Dhaka ১১:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কাহালুতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু কেরানীগঞ্জে ফার্নিচার শোরুমের ৩ তলা থেকে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার হোসেনপুরের উন্নয়নে কর্মকর্তাদের সাথে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের বৈঠক শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্ত স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টঃ উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক পরিষদ গঠিত বৃষ্টি ছাড়াই বজ্রপাত, ঠাকুরগাঁওয়ে গরুর মৃত্যু মোংলায় ভুয়া র‍্যাব পরিচয়কারী আটক গোবিন্দগঞ্জে মাদকসহ ২ জন কে ৩৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বগুড়ার সাবেক পৌর প্রশাসক রাজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ ভোলায় ফ্ল্যাট থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক কাউনিয়ার কুর্শায় নারী কৃষকদের উৎপাদিত দেশি হাঁস-মুরগি ও ডিমের হাট উদ্বোধন

ভেজাল খাদ্যে বাড়ছে নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৮:৩৪:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৩৩ সময় দেখুন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাজারে ভেজাল খাদ্যের বিস্তার এখন আর গুঞ্জন নয়, বাস্তব উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া খাদ্যপণ্যের বড় একটি অংশেই ভেজাল ও ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি মিলছে। সাম্প্রতিক উপাত্ত বলছে, পরিস্থিতি এখন আর বিচ্ছিন্ন অনিয়ম নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় সংকেত। ফল, শাকসবজি, চাল, হলুদ, লবণ, মাছ ও মুরগি, প্রায় সবখানেই ঝুঁকির ছাপ স্পষ্ট। চলতি সপ্তাহে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ-এর কর্মকর্তারা চুয়াডাঙ্গায় ‘মৌসুমি ফুড’ নামের কারখানায় অভিযান চালান। এসময় কারখানায় খাবার তৈরির ডালডার ভেতরে মৃত ইঁদুর ভাসতে দেখা গেছে। একই কারখানায় ডালডা দিয়ে তৈরি হচ্ছিল বিভিন্ন নাস্তা। একই সময় শহরের রেলবাজার এলাকার ‘অনন্যা ফুড’ থেকে বাজারজাতের প্রস্তুত মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য জব্দ করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে গিয়ে এমন চিত্র দেখে জরিমানা করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই দিনে আরেকটি প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য জব্দ করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, শুধু এই দুটি ঘটনা নয়, বাজারজুড়ে ভেজাল খাদ্যের বিস্তার উদ্বেগজনক।

আরও পড়ুনঃ  ঈদ-পরবর্তী সময়েও পর্যটকদের পদচারণায় মুখর বান্দরবান

 

ইফতারি হিসেবে বিক্রি হওয়া রঙিন পানীয় ও খাবারে খাদ্যোপযোগী রংয়ের পরিবর্তে শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত ক্ষতিকর রং মেশানো হচ্ছে। পিয়াজু, বেগুনি ও অন্যান্য ভাজাপোড়া বারবার পোড়া তেলে তৈরি হচ্ছে। এতে লিভার ও কিডনি রোগ, ক্যানসার, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও ত্বকের রোগের ঝুঁকি বাড়ছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বাজারে পাওয়া ৮২টি খাদ্যপণ্যের গড়ে ৪০ শতাংশে ভেজাল বা ক্ষতিকর উপাদান শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ইউরোপীয় মানের তুলনায় ৩ থেকে ২০ গুণ বেশি ডিডিটি, টক্সিন ও কীটনাশকের উপস্থিতি মিলেছে। একই উপাত্তে দেখা গেছে, বাজারের ৩৫ শতাংশ ফলে ও ৫০ শতাংশ শাকসবজিতে রাসায়নিক অবশিষ্ট রয়েছে। ১৩টি চালের নমুনায় অতিমাত্রায় আর্সেনিক, ৫টিতে ক্রোমিয়াম, হলুদের ৩০টি নমুনায় সীসা ও অন্যান্য ভারী ধাতু পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুনঃ  বন্ধ কারখানায় বিনিয়োগ টানতে রোড শো করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

 

লবণে নিরাপদ মাত্রার চেয়ে ২০ থেকে ৫০ গুণ বেশি সীসা শনাক্ত হয়েছে। মাছ ও মুরগিতেও ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি মিলেছে। কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন-এর গবেষণায় দেখা গেছে, বাজারের ৮৫ শতাংশ ফল পাকানো হয় কার্বাইড, ইথোফেন ও ফরমালিন ব্যবহার করে। জাতীয় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, মানহীন খাদ্যের সংখ্যা এক বছরে ৮১ থেকে বেড়ে ১৯৯-এ দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ভেজালের দ্রুত বিস্তারের ইঙ্গিত। ফরমালিন, যা মূলত মৃতদেহ সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়, মাছ বা ফল টাটকা রাখতে ব্যবহার করা হলে তা শরীরে প্রবেশ করে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। কার্বাইড ও ইথোফেন দিয়ে ফল পাকালে এর সক্রিয় উপাদান স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলে এবং পাকস্থলী ও লিভারের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত করে। মুরগি বা গবাদিপশুকে দ্রুত বড় করতে অতিরিক্ত বৃদ্ধিকারক হরমোন প্রয়োগ করলে সেই হরমোন খাদ্যের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ঢ়ুকে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। এতে ক্যানসার, বন্ধ্যাত্ব, শিশুদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ত্বকের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।

আরও পড়ুনঃ  ঈদ উদযাপন শেষে সচিবালয়ে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

কাহালুতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু

ভেজাল খাদ্যে বাড়ছে নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি

আপডেটের সময়: ০৮:৩৪:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাজারে ভেজাল খাদ্যের বিস্তার এখন আর গুঞ্জন নয়, বাস্তব উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া খাদ্যপণ্যের বড় একটি অংশেই ভেজাল ও ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি মিলছে। সাম্প্রতিক উপাত্ত বলছে, পরিস্থিতি এখন আর বিচ্ছিন্ন অনিয়ম নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় সংকেত। ফল, শাকসবজি, চাল, হলুদ, লবণ, মাছ ও মুরগি, প্রায় সবখানেই ঝুঁকির ছাপ স্পষ্ট। চলতি সপ্তাহে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ-এর কর্মকর্তারা চুয়াডাঙ্গায় ‘মৌসুমি ফুড’ নামের কারখানায় অভিযান চালান। এসময় কারখানায় খাবার তৈরির ডালডার ভেতরে মৃত ইঁদুর ভাসতে দেখা গেছে। একই কারখানায় ডালডা দিয়ে তৈরি হচ্ছিল বিভিন্ন নাস্তা। একই সময় শহরের রেলবাজার এলাকার ‘অনন্যা ফুড’ থেকে বাজারজাতের প্রস্তুত মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য জব্দ করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে গিয়ে এমন চিত্র দেখে জরিমানা করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই দিনে আরেকটি প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য জব্দ করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, শুধু এই দুটি ঘটনা নয়, বাজারজুড়ে ভেজাল খাদ্যের বিস্তার উদ্বেগজনক।

আরও পড়ুনঃ  নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে বাংলাদেশ

 

ইফতারি হিসেবে বিক্রি হওয়া রঙিন পানীয় ও খাবারে খাদ্যোপযোগী রংয়ের পরিবর্তে শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত ক্ষতিকর রং মেশানো হচ্ছে। পিয়াজু, বেগুনি ও অন্যান্য ভাজাপোড়া বারবার পোড়া তেলে তৈরি হচ্ছে। এতে লিভার ও কিডনি রোগ, ক্যানসার, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও ত্বকের রোগের ঝুঁকি বাড়ছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বাজারে পাওয়া ৮২টি খাদ্যপণ্যের গড়ে ৪০ শতাংশে ভেজাল বা ক্ষতিকর উপাদান শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ইউরোপীয় মানের তুলনায় ৩ থেকে ২০ গুণ বেশি ডিডিটি, টক্সিন ও কীটনাশকের উপস্থিতি মিলেছে। একই উপাত্তে দেখা গেছে, বাজারের ৩৫ শতাংশ ফলে ও ৫০ শতাংশ শাকসবজিতে রাসায়নিক অবশিষ্ট রয়েছে। ১৩টি চালের নমুনায় অতিমাত্রায় আর্সেনিক, ৫টিতে ক্রোমিয়াম, হলুদের ৩০টি নমুনায় সীসা ও অন্যান্য ভারী ধাতু পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুনঃ  ঈদ-পরবর্তী সময়েও পর্যটকদের পদচারণায় মুখর বান্দরবান

 

লবণে নিরাপদ মাত্রার চেয়ে ২০ থেকে ৫০ গুণ বেশি সীসা শনাক্ত হয়েছে। মাছ ও মুরগিতেও ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি মিলেছে। কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন-এর গবেষণায় দেখা গেছে, বাজারের ৮৫ শতাংশ ফল পাকানো হয় কার্বাইড, ইথোফেন ও ফরমালিন ব্যবহার করে। জাতীয় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, মানহীন খাদ্যের সংখ্যা এক বছরে ৮১ থেকে বেড়ে ১৯৯-এ দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ভেজালের দ্রুত বিস্তারের ইঙ্গিত। ফরমালিন, যা মূলত মৃতদেহ সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়, মাছ বা ফল টাটকা রাখতে ব্যবহার করা হলে তা শরীরে প্রবেশ করে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। কার্বাইড ও ইথোফেন দিয়ে ফল পাকালে এর সক্রিয় উপাদান স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলে এবং পাকস্থলী ও লিভারের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত করে। মুরগি বা গবাদিপশুকে দ্রুত বড় করতে অতিরিক্ত বৃদ্ধিকারক হরমোন প্রয়োগ করলে সেই হরমোন খাদ্যের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ঢ়ুকে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। এতে ক্যানসার, বন্ধ্যাত্ব, শিশুদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ত্বকের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।

আরও পড়ুনঃ  পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর পদত্যাগ, পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন আলোচনা