Dhaka ০৬:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
যুব সমাজের আত্মকর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে জিটি গ্রুপের মতবিনিময় সভা: প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী পুতুল ডামুড্যায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বক্তব্যের প্রতিবাদে ভেদরগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ ইপিজেড থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি ঘোষণা: সভাপতি – আশরাফ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ইমরান ফরিদপুরের নগরকান্দায় চরযশোরদী ইউনিয়নে লটারির মাধ্যমে নারী কর্মী নিয়োগ পবায় নিজ বাড়ির ছাদে ছুরিকাঘাতে কৃষক খুন কাশফুলে সেজেছে বাঁশখালীর গন্ডামারা, মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা গোবিন্দগঞ্জে ডিবির অভিযান, ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ একজন গ্রেপ্তার বরেণ্য কবি-সাহিত্যিক ও গুণীজনদের মিলনমেলায় মুখরিত ধুনট মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের শেষ দিনে হিজলায় সংঘর্ষ, গুলিতে জেলে নিহত, আহত ৫ মানবপাচার ইয়াবা ও ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় করণীয় শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা

হরমুজে আটকা ২০ হাজার নাবিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছেন ভারতসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ২০ হাজার নাবিক। ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের জেরে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় গত আট সপ্তাহ ধরে গভীর সমুদ্রে ভাসছে কয়েকশ পণ্যবাহী জাহাজ ও তেলের ট্যাংকার। জীবন আর মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা এসব নাবিকদের দিন কাটছে ড্রোনের গর্জন আর মিসাইল বিস্ফোরণ দেখে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ালেও ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ বহাল রেখেছে ওয়াশিংটন। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তেহরান এই জলপথে চলাচলকারী জাহাজে হামলা চালাচ্ছে এবং বেশ কিছু জাহাজ জব্দ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো কোম্পানিই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জাহাজ চালাতে সাহস পাচ্ছে না।

আরও পড়ুনঃ  সালাহউদ্দিন সাহেব সব মন্ত্রণালয়ের পারদর্শী লোক: বিরোধীদলীয় নেতা

ভারতীয় ট্যাংকারের ক্যাপ্টেন রাহুল ধর জানান, চোখের সামনে ড্রোন আর মিসাইল ইন্টারসেপ্ট হতে দেখাটা চরম আতঙ্কের। টানা দুই মাস আটকা থাকায় নাবিকদের মনোবল ভেঙে পড়ছে। তবে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তারা শক্তি সঞ্চয় করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু অনেক জায়গায় সিগন্যাল জ্যামিং এবং উচ্চ রোমিং চার্জের কারণে সেই সুযোগও সীমিত হয়ে আসছে। তথ্যমতে, যুদ্ধের আগে এই রুট দিয়ে দৈনিক গড়ে ১৩০টির বেশি জাহাজ চলাচল করত। এখন সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র কয়েকটিতে। যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন নাবিক নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের প্রধান আর্সেনিও ডমিঙ্গো জানিয়েছেন, সমুদ্রসীমায় মাইন বিছিয়ে রাখায় বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ যাতায়াতের কোনো পরিবেশ নেই।

আরও পড়ুনঃ  এক মহল্লায় তিন মেয়র প্রার্থী নিয়ে গ্যাঁড়াকলে সমর্থকরা

ফরওয়ার্ড সিমেন’স ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে মনোজ কুমার যাদব জানান, হাজার হাজার নাবিক বন্দর আব্বাস ও খোররামশাহর বন্দরের কাছে নোঙর করা জাহাজে চরম ভীতি ও আইসোলেশনে দিন কাটাচ্ছেন। অনেক জাহাজে খাবার ও পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে নাবিকদের রসদ রেশনিং করে চলতে হচ্ছে। ভারত সরকার কিছু নাবিককে সরিয়ে নিতে সক্ষম হলেও বড় একটি অংশ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। গ্রিক মালিকানাধীন একটি কার্গো জাহাজের ইন্দোনেশীয় কর্মকর্তা রেজা মুহাম্মদ সালেহ জানান, ওমান উপকূলে আটকা পড়ে তারা বারবার বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। জিপিএস ব্যবস্থা বিকল হয়ে পড়ায় এখন তাদের ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে নেভিগেশন করতে হচ্ছে। অনিশ্চয়তা তাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কার না হলে ক্ষমতায় যিনিই যাবেন হাসিনা হয়ে উঠবেন: নাহিদ ইসলাম

