Dhaka ০৯:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সিরাজগঞ্জ সদরে ২৮৫.৭১ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত জলাশয় রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে: ইউএনও কাজ না করেই সাড়ে ৬ কোটি টাকার বিল! লোডশেডিংয়ে বাড়ছে জেনারেটর ব্যবহার বাড়ছে খরচের বোঝাও ভোলাতে গড়ে তোলা হবে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানা: প্রধানমন্ত্রী নাচোলে শিক্ষার মান উন্নয়নে অভিভাবক ও সুধী সমাবেশে অনুষ্ঠিত সুন্দরবনের পর্যটন স্পটে তিন দিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষ। ফ্যাসিস্টের হাত থেকে মুক্তি পেতে অনেক বেশি মূল্য দিয়েছি: রাষ্ট্রপতি হিলি কাস্টমসে দেড় টন মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ধ্বংস তাহিরপুর সীমান্তে অনুপ্রবেশ করে কয়লা আনতে ভারতে গিয়ে বাংলাদেশী যুবকের মৃত্যু দুর্নীতির অভিযোগ এনে মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে মানহানি করা হচ্ছে: আসিফ মাহমুদ

গাইবান্ধায় অকাল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া নুয়ে পড়েছে পাকা ধান

আঃ রাজ্জাক সরকার স্টাফ রিপোটার: গাইবান্ধায় কালবৈশাখী ঝড় ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে প্রান্তিক কৃষকের সোনালী স্বপ্ন এখন ফিকে হওয়ার পথে। জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দমকা হাওয়া ও ভারী বর্ষণে মাঠের পর মাঠ পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে ধানক্ষেত। বছরের প্রধান ফসল চোখের সামনে নষ্ট হতে দেখে দুশ্চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার হাজারো কৃষক।

 

​সরেজমিনে গাইবান্ধা সদর, সাঘাটা, সাদুল্যাপুর, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ, পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষত। উত্তরের হিমেল বাতাসের সাথে বৃষ্টির ঝাপটায় ধান গাছগুলো মাটির সাথে মিশে গেছে। বিশেষ করে যেসব জমির ধান পেকে সোনালী বর্ণ ধারণ করেছিল, সেগুলো নুয়ে পড়ায় দানা পচে যাওয়ার ও ঝরে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের কৃষক কলিম উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, “ঋণ করে তিন বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছি। ধান কাটার ঠিক আগ মুহূর্তে এই বৃষ্টি সব শেষ করে দিল। গাছ নুয়ে পড়ায় এখন ধান কাটার শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না, আর পাওয়া গেলেও দ্বিগুণ মজুরি দাবি করছে।

আরও পড়ুনঃ  বেদে পল্লীর উন্নয়নে খাসজমি, সেলাই মেশিন ও ৫ লাখ টাকা বিতরণ

​একই চিত্র দেখা গেছে পলাশবাড়ীর হরিনাবাড়ী এলাকায়। সেখানকার কৃষক মোবারক হোসেন জানান, নিচু এলাকার জমিতে পানি জমে থাকায় ধান পচতে শুরু করেছে। রোদ না থাকায় কেটে রাখা ধানও শুকাতে পারছেন না তারা। ফলে ঘরে তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।স্থানীয় কৃষকদের তথ্যমতে, স্বাভাবিক সময়ে বিঘাপ্রতি ধান কাটার খরচ ৩-৪ হাজার টাকা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ৫-৬ হাজার টাকা দিয়েও শ্রমিক মিলছে না। কাদা আর পানিতে নুয়ে পড়া ধান কাটতে শ্রমিকরা অনীহা প্রকাশ করছেন।গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। তবে হঠাৎ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কয়েক শত হেক্টর জমির ধান সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। জেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, “আমরা কৃষকদের দ্রুত জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের পরামর্শ দিচ্ছি। যেসব জমির ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেছে, সেগুলো বিলম্ব না করে দ্রুত কেটে ফেলার জন্য মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  পলাশবাড়ীতে পুকুরে বিষ প্রয়োগে ৩ লক্ষ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ

