Dhaka ০৬:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বান্দরবানে উন্নয়ন ও সমন্বয় জোরদারে বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দ্রুতই প্রাথমিকে ৬০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ: শিক্ষামন্ত্রী মার্কিন নৌ-অবরোধ না তুললে লোহিত সাগরের বাণিজ্য পথ বন্ধের হুমকি ইরানের উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ২০০ কোটি ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী এসএসসি ও এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষা নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে হোসেনপুরে মতবিনিময় সভা ডলুপাড়ায় সাংগ্রাইয়ের জলকেলি: মন্ত্রী-এমপির উপস্থিতিতে সম্প্রীতির মহোৎসব লাল মুক্তিবার্তা ও ভারতীয় তালিকা থেকে ৬৪৭৬ ‘ভুয়া’ মুক্তিযোদ্ধা বাদ ধামইরহাটে স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এলজিইডি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: নীরব দপ্তর, ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয়রা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫

শীতে আশঙ্কাজনক হারে আগুনে পোড়া রোগী বাড়ছে

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১১:৪৬:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৬৩ সময় দেখুন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ তীব্র শীতের সাথে পাল্লা দিয়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে আগুনে পোড়া রোগী। কিন্তু চিকিৎসা সঙ্কট তীব্র। তাছাড়া শীতের কারণে পোড়া রোগী সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের এক হিসাবে দেখা গেছে, শীতে দিনে গড়ে ২৪২ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। মূলত শীতকালে উষ্ণতা পেতে আগুনের ব্যবহার বেড়ে যায়। রান্নার চুলায় আগুন পোহানো, কাপড় শুকানো, গরম পানি ব্যবহার থেকে দুর্ঘটনা ঘটছে। কেউ গরম পানি, চা, দুধ বা তরকারিতে পুড়ছে; কেউ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ বা বিদ্যুৎস্পর্শে দগ্ধ হচ্ছে। জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সারাদেশে দগ্ধ রোগীর চিকিৎসা দেয়া হয় মাত্র ১৭টি হাসপাতালে। আর যেখানে চিকিৎসক আছেন প্রায় ১০০ জন। কিন্তু জেলা ও উপজেলা সরকারি হাসপাতালে পোড়া রোগীর জন্য কোনো সৃষ্ট পদ নেই। ফলে গোল্ডেন আওয়ারে চিকিৎসা না পেয়ে অনেক রোগীর মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে। আর কেউ কেউ আজীবন পঙ্গুত্ব বরণ করছে। যদিও দেশে পোড়া রোগীকে দ্রুত সেবা দিতে সিলেট, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নানা জটিলতায় পিছিয়ে যাচ্ছে প্রকল্পটি। সংশোধিত প্রস্তাবে খরচ ধরা হয়েছে ৮১৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা। আর মেয়াদ বাড়িয়ে তা ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা ৬০০

সূত্র জানায়, প্রথম ৬ থেকে ২৪ ঘণ্টা পোড়া রোগীর চিকিৎসায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যা গোল্ডেন আওয়ার নামে পরিচিত। কিন্তু জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষায়িত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে অন্তত ৫০ শতাংশ রোগী সময়মতো চিকিৎসা পাচ্ছে না। তাতে জটিলতা বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে প্রাণহানির ঝুঁকিও। বার্ন ইনস্টিটিউটে গত বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮৮ হাজার ২৩০ জন দগ্ধ রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। ওই হিসাবে বার্ন ইনস্টিটিউটেই দিনে চিকিৎসা নিতে এসেছে ২৪২ জন। ৫০০ শয্যার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের ২০ শয্যার আইসিইউ, ২২ শয্যার মেল এইচডিইউ এবং ৩০ শয্যার ফিমেল এইচডিইউসহ মোট ৭২টি নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র রয়েছে। শীতে দুর্ঘটনা বাড়ায় গড়ে দৈনিক গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে। তার মধ্যে ৪০ শতাংশ ঢাকার বাইরে থেকে আসছে। দগ্ধদের ৬০ শতাংশই শিশু ও নারী। তাছাড়া ঢামেকের ১০০ শয্যার বার্ন ইনস্টিটিউটেও প্রায় সমান সংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  ডা. কামরুলের হাসপাতালে চাঁদা দাবি: মূলহোতা মঈনসহ গ্রেফতার ৭

এদিকে এ বিষয়ে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান জানান, দেশে সাধারণত বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে সবচেয়ে বেশি দগ্ধের ঘটনা ঘটে। তাছাড়া রয়েছে গরম তরলে পুড়ে যাওয়া (স্ক্যাল্ড বার্ন), সরাসরি আগুনে পোড়া (ফ্লেম বার্ন) ও রাসায়নিক দগ্ধ। তবে শীতের সময় গরম পানি ও আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধের ঘটনা বেশি ঘটছে।

আরও পড়ুনঃ  লাল মুক্তিবার্তা ও ভারতীয় তালিকা থেকে ৬৪৭৬ ‘ভুয়া’ মুক্তিযোদ্ধা বাদ

অন্যদিকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন জানান, শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দগ্ধ রোগীর ভিড় বেড়েছে হাসপাতালে, বিশেষ করে শিশুরা আসছে গরম পানিতে দগ্ধ হয়ে। আর বয়স্ক ও নারীরা আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হচ্ছে। পোড়া কোনো রোগ নয়, এটি দুর্ঘটনা। প্রতিবছর দেশে কয়েক লাখ মানুষ অগ্নিদুর্ঘটনার শিকার হয়। অনেকের চিকিৎসা দুই বছর পর্যন্ত চলতে পারে। কিন্তু উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে এখনও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ওই কারণে ঢাকাতে রোগীর চাপ বাড়ছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

