
জেলা প্রতিনিধি,ফরিদপুর: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালালচক্রের প্রাদুর্ভাব রয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, দালালচক্র আইডেন্টিফাই করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং যে অন্যায় কাজগুলো তারা করছে, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে তিনি এসব কথা বলেন। শামা ওবায়েদ বলেন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের দাবি করা হয়েছে। যদি কখনো অনৈতিক কাজ হয়, দালাল চক্র যদি উল্টাপাল্টা এসব কর্মকাণ্ড ঘটানোর চেষ্টা করে, সেগুলো পুলিশরা বন্ধ করতে পারবে। তিনি বলেন, পুলিশকে যখন দায়িত্ব দেওয়া হবে, ওনারা সার্বিকভাবে তদন্ত করবে। কে কোথায় কীভাবে জড়িত। হাসপাতালের লোকও যদি জড়িত থাকে, তাদেরকেও ধরা হবে। বাইরের লোক যদি জড়িত থাকে, তাদেরকেও ধরা হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফরিদপুর মেডিকেলে অনেক সমস্যা আছে। বরাদ্দের সমস্যা আছে। এখানে আমাদের মেশিন চলছে না। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে মেশিন কিনে রেখেছে। চুরি-চামারি করে। সেই মেশিনগুলো চালানো যাচ্ছে না। মেশিন কীভাবে চালানো যায় তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এটি ১ হাজার বেডের একটা হাসপাতাল। অথচ ১ হাজার বেড কিন্তু আমাদের নেই। রোগী আসে ২-৩ হাজার, অনেক বেশি। ফরিদপুর মেডিকেলের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মী লাগবে অনেক। পৌরসভার কিছু দায়িত্ব আছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা খারাপ। এখানে সিকিউরিটির সমস্যা আছে। এই প্রত্যেকটি সমস্যাগুলো আমরা আইডেন্টিফাই করেছি। রেজুলেশন হবে এবং এই সমস্যাগুলো যত তাড়াতাড়ি আমরা সম্মিলিতভাবে সমাধান করতে পারি, সেই সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, ফরিদপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিন্টু বিশ্বাস, ফরিদপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন, জেলা সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক মানস কুমার কুন্ডু, সহকারী পরিচালক মো. ওমর ফয়সাল, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আসিফ উল আলম, ফরিদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব মো. নজরুল ইসলাম, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী প্রমুখ।
সভায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত করার পাশাপাশি রোগীরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। হাসপাতালের ভেতর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং রোগীদের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা সরঞ্জামের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক দক্ষ জনবল নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধের সরবরাহ বজায় রাখার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। সভায় হাসপাতালের আশপাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জরুরি অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রতিবেদকের নাম 



















