Dhaka ০৩:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সারাদেশের ন্যায় নীলফামারীতে বৃক্ষ রোপন লালপুরে মহিষের খামারের বর্জ্যে রাস্তা বেহাল: চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী দৈনিক আজকের জনবানীতে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে পৌর কর্তৃপক্ষ, অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার নির্দেশ টেকনাফে র‌্যাবের অভিযান, মালয়েশিয়া পাচারের আগে ৫ ভিকটিম উদ্ধার রাজশাহীর বাঘায় গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে ১ জনের মৃত্যু, গুরুতর আহত ১ জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় গিয়ে ফিরলেন লাশ হয়ে, কাঁদছে নবাবগঞ্জ ১০৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা ডিবি দক্ষিণ পুলিশ ভেদরগঞ্জে সচেতন মা, আপনি সেরা মা—শ্রেষ্ঠ অভিভাবক পুরস্কার ২০২৬ ধামইরহাটে মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন গণতন্ত্রের ভিত্তিতে রচিত আল-কুরআনবিরোধী সংবিধানই সমাজ ও রাষ্ট্রের মূল সমস্যা: ইসলামী সমাজ

চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে সরব স্বজনরা, শিশুমৃত্যুতে তোলপাড় বাঁশখালী হাসপাতাল

মোঃ সৈয়দ মিয়া (চট্টগ্রাম ব্যুরো)

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আয়াতুল ইসলাম (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার চিকিৎসায় অবহেলা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনার তদন্তের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুটির মৃত্যু হয়। আয়াতুল ইসলাম বাঁশখালী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছৈয়দ আহাদের ছেলে।

পরিবারের দাবি, শনিবার রাতে নিউমোনিয়ার উপসর্গ দেখা দিলে রাত ৮টার দিকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা নেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছিল বলেও তারা জানান। স্বজনদের অভিযোগ, রবিবার দুপুর পর্যন্ত শিশুটি স্বাভাবিক ছিল। পরে কর্তব্যরত এক নার্স ইনজেকশন প্রয়োগ করলে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুনঃ  সপ্তম শ্রেণির সেই স্বপ্ন, আজ আল-আজহারের পথে শওকত

তাদের অভিযোগ, চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কারণে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

অভিযোগের বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমা আক্তার বলেন, ঘটনার সময় তিনি জেলা পর্যায়ের একটি সভায় অংশ নিচ্ছিলেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে রোগীর চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা করেছেন। তার ভাষ্য, রোগীকে ভর্তি করার পর তিনজন চিকিৎসক পর্যায়ক্রমে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসায় কোনো গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবুও অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  লালপুরে মহিষের খামারের বর্জ্যে রাস্তা বেহাল: চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি বা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগও প্রাথমিক অনুসন্ধানে সত্য বলে মনে হয়নি। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত তথ্য জানা যাবে।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক জানান, শিশুটির মৃত্যুর পর স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সেখানে শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ  ফ্যাসিস্টদের ফিরিয়ে এনে বিচার চায় জনগণ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করা হবে।

এছাড়াও, শিশুটির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, কয়েকজন স্বজন জরুরি বিভাগে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে এ ঘটনায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সারাদেশের ন্যায় নীলফামারীতে বৃক্ষ রোপন

চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে সরব স্বজনরা, শিশুমৃত্যুতে তোলপাড় বাঁশখালী হাসপাতাল

আপডেটের সময়: ১০:৫৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

মোঃ সৈয়দ মিয়া (চট্টগ্রাম ব্যুরো)

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আয়াতুল ইসলাম (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার চিকিৎসায় অবহেলা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনার তদন্তের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুটির মৃত্যু হয়। আয়াতুল ইসলাম বাঁশখালী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছৈয়দ আহাদের ছেলে।

পরিবারের দাবি, শনিবার রাতে নিউমোনিয়ার উপসর্গ দেখা দিলে রাত ৮টার দিকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা নেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছিল বলেও তারা জানান। স্বজনদের অভিযোগ, রবিবার দুপুর পর্যন্ত শিশুটি স্বাভাবিক ছিল। পরে কর্তব্যরত এক নার্স ইনজেকশন প্রয়োগ করলে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুনঃ  মুরাদনগরে তারুণ্যের মানবিক দৃষ্টান্ত: আলোর মুখ দেখে কেঁদে ফেললেন বৃদ্ধা রোকেয়া

তাদের অভিযোগ, চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কারণে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

অভিযোগের বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমা আক্তার বলেন, ঘটনার সময় তিনি জেলা পর্যায়ের একটি সভায় অংশ নিচ্ছিলেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে রোগীর চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা করেছেন। তার ভাষ্য, রোগীকে ভর্তি করার পর তিনজন চিকিৎসক পর্যায়ক্রমে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসায় কোনো গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবুও অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  শরতের বিকেলে ব্যস্ত ধুনটের সোনাহাটা বাজার

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি বা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগও প্রাথমিক অনুসন্ধানে সত্য বলে মনে হয়নি। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত তথ্য জানা যাবে।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক জানান, শিশুটির মৃত্যুর পর স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সেখানে শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ  সপ্তম শ্রেণির সেই স্বপ্ন, আজ আল-আজহারের পথে শওকত

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করা হবে।

এছাড়াও, শিশুটির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, কয়েকজন স্বজন জরুরি বিভাগে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে এ ঘটনায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।