
লালপুর উপজেলা (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের সিংড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মহিষমারী কেন্দ্রীয় শাহী জামে মসজিদ আজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) প্রতিষ্ঠার ১০০ বছর পূর্ণ করেছে। ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন এই মসজিদটি দীর্ঘ এক শতাব্দী ধরে স্থানীয় মুসল্লিদের নামাজ আদায় ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) মসজিদ প্রাঙ্গণে বিশেষ দোয়া ও মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় মুসল্লি, প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন হাজীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ৬৫০ থেকে ৭০০ মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে মহিষমারী শাহী জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি স্বাগত বক্তব্যে বলেন, “দীর্ঘ ১০০ বছর ধরে এই মসজিদ এলাকার মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। শতবর্ষ পূর্তি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। যারা এই মসজিদ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, মহান আল্লাহ যেন তাঁদের সবাইকে উত্তম প্রতিদান দেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও মসজিদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
মাহফিলে মসজিদের শত বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের স্মরণ করে তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। চামারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান স্বপন মোল্লা বলেন, “মহিষমারী শাহী জামে মসজিদ শুধু একটি ইবাদতের স্থান নয়, এটি আমাদের এলাকার শত বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই মসজিদে মানুষ নামাজ আদায় করেছেন, দোয়া করেছেন। শতবর্ষ পূর্তির এই আয়োজন আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মসজিদটির ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি এর উন্নয়ন ও সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আলহাজ্ব অধ্যাপক নুর নবী ফারুক বলেন, “১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই মসজিদটি এলাকার মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। শত বছর ধরে অসংখ্য মানুষ এখানে ইবাদত-বন্দেগি করেছেন। এই মসজিদের সঙ্গে আমাদের আবেগ, স্মৃতি ও ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে। মহান আল্লাহ যেন এই মসজিদকে কেয়ামত পর্যন্ত কবুল করেন এবং এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে উত্তম প্রতিদান দান করেন।
স্থানীয়রা জানান, ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মসজিদটি এলাকার মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে। শত বছরে অসংখ্য মানুষ এই মসজিদে নামাজ আদায়, ইবাদত ও দোয়া করেছেন। সময়ের সঙ্গে মসজিদের অবকাঠামোতে পরিবর্তন এলেও এর ঐতিহ্য ও ধর্মীয় গুরুত্ব অটুট রয়েছে। শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা, পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গ এবং প্রয়াত মুসল্লিদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। পাশাপাশি মসজিদটির উন্নয়ন, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতেও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে এর ভূমিকা অব্যাহত রাখার জন্য দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত মুসল্লিরা মসজিদটির শত বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মহান আল্লাহর কাছে মসজিদটি কেয়ামত পর্যন্ত কবুল ও সংরক্ষিত রাখার জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
প্রতিবেদকের নাম 


