বান্দরবানে উন্নয়ন ও সমন্বয় জোরদারে বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

শীতে আশঙ্কাজনক হারে আগুনে পোড়া রোগী বাড়ছে

আপডেটের সময়: ১১:৪৬:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ তীব্র শীতের সাথে পাল্লা দিয়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে আগুনে পোড়া রোগী। কিন্তু চিকিৎসা সঙ্কট তীব্র। তাছাড়া শীতের কারণে পোড়া রোগী সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের এক হিসাবে দেখা গেছে, শীতে দিনে গড়ে ২৪২ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। মূলত শীতকালে উষ্ণতা পেতে আগুনের ব্যবহার বেড়ে যায়। রান্নার চুলায় আগুন পোহানো, কাপড় শুকানো, গরম পানি ব্যবহার থেকে দুর্ঘটনা ঘটছে। কেউ গরম পানি, চা, দুধ বা তরকারিতে পুড়ছে; কেউ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ বা বিদ্যুৎস্পর্শে দগ্ধ হচ্ছে। জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সারাদেশে দগ্ধ রোগীর চিকিৎসা দেয়া হয় মাত্র ১৭টি হাসপাতালে। আর যেখানে চিকিৎসক আছেন প্রায় ১০০ জন। কিন্তু জেলা ও উপজেলা সরকারি হাসপাতালে পোড়া রোগীর জন্য কোনো সৃষ্ট পদ নেই। ফলে গোল্ডেন আওয়ারে চিকিৎসা না পেয়ে অনেক রোগীর মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে। আর কেউ কেউ আজীবন পঙ্গুত্ব বরণ করছে। যদিও দেশে পোড়া রোগীকে দ্রুত সেবা দিতে সিলেট, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নানা জটিলতায় পিছিয়ে যাচ্ছে প্রকল্পটি। সংশোধিত প্রস্তাবে খরচ ধরা হয়েছে ৮১৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা। আর মেয়াদ বাড়িয়ে তা ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ডা. কামরুলের হাসপাতালে চাঁদা দাবি: মূলহোতা মঈনসহ গ্রেফতার ৭

সূত্র জানায়, প্রথম ৬ থেকে ২৪ ঘণ্টা পোড়া রোগীর চিকিৎসায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যা গোল্ডেন আওয়ার নামে পরিচিত। কিন্তু জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষায়িত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে অন্তত ৫০ শতাংশ রোগী সময়মতো চিকিৎসা পাচ্ছে না। তাতে জটিলতা বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে প্রাণহানির ঝুঁকিও। বার্ন ইনস্টিটিউটে গত বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮৮ হাজার ২৩০ জন দগ্ধ রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। ওই হিসাবে বার্ন ইনস্টিটিউটেই দিনে চিকিৎসা নিতে এসেছে ২৪২ জন। ৫০০ শয্যার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের ২০ শয্যার আইসিইউ, ২২ শয্যার মেল এইচডিইউ এবং ৩০ শয্যার ফিমেল এইচডিইউসহ মোট ৭২টি নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র রয়েছে। শীতে দুর্ঘটনা বাড়ায় গড়ে দৈনিক গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে। তার মধ্যে ৪০ শতাংশ ঢাকার বাইরে থেকে আসছে। দগ্ধদের ৬০ শতাংশই শিশু ও নারী। তাছাড়া ঢামেকের ১০০ শয্যার বার্ন ইনস্টিটিউটেও প্রায় সমান সংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  তেল আছে শুধু সংসদে: ডা. শফিকুর রহমান

এদিকে এ বিষয়ে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান জানান, দেশে সাধারণত বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে সবচেয়ে বেশি দগ্ধের ঘটনা ঘটে। তাছাড়া রয়েছে গরম তরলে পুড়ে যাওয়া (স্ক্যাল্ড বার্ন), সরাসরি আগুনে পোড়া (ফ্লেম বার্ন) ও রাসায়নিক দগ্ধ। তবে শীতের সময় গরম পানি ও আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধের ঘটনা বেশি ঘটছে।

আরও পড়ুনঃ  গণভোটের রায় বাস্তবায়নে প্রয়োজনে আবারও জীবন দেবো: ডা. শফিকুর রহমান

অন্যদিকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন জানান, শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দগ্ধ রোগীর ভিড় বেড়েছে হাসপাতালে, বিশেষ করে শিশুরা আসছে গরম পানিতে দগ্ধ হয়ে। আর বয়স্ক ও নারীরা আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হচ্ছে। পোড়া কোনো রোগ নয়, এটি দুর্ঘটনা। প্রতিবছর দেশে কয়েক লাখ মানুষ অগ্নিদুর্ঘটনার শিকার হয়। অনেকের চিকিৎসা দুই বছর পর্যন্ত চলতে পারে। কিন্তু উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে এখনও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ওই কারণে ঢাকাতে রোগীর চাপ বাড়ছে।