
আঃ খালেক,গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রতিনিধি (সিলেট)
হাতে কলম নিয়ে বিদ্যালয়ের বেঞ্চে বসে থাকার কথা যার, সেই কচি বয়সে এখন তার কাঁধে সংসারের বিশাল ভারী বোঝা। বলছি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ছোট্ট শিশু আশিকের কথা। বাবার গুরুতর অসুস্থতা আর চরম অভাবের তাড়নায় শৈশব হারিয়ে সে এখন বসেছে বাবার ছোট্ট মুদি দোকানে।হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ১০ নং পশ্চিম আলীর গাঁও ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বুধিগাঁও হাওড় আনন্দ বাজার এলাকায়। আজ শুক্রবার ৬ নভেম্বর
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনন্দ বাজারের ছোট্ট একটি মুদি দোকানের মালিক মো. দলো মিয়া। চার কন্যা ও এক ছেলের জনক দলো মিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। বর্তমানে তিনি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। তার চরম শারীরিক দুরবস্থা । এদিকে পরিবারে উপার্জনক্ষম আর কোনো পুরুষ মানুষ না থাকায় এবং সংসারের অন্য কোনো আয়ের পথ না থাকায় অথৈ জলে পড়ে পরিবারটি।
সংসারের অভাবের অনল নেভাতে এবং অসুস্থ বাবার চিকিৎসার খরচ জোগাতে বাধ্য হয়েই পড়াশোনা পাশাপাশি দোকান সামলানোর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছোট্ট শিশু আশিক। যে বয়সে বন্ধুদের সাথে মাঠে খেলার কথা, বই-খাতা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা, সে বয়সে আশিক এখন দোকানের পাটাতনে বসে ক্রেতার অপেক্ষায় থাকে। বাবার শূন্য স্থানটিতে বসে তার এই পানে চেয়ে থাকা দৃশ্যটি যে কাউকে কাঁদাবে। অসুস্থ বাবার কষ্ট আর পরিবারের এমন করুণ দশা শিশুটির অবুঝ মনকে করে তুলেছে ভারাক্রান্ত।
স্থানীয়রা জানান, দলো মিয়ার পরিবারটি এখন অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছে। একদিকে প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তির গুরুতর অসুস্থতা, অন্যদিকে এক এক করে চার মেয়ে ও এক ছেলের অন্নসংস্থান—সবমিলিয়ে এক গভীর সংকটে পড়েছে পরিবারটি। সমাজের বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল মানুষের একটু সহযোগিতা পেলে হয়তো বেঁচে যেতে পারে দলো মিয়ার জীবন, আর রক্ষা পেতে পারে এই অসহায় শিশুটির ভবিষ্যৎ।
প্রতিবেদকের নাম 



















