিনি পার্সোনালি আমাকে অ্যাটাক করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি বলে থাকি, আমি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য। উনি এটাকে চ্যালেঞ্জ করছেন। দুই নম্বর উনি বলেছেন, কোনও মুক্তিযোদ্ধা কিংবা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াত ইসলামী করতে পারে না। তাহলে কি উনাকে জিজ্ঞেস করা লাগবে। এটি আমার নাগরিক অধিকার। আমি কোন দল করবো, কোন আদর্শ অনুসরণ করবো? এর ওপর হস্তক্ষেপ করার ন্যুনতম কোনও অধিকার রাষ্ট্র কিংবা সংবিধান কাউকে দেয়নি। আমি এটার তীব্র নিন্দা জানাই। আমার আইডেন্টিটি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, এটা গুরুতর অপরাধ করেছেন। আবার আমার আদর্শ সিলেকশনের ব্যাপারে উনি কথা বলেছেন, এটা বাড়তি অপরাধ করেছেন। তিনি আরও বলেন, “আমি অনুরোধ করবো মাননীয় স্পিকার, তার এই অসংসদীয় অংশটা এখান থেকে যেন এক্সপাঞ্জ করা হয়। শেষে গিয়ে উনি, সংসদকে ফাংশনিং করার জন্য বর্তমান জ্বালানি অব্যবস্থাপনা সংকট যেটাই বলি, সেইটার ক্ষেত্রে আমরা এগিয়ে এসেছিলাম, কথা বলেছি, নোটিশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং পরের দিন এসে প্রধানমন্ত্রী একটা প্রস্তাব দিয়েছে, আমরা সঙ্গে সঙ্গে এটা গ্রহণ করেছি। তিনি এটাকে শেষ পর্যন্ত কনক্লুশন কী দিয়েছেন? যার মগজ যেরকম তার কনক্লুশনও হবে তার মতো। একজন প্রবীণ ব্যক্তি ও রাজনীতিবিদের কাছ থেকে আমি এই ধরনের আচরণ আশা করিনি।

আরও পড়ুনঃ  বিএনপির অশিক্ষিত ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত: আসিফ মাহমুদ

 

জামায়াতের আমির বলেন, “আমরা প্রথম দিনই বলেছি, ভালো কিছু শিখতে এসেছি। কাউকে হিট করা, গালি দেওয়ার মাধ্যমে বড় কিছু অর্জন করা যাবে না। কিছু গলাবাজি হতে পারে বড় জোর, কিন্তু তার চাইতে বেশি কিছু হবে না। আর সাধারণত যুক্তি যখন ফুরিয়ে যায়, মাথা তখন গরম হয়ে যায়। একটা প্রবাদ আছে রেগে গেলেন তো হেরেই গেলেন। আমরা সবাই মিলে হাঁটতে চাই না, আমরা সবাই মিলে জিততে চাই। এজন্য সবাই যেন মাথাটা একটু ঠাণ্ডা রেখে যুক্তির সঙ্গে সত্যনির্ভর কথাগুলো বলি। তাতে অবশ্যই দেশবাসী উজ্জীবিত হবে। এই সংসদের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হবে এবং দেশটাকে নিয়ে সবাই মিলে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে পারবো। শফিকুর রহমানের বক্তব্য শেষে স্পিকার বলেন, “সংসদ সদস্যদের বক্তব্যে যদি কোনও অসংসদীয় শব্দ বা অংশ থাকে, তবে তা কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী এক্সপাঞ্জ করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  জামায়াত নেতারা অপপ্রচার, মিথ্যাচার করে: রিজভী
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সমবায়কে উপেক্ষা করে পল্লী উন্নয়ন নয়: জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস কমিটিতে ইউসিসিএ সভাপতিদের বাদ দেওয়া কেন উদ্বেগজনক

সংসদে ফজলুর রহমানের করা মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ: ড. শফিকুর রহমান

