Dhaka ০৫:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কুড়িগ্রামে ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা ও ভ্যাকসিন কার্যক্রম সাঘাটায় বজ্রপাতে মা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু, ছয় মাসের শিশুকে নিয়ে দিশেহারা পুত্রবধূ বগুড়া শহর বাইপাস করে নতুন রেলপথের উদ্যোগ কেন্দুয়ায় ৫শ টাকা পাওনার বিরোধে একজনকে কুপিয়ে হত্যা! মা-ছেলে আটক পবায় গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বার্ষিক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত মাদারগঞ্জে নিজ ঘরে বিষাক্ত সাপের কামড়ে, ছোট্ট শিশুর মৃত্যু ধমকিয়ে-পিটিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না: মির্জা ফখরুল নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে বাংলাদেশ বিদ্যুতের দাম বাড়লো ফ্ল্যাটে মায়ের নিঃসঙ্গ মৃত্যু ছেলে সেই যুগ্মসচিবকে প্রত্যাহার

ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টা

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৪:৩০:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৭২ সময় দেখুন

মোঃ সাকিবুল ইসলাম: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা–২০২৬’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তরুণরা রাজনীতি করছে, আমি আশা করি তাদের অনেকেই নির্বাচনে জয়ী হবে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন, জুলাই চার্টার তৈরি হয়েছে, ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ।

সম্মেলনের মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরে তিনি বলেন রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক বিভাজন ও ভুল নীতির কারণে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সম্ভাবনাগুলো অনেক সময় কাজে লাগানো যায় না। শিক্ষা এই অঞ্চলের তরুণদের পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম করে তুলবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, শিক্ষা কেবল চাকরির উপযোগী জনশক্তি তৈরি করা নয় বরং সৃজনশীল স্বাধীন চিন্তাশীল ও উদ্ভাবনী মানুষ গড়ে তোলা। মানুষ জন্মগতভাবে সৃজনশীল হলেও প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা অনেক সময় সেটি দমন করে কেবল চাকরির প্রস্তুতিতে সীমাবদ্ধ করে ফেলে।

আরও পড়ুনঃ  নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে বাংলাদেশ

তিনি বলেন চাকরির হাতিয়ার হিসেবে দেখলে শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের সৃজনশীলতা জাগ্রত করা এবং তাকে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শেখানো। তিনি আরও বলেন শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, বরং উদ্যোক্তা মানসিকতা, কল্পনাশক্তি ও নতুন কিছু তৈরিতে আগ্রহ সৃষ্টি করাতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  বিএনপির অশিক্ষিত ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত: আসিফ মাহমুদ

দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলনটি আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। সম্মেলনে যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিসহ মোট ৩০ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের আওতায় এই সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে।

দেশের উচ্চশিক্ষাকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করা এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর উচ্চশিক্ষা কমিশন নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করতে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে মোট ৮টি সেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দিনে ‘দক্ষিণ এশিয়ায় উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা, সুশাসন ও গুণগতমান এবং অন্তর্ভুক্তি’ এবং ‘গবেষণা, উদ্ভাবন, স্থায়িত্ব এবং সামাজিক সম্পৃক্ততা’ শীর্ষক দু’টি সেশন থাকবে।

আরও পড়ুনঃ  কুলিয়ারচরে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী ও একজন সিএনজি চালক নিহত

দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সমন্বয়, ডিজিটাল রূপান্তর এবং স্মার্ট লার্নিং ইকোসিস্টেম’, ‘গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা’, উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ পথরেখা : সহযোগিতা, সহমর্মিতা এবং নেটওয়ার্কিং’, ‘উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে অংশীজনদের সংলাপ : সুশীল সমাজের কণ্ঠস্বর’ এবং ‘উপাচার্যদের সাথে সংলাপ: হিট প্রকল্পের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক সেশন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের শেষ দিনে ‘উচ্চশিক্ষায় জেন্ডার ইস্যু’ নিয়ে আলোচনা শেষে ‘ঢাকা হায়ার এডুকেশন ডিক্লারেশন’ বা ঢাকা ঘোষণার মাধ্যমে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

কুড়িগ্রামে ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা ও ভ্যাকসিন কার্যক্রম

ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেটের সময়: ০৪:৩০:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

মোঃ সাকিবুল ইসলাম: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা–২০২৬’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তরুণরা রাজনীতি করছে, আমি আশা করি তাদের অনেকেই নির্বাচনে জয়ী হবে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন, জুলাই চার্টার তৈরি হয়েছে, ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ।

সম্মেলনের মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরে তিনি বলেন রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক বিভাজন ও ভুল নীতির কারণে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সম্ভাবনাগুলো অনেক সময় কাজে লাগানো যায় না। শিক্ষা এই অঞ্চলের তরুণদের পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম করে তুলবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, শিক্ষা কেবল চাকরির উপযোগী জনশক্তি তৈরি করা নয় বরং সৃজনশীল স্বাধীন চিন্তাশীল ও উদ্ভাবনী মানুষ গড়ে তোলা। মানুষ জন্মগতভাবে সৃজনশীল হলেও প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা অনেক সময় সেটি দমন করে কেবল চাকরির প্রস্তুতিতে সীমাবদ্ধ করে ফেলে।

আরও পড়ুনঃ  বিদ্যুতের দাম বাড়লো

তিনি বলেন চাকরির হাতিয়ার হিসেবে দেখলে শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের সৃজনশীলতা জাগ্রত করা এবং তাকে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শেখানো। তিনি আরও বলেন শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, বরং উদ্যোক্তা মানসিকতা, কল্পনাশক্তি ও নতুন কিছু তৈরিতে আগ্রহ সৃষ্টি করাতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  ফ্ল্যাটে মায়ের নিঃসঙ্গ মৃত্যু ছেলে সেই যুগ্মসচিবকে প্রত্যাহার

দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলনটি আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। সম্মেলনে যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিসহ মোট ৩০ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের আওতায় এই সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে।

দেশের উচ্চশিক্ষাকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করা এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর উচ্চশিক্ষা কমিশন নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করতে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে মোট ৮টি সেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দিনে ‘দক্ষিণ এশিয়ায় উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা, সুশাসন ও গুণগতমান এবং অন্তর্ভুক্তি’ এবং ‘গবেষণা, উদ্ভাবন, স্থায়িত্ব এবং সামাজিক সম্পৃক্ততা’ শীর্ষক দু’টি সেশন থাকবে।

আরও পড়ুনঃ  বিএনপির অশিক্ষিত ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত: আসিফ মাহমুদ

দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সমন্বয়, ডিজিটাল রূপান্তর এবং স্মার্ট লার্নিং ইকোসিস্টেম’, ‘গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা’, উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ পথরেখা : সহযোগিতা, সহমর্মিতা এবং নেটওয়ার্কিং’, ‘উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে অংশীজনদের সংলাপ : সুশীল সমাজের কণ্ঠস্বর’ এবং ‘উপাচার্যদের সাথে সংলাপ: হিট প্রকল্পের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক সেশন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের শেষ দিনে ‘উচ্চশিক্ষায় জেন্ডার ইস্যু’ নিয়ে আলোচনা শেষে ‘ঢাকা হায়ার এডুকেশন ডিক্লারেশন’ বা ঢাকা ঘোষণার মাধ্যমে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটবে।