Dhaka ০৭:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে: মামুনুল হক বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে জাপানি ফাউন্ডেশনের প্রতি ডা. জুবাইদার আহ্বান বদলির দুই মাস পরও অবমুক্ত নন সাজেদুল, কার্যকর হচ্ছে না ভূমি সংস্কার বোর্ডের আদেশ? ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বগুড়ায় যুবদলের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ‎ গাইবান্ধায় যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ ‎ ‎ জাতীয় হিফযুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বাহরুল উলুম মাদরাসার সাফল্য, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় যুবদল ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান ধামরাইয়ে দুই ইটভাটায় অভিযান, ২ লাখ টাকা জরিমানা; ভেঙে দেওয়া হলো চিমনি উলিপুরে ৫০০পিস ইয়াবা নগদ ৫ হাজার টাকাসহ ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে: মামুনুল হক

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৬:১৭:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৬ সময় দেখুন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনে যেকোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে অনুষ্ঠাতব্য উপনির্বাচনসহ আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে তাদের উদ্বেগ ও সংশয় রয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। মামুনুল হক বলেন, নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। তাদের শুভবুদ্ধির উদয় না হলে বিরোধীদলকে কঠোর কর্মসূচির পথে হাঁটতে বাধ্য হতে হবে। নির্বাচন কমিশনের সচিব পর্যায়ে দলীয় লোক নিয়োগের মাধ্যমে সরকার নির্লজ্জ ভূমিকা পালন করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

ঘোষিত লং মার্চ কর্মসূচি প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, দূরপাল্লার এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো পক্ষ অপতৎপরতা চালাবে না বলে তারা আশা করছেন। তবে এ ধরনের কোনো অপতৎপরতা নজরে এলে তা প্রতিহত করেই লং মার্চ সফল করা হবে। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রাণের দাবি আদায়ে ঘোষিত এ কর্মসূচিতে সব দেশপ্রেমিক নাগরিককে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মামুনুল হক বলেন, সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে লং মার্চ কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ হবে। দেশের চলমান সংকটগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় সমাধানে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  এই সংসদের মূল্য দুই আনাও নেই ৫ বছর টিকবে কি না সন্দেহ: নাহিদ ইসলাম

সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলের সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সরকারকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় সহনশীল কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের মধ্যে বিরোধী দলের সহযোগিতা গ্রহণের উপযুক্ত মানসিকতা দেখা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে জনগণের অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে আরো কঠোর হওয়ার বার্তা দিচ্ছেন তারা। সরকারকে উদ্দেশ্য করে মামুনুল হক বলেন, জনগণের ক্ষমতা নিয়েই আপনারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসেছেন। তাই জনগণের মনোভাব, ইচ্ছা ও অভিপ্রায় অনুধাবন করার চেষ্টা করুন। অন্যথায় পরিণাম ভালো হবে না। আসন্ন সংসদ অধিবেশন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকারের এজেন্ডাগুলো কতটা জনবান্ধব হবে এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমাধানের বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতা কতটা থাকবে, তা নিয়ে তারা সন্দিহান। এ বিষয়ে সংসদ অধিবেশনের আগে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আবারো বৈঠক হবে।

আরও পড়ুনঃ  রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কার না হলে ক্ষমতায় যিনিই যাবেন হাসিনা হয়ে উঠবেন: নাহিদ ইসলাম

 

আলোচনারভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে। লং মার্চের পথে গোপালগঞ্জ পড়লেও সেখানে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন না বলে জানান মামুনুল হক। তিনি বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীদের বহর গোপালগঞ্জের ওপর দিয়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সজাগ থাকলে সেখানে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হবে না। গোপালগঞ্জে ইসলামপন্থি ও দেশপ্রেমিক বিপুলসংখ্যক মানুষ রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবারো এসব মানুষ ব্যাপকভাবে রাজপথে থাকবেন। কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা অপতৎপরতা দেখা দিলে তা মোকাবিলা করা হবে। গোপালগঞ্জের প্রশাসনকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের কথা বলা হয়েছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে এর দায় সরকার ও প্রশাসনকে বহন করতে হবে। রাষ্ট্র সংস্কার ও সংবিধান সংস্কারের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের অবস্থান তুলে ধরে মামুনুল হক বলেন, তারা কোনো তামাশা করতে মাঠে নামেননি। বাংলাদেশের রাষ্ট্র মেরামত এবং হাজার হাজার শহীদের রক্তের দায় নিয়ে তারা মাঠে নেমেছেন। কোনো ষড়যন্ত্র বা চক্রান্তে তারা পা দেবেন না। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটি দেশের আইনশৃঙ্খলার সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ব্যক্তি কীভাবে বিচারবহির্ভূত ক্রসফায়ারের মতো বিষয়ে বক্তব্য দিতে পারেন, তা নিয়ে তারা স্তম্ভিত। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

