
মোঃরাসেল বিশেষ প্রতিনিধি: কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নে চাঞ্চল্যকর ডাকাতি ও মা-মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার মূলহোতা ও প্রধান অভিযুক্ত জিসানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) পুলিশের একটি চৌকস দল দীর্ঘ অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা নজরদারির পর বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসে। পুলিশের তদন্ত দল জানায়, মামলার প্রধান আসামি জিসান গ্রেফতার এড়াতে ঘন ঘন তার অবস্থান পরিবর্তন করছিল। গতকাল গোপন সংবাদ আসে যে, জিসান উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের বটতলী এলাকায় আত্মগোপন করে আছে। খবর পাওয়া মাত্রই চকরিয়া ও মাতামুহুরী থানা পুলিশের একাধিক টিম সমন্বিতভাবে পুরো এলাকা ঘেরাও করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জিসান পালানোর চেষ্টা করলেও ধাওয়া করে তাকে ধরে ফেলে আভিযানিক দল।
অভিযান শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) গণমাধ্যমকে জানান, “জিসান এই জঘন্য অপরাধের মূল পরিকল্পনাকারী এবং মাঠ পর্যায়ের মূলহোতা। সে অস্ত্র ও ডাকাতির মামলায় এর আগেও জেল খেটেছে। জামিনে বের হয়েই সে পুনরায় এই দলবদ্ধ অপরাধ সংগঠিত করে। তাকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে এই মামলার সমস্ত প্রধান আসামিকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হলো। জিসানকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সাথে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। আজ শনিবার তাকে সুনির্দিষ্ট রিমান্ড আবেদনসহ কক্সবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে। উল্লেখ্য, গত জুন মাসের শুরুর দিকে পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ডলনীঘোনা এলাকার একটি প্রবাসী পরিবারে মধ্যরাতে জানালার গ্রিল কেটে একদল সশস্ত্র ডাকাত প্রবেশ করে। ডাকাতদল পরিবারের সবাইকে মারধর ও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মালামাল লুট করে। লুটপাটের একপর্যায়ে ওই বাড়ির গৃহবধূ ও তার কিশোরী স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে নির্মমভাবে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে রেজাউল, মেহেদী, বাবু, কেফায়েতসহ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ৬ জনকে আটক করে আদালতে পাঠায়।
এদিকে ঘটনার পর দ্রুততম সময়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মূলহোতাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসায় মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ-এর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। একই সাথে তারা এই অপরাধের সাথে জড়িত প্রত্যেক আসামির সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, “অপরাধীর কোনো দলীয় বা সামাজিক পরিচয় হতে পারে না; অপরাধীর একমাত্র পরিচয় সে একজন সমাজবিরোধী অপরাধী।” এলাকায় স্থায়ী শান্তি, শৃঙ্খলা এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এমন আপসহীন ও কঠোর ভূমিকা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
প্রতিবেদকের নাম 



