 

শিপিং কোম্পানিগুলোর জানায়, এই সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে দক্ষ নাবিকের সংকট আরও প্রকট হবে। করোনা মহামারি, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং লোহিত সাগরে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার পর এবার ইরানের এই যুদ্ধ সমুদ্রযাত্রাকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে। এর ফলে ভবিষ্যতে অনেক নাবিকই এই পেশায় আসতে অনাগ্রহ প্রকাশ করতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

যুব সমাজের আত্মকর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে জিটি গ্রুপের মতবিনিময় সভা: প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী পুতুল

হরমুজে আটকা ২০ হাজার নাবিক

আপডেটের সময়: ০৬:০৬:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছেন ভারতসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ২০ হাজার নাবিক। ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের জেরে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় গত আট সপ্তাহ ধরে গভীর সমুদ্রে ভাসছে কয়েকশ পণ্যবাহী জাহাজ ও তেলের ট্যাংকার। জীবন আর মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা এসব নাবিকদের দিন কাটছে ড্রোনের গর্জন আর মিসাইল বিস্ফোরণ দেখে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ালেও ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ বহাল রেখেছে ওয়াশিংটন। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তেহরান এই জলপথে চলাচলকারী জাহাজে হামলা চালাচ্ছে এবং বেশ কিছু জাহাজ জব্দ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো কোম্পানিই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জাহাজ চালাতে সাহস পাচ্ছে না।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে জাপানি ফাউন্ডেশনের প্রতি ডা. জুবাইদার আহ্বান

ভারতীয় ট্যাংকারের ক্যাপ্টেন রাহুল ধর জানান, চোখের সামনে ড্রোন আর মিসাইল ইন্টারসেপ্ট হতে দেখাটা চরম আতঙ্কের। টানা দুই মাস আটকা থাকায় নাবিকদের মনোবল ভেঙে পড়ছে। তবে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তারা শক্তি সঞ্চয় করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু অনেক জায়গায় সিগন্যাল জ্যামিং এবং উচ্চ রোমিং চার্জের কারণে সেই সুযোগও সীমিত হয়ে আসছে। তথ্যমতে, যুদ্ধের আগে এই রুট দিয়ে দৈনিক গড়ে ১৩০টির বেশি জাহাজ চলাচল করত। এখন সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র কয়েকটিতে। যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন নাবিক নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের প্রধান আর্সেনিও ডমিঙ্গো জানিয়েছেন, সমুদ্রসীমায় মাইন বিছিয়ে রাখায় বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ যাতায়াতের কোনো পরিবেশ নেই।

আরও পড়ুনঃ  নির্মাণের নয় বছর তালাবদ্ধ বরিশাল শিশু হাসপাতাল

ফরওয়ার্ড সিমেন’স ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে মনোজ কুমার যাদব জানান, হাজার হাজার নাবিক বন্দর আব্বাস ও খোররামশাহর বন্দরের কাছে নোঙর করা জাহাজে চরম ভীতি ও আইসোলেশনে দিন কাটাচ্ছেন। অনেক জাহাজে খাবার ও পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে নাবিকদের রসদ রেশনিং করে চলতে হচ্ছে। ভারত সরকার কিছু নাবিককে সরিয়ে নিতে সক্ষম হলেও বড় একটি অংশ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। গ্রিক মালিকানাধীন একটি কার্গো জাহাজের ইন্দোনেশীয় কর্মকর্তা রেজা মুহাম্মদ সালেহ জানান, ওমান উপকূলে আটকা পড়ে তারা বারবার বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। জিপিএস ব্যবস্থা বিকল হয়ে পড়ায় এখন তাদের ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে নেভিগেশন করতে হচ্ছে। অনিশ্চয়তা তাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ৭ মাসের পরোয়ানাভুক্ত মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের মূল হোতা ‘মালা ভাবি’ গ্রেপ্তার

 

শিপিং কোম্পানিগুলোর জানায়, এই সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে দক্ষ নাবিকের সংকট আরও প্রকট হবে। করোনা মহামারি, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং লোহিত সাগরে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার পর এবার ইরানের এই যুদ্ধ সমুদ্রযাত্রাকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে। এর ফলে ভবিষ্যতে অনেক নাবিকই এই পেশায় আসতে অনাগ্রহ প্রকাশ করতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।