আরও পড়ুনঃ  গাইবান্ধায় যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে: মামুনুল হক

নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে: মামুনুল হক

আপডেটের সময়: ০৬:১৭:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনে যেকোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে অনুষ্ঠাতব্য উপনির্বাচনসহ আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে তাদের উদ্বেগ ও সংশয় রয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। মামুনুল হক বলেন, নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। তাদের শুভবুদ্ধির উদয় না হলে বিরোধীদলকে কঠোর কর্মসূচির পথে হাঁটতে বাধ্য হতে হবে। নির্বাচন কমিশনের সচিব পর্যায়ে দলীয় লোক নিয়োগের মাধ্যমে সরকার নির্লজ্জ ভূমিকা পালন করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

ঘোষিত লং মার্চ কর্মসূচি প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, দূরপাল্লার এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো পক্ষ অপতৎপরতা চালাবে না বলে তারা আশা করছেন। তবে এ ধরনের কোনো অপতৎপরতা নজরে এলে তা প্রতিহত করেই লং মার্চ সফল করা হবে। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রাণের দাবি আদায়ে ঘোষিত এ কর্মসূচিতে সব দেশপ্রেমিক নাগরিককে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মামুনুল হক বলেন, সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে লং মার্চ কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ হবে। দেশের চলমান সংকটগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় সমাধানে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫৪৮ ছাত্রীর হাতে বাইসাইকেল দিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ‎

সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলের সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সরকারকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় সহনশীল কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের মধ্যে বিরোধী দলের সহযোগিতা গ্রহণের উপযুক্ত মানসিকতা দেখা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে জনগণের অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে আরো কঠোর হওয়ার বার্তা দিচ্ছেন তারা। সরকারকে উদ্দেশ্য করে মামুনুল হক বলেন, জনগণের ক্ষমতা নিয়েই আপনারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসেছেন। তাই জনগণের মনোভাব, ইচ্ছা ও অভিপ্রায় অনুধাবন করার চেষ্টা করুন। অন্যথায় পরিণাম ভালো হবে না। আসন্ন সংসদ অধিবেশন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকারের এজেন্ডাগুলো কতটা জনবান্ধব হবে এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমাধানের বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতা কতটা থাকবে, তা নিয়ে তারা সন্দিহান। এ বিষয়ে সংসদ অধিবেশনের আগে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আবারো বৈঠক হবে।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে জাপানি ফাউন্ডেশনের প্রতি ডা. জুবাইদার আহ্বান

 

আলোচনারভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে। লং মার্চের পথে গোপালগঞ্জ পড়লেও সেখানে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন না বলে জানান মামুনুল হক। তিনি বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীদের বহর গোপালগঞ্জের ওপর দিয়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সজাগ থাকলে সেখানে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হবে না। গোপালগঞ্জে ইসলামপন্থি ও দেশপ্রেমিক বিপুলসংখ্যক মানুষ রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবারো এসব মানুষ ব্যাপকভাবে রাজপথে থাকবেন। কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা অপতৎপরতা দেখা দিলে তা মোকাবিলা করা হবে। গোপালগঞ্জের প্রশাসনকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের কথা বলা হয়েছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে এর দায় সরকার ও প্রশাসনকে বহন করতে হবে। রাষ্ট্র সংস্কার ও সংবিধান সংস্কারের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের অবস্থান তুলে ধরে মামুনুল হক বলেন, তারা কোনো তামাশা করতে মাঠে নামেননি। বাংলাদেশের রাষ্ট্র মেরামত এবং হাজার হাজার শহীদের রক্তের দায় নিয়ে তারা মাঠে নেমেছেন। কোনো ষড়যন্ত্র বা চক্রান্তে তারা পা দেবেন না। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটি দেশের আইনশৃঙ্খলার সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ব্যক্তি কীভাবে বিচারবহির্ভূত ক্রসফায়ারের মতো বিষয়ে বক্তব্য দিতে পারেন, তা নিয়ে তারা স্তম্ভিত। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

আরও পড়ুনঃ  এই সংসদের মূল্য দুই আনাও নেই ৫ বছর টিকবে কি না সন্দেহ: নাহিদ ইসলাম