 

​প্রকৃতির এই বৈরী আচরণে গাইবান্ধার হাজারো কৃষকের স্বপ্ন এখন বৃষ্টির পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তা ও কৃষি ঋণের কিস্তি মওকুফসহ বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা।

আরও পড়ুনঃ  নাটোর লালপুরে প্রতিমন্ত্রীর মাতার জন্মদিন উপলক্ষে লালপুর ডিগ্রি কলেজে নলকূপ উপহার
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সিরাজগঞ্জ সদরে ২৮৫.৭১ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত জলাশয় রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে: ইউএনও

গাইবান্ধায় অকাল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া নুয়ে পড়েছে পাকা ধান

আপডেটের সময়: ০৪:০১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

আঃ রাজ্জাক সরকার স্টাফ রিপোটার: গাইবান্ধায় কালবৈশাখী ঝড় ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে প্রান্তিক কৃষকের সোনালী স্বপ্ন এখন ফিকে হওয়ার পথে। জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দমকা হাওয়া ও ভারী বর্ষণে মাঠের পর মাঠ পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে ধানক্ষেত। বছরের প্রধান ফসল চোখের সামনে নষ্ট হতে দেখে দুশ্চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার হাজারো কৃষক।

 

​সরেজমিনে গাইবান্ধা সদর, সাঘাটা, সাদুল্যাপুর, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ, পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষত। উত্তরের হিমেল বাতাসের সাথে বৃষ্টির ঝাপটায় ধান গাছগুলো মাটির সাথে মিশে গেছে। বিশেষ করে যেসব জমির ধান পেকে সোনালী বর্ণ ধারণ করেছিল, সেগুলো নুয়ে পড়ায় দানা পচে যাওয়ার ও ঝরে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের কৃষক কলিম উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, “ঋণ করে তিন বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছি। ধান কাটার ঠিক আগ মুহূর্তে এই বৃষ্টি সব শেষ করে দিল। গাছ নুয়ে পড়ায় এখন ধান কাটার শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না, আর পাওয়া গেলেও দ্বিগুণ মজুরি দাবি করছে।

আরও পড়ুনঃ  কুলাউড়ায় বিদ্যুৎ চুরি করে চলছিলো অটোরিকশা চার্জিং স্টেশন, বড় অঙ্কের মামলা

​একই চিত্র দেখা গেছে পলাশবাড়ীর হরিনাবাড়ী এলাকায়। সেখানকার কৃষক মোবারক হোসেন জানান, নিচু এলাকার জমিতে পানি জমে থাকায় ধান পচতে শুরু করেছে। রোদ না থাকায় কেটে রাখা ধানও শুকাতে পারছেন না তারা। ফলে ঘরে তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।স্থানীয় কৃষকদের তথ্যমতে, স্বাভাবিক সময়ে বিঘাপ্রতি ধান কাটার খরচ ৩-৪ হাজার টাকা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ৫-৬ হাজার টাকা দিয়েও শ্রমিক মিলছে না। কাদা আর পানিতে নুয়ে পড়া ধান কাটতে শ্রমিকরা অনীহা প্রকাশ করছেন।গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। তবে হঠাৎ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কয়েক শত হেক্টর জমির ধান সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। জেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, “আমরা কৃষকদের দ্রুত জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের পরামর্শ দিচ্ছি। যেসব জমির ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেছে, সেগুলো বিলম্ব না করে দ্রুত কেটে ফেলার জন্য মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  শিবগঞ্জে তিন ফসলি জমিতে খাদ্যগুদাম নির্মাণের প্রতিবাদে কৃষকদের মানববন্ধন ‎

 

​প্রকৃতির এই বৈরী আচরণে গাইবান্ধার হাজারো কৃষকের স্বপ্ন এখন বৃষ্টির পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তা ও কৃষি ঋণের কিস্তি মওকুফসহ বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা।

আরও পড়ুনঃ  বেদে পল্লীর উন্নয়নে খাসজমি, সেলাই মেশিন ও ৫ লাখ টাকা বিতরণ