আপডেটের সময়: ০৭:২২:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জাতীয় সংসদে নিজের পারিবারিক পরিচয় ও রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে করা মন্তব্যের জেরে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিনে ফজলুর রহমানের বক্তব্যের পরপরই দাঁড়িয়ে তিনি এ প্রতিবাদ জানান। এ সময় নিজের রাজনৈতিক অধিকার এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য হিসেবে তার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “শ্রদ্ধা রেখেই বলতে চাই, মাননীয় সংসদ সদস্য বয়সে আমার বড়, তিনি মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান সবকিছুই বলেছেন। কিন্তু নিজের অবদান বলতে গিয়ে আরেকজনের অবদানের ওপর হাতুড়ি পেটানোর অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর পদত্যাগ, পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন আলোচনা

 

শফিকুর রহমান বলেন, তিনি পার্সোনালি আমাকে অ্যাটাক করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি বলে থাকি, আমি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য। উনি এটাকে চ্যালেঞ্জ করছেন। দুই নম্বর উনি বলেছেন, কোনও মুক্তিযোদ্ধা কিংবা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াত ইসলামী করতে পারে না। তাহলে কি উনাকে জিজ্ঞেস করা লাগবে। এটি আমার নাগরিক অধিকার। আমি কোন দল করবো, কোন আদর্শ অনুসরণ করবো? এর ওপর হস্তক্ষেপ করার ন্যুনতম কোনও অধিকার রাষ্ট্র কিংবা সংবিধান কাউকে দেয়নি। আমি এটার তীব্র নিন্দা জানাই। আমার আইডেন্টিটি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, এটা গুরুতর অপরাধ করেছেন। আবার আমার আদর্শ সিলেকশনের ব্যাপারে উনি কথা বলেছেন, এটা বাড়তি অপরাধ করেছেন। তিনি আরও বলেন, “আমি অনুরোধ করবো মাননীয় স্পিকার, তার এই অসংসদীয় অংশটা এখান থেকে যেন এক্সপাঞ্জ করা হয়। শেষে গিয়ে উনি, সংসদকে ফাংশনিং করার জন্য বর্তমান জ্বালানি অব্যবস্থাপনা সংকট যেটাই বলি, সেইটার ক্ষেত্রে আমরা এগিয়ে এসেছিলাম, কথা বলেছি, নোটিশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং পরের দিন এসে প্রধানমন্ত্রী একটা প্রস্তাব দিয়েছে, আমরা সঙ্গে সঙ্গে এটা গ্রহণ করেছি। তিনি এটাকে শেষ পর্যন্ত কনক্লুশন কী দিয়েছেন? যার মগজ যেরকম তার কনক্লুশনও হবে তার মতো। একজন প্রবীণ ব্যক্তি ও রাজনীতিবিদের কাছ থেকে আমি এই ধরনের আচরণ আশা করিনি।

আরও পড়ুনঃ  সংসদে মন্ত্রীদের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আমার: তাহের

 

জামায়াতের আমির বলেন, “আমরা প্রথম দিনই বলেছি, ভালো কিছু শিখতে এসেছি। কাউকে হিট করা, গালি দেওয়ার মাধ্যমে বড় কিছু অর্জন করা যাবে না। কিছু গলাবাজি হতে পারে বড় জোর, কিন্তু তার চাইতে বেশি কিছু হবে না। আর সাধারণত যুক্তি যখন ফুরিয়ে যায়, মাথা তখন গরম হয়ে যায়। একটা প্রবাদ আছে রেগে গেলেন তো হেরেই গেলেন। আমরা সবাই মিলে হাঁটতে চাই না, আমরা সবাই মিলে জিততে চাই। এজন্য সবাই যেন মাথাটা একটু ঠাণ্ডা রেখে যুক্তির সঙ্গে সত্যনির্ভর কথাগুলো বলি। তাতে অবশ্যই দেশবাসী উজ্জীবিত হবে। এই সংসদের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হবে এবং দেশটাকে নিয়ে সবাই মিলে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে পারবো। শফিকুর রহমানের বক্তব্য শেষে স্পিকার বলেন, “সংসদ সদস্যদের বক্তব্যে যদি কোনও অসংসদীয় শব্দ বা অংশ থাকে, তবে তা কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী এক্সপাঞ্জ করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  জামায়াত নেতারা অপপ্রচার, মিথ্যাচার করে: রিজভী