Dhaka ০১:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)’র নতুন কমিটির অভিষেক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদের নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ: সাংবাদিক জিহাদুলের অভিনন্দন গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে ৩৯ নং ওয়ার্ডে জামায়াতে মিছিল ও সমাবেশ শ্যামপুরে উদ্ভাবনী আইডিয়া ও বিজ্ঞান প্রজেক্ট প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হরিপুরে ইউএনও’র আকস্মিক পরিদর্শন গ্রামীণ অবকাঠামো রূপান্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নতুন দিগন্ত চট্টগ্রামে ব্রাজিল আর্জেন্টিনার প্রীতি ফুটবল ম্যাচে কেউ হারেনি: ১-১ গোলে ড্র হয়েছে ধামইরহাটে স্টার্টআপ বিজ্ঞান প্রকল্পে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শন অনুষ্ঠিত বাউফলে বাজেট নিয়ে নাগরিকদের মতামত ও প্রত্যাশা জানতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন: ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ মাদারগঞ্জে প্রাণীসম্পদ কার্যালয়ে আয়োজিত প্রান্তিক চাষীদের মাঝে বিনামূল্যে ছাগল বিতরণ কাউনিয়ায় স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

হরিপুরে ইউএনও’র আকস্মিক পরিদর্শন গ্রামীণ অবকাঠামো রূপান্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নতুন দিগন্ত

জসিম উদ্দিন ইতি হরিপুর, ঠাকুরগাঁও:  ইতি একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি গড়ে ওঠে তার তৃণমূল তথা গ্রামীণ অবকাঠামোর টেকসই অগ্রগতির ওপর। সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প যখন প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, তখনই কেবল প্রকৃত উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারে। তবে মাঠপর্যায়ে এই উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর শতভাগ স্বচ্ছতা, কাজের গুণগত মান এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা বরাবরই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মাঠ প্রশাসনের সক্রিয়তা ও কঠোর তদারকির কোনো বিকল্প নেই।সম্প্রতি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) চন্দন কর-এর নেতৃত্বে যে নিবিড় এবং আকস্মিক মাঠ পরিদর্শনের চিত্র আমরা দেখেছি, তা নিঃসন্দেহে স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বশীলতার এক উজ্জ্বল এবং প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত। গত ১২ জুন (শুক্রবার) সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু করে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে তাঁর এই নিবিড় পরিদর্শন কার্যক্রম প্রমাণ করে—জনগণের প্রতি প্রশাসনের দায়বদ্ধতা কেবল দাপ্তরিক সময়ের ফ্রেমে বন্দি নয়। ৩ নং বকুয়া ইউনিয়ন এবং ২ নং আমগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ও গ্রামীণ অবকাঠামো সরজমিনে যেভাবে তিনি পর্যবেক্ষণ করেছেন, তা বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত ইতিবাচক এক বার্তা বহন করে।

আরও পড়ুনঃ  লোকসানের বৃত্তে কৃষক: বিঘাপ্রতি গুনতে হচ্ছে ২৭০০ টাকা ক্ষতি

 

আমাদের দেশের বাস্তবতায় প্রায়শই দেখা যায়, কেন্দ্র থেকে অনেক দূরে অবস্থিত বা প্রত্যন্ত অঞ্চলের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে যথাযথ তদারকির অভাব ঘটে। এর ফলে কাজের গুণগত মান যেমন ব্যাহত হয়, ঠিক তেমনি অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও কাজ বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। এতে জনগণের ভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয় হয়। এই চেনা সংকট কাটাতে হরিপুরের নবাগত ইউএনও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, তদারকারী কর্মকর্তা এবং প্রকল্প কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তদের যেভাবে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ। কাজের মান নিয়ে কোনো ধরনের আপস না করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সমাপ্ত করার এই তাগিদ মাঠপর্যায়ের কাজের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। বিশেষ করে, পরিদর্শনকালে নবাগত ইউএনও চন্দন কর-এর দেওয়া বক্তব্যটি অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং নীতিগতভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেছেন: সরকার নির্ধারিত উন্নয়ন বরাদ্দের প্রতিটি টাকা যেন জনগণের সঠিক কল্যাণে এবং শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে ব্যয় হয়, তা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। কাজের মান নিয়ে কোনো ধরনের আপস বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না।

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহীতে বিভাগীয় পর্যায়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

 

তাঁর এই দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা রাষ্ট্রীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক ধরণের ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতারই বহিঃপ্রকাশ। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বাস্তবায়িত প্রতিটি প্রকল্পের সুফল যেন শতভাগ জনগণের কাছেই পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা যেকোনো স্বচ্ছ প্রশাসনের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত। মাঠপর্যায়ের যেকোনো অনিয়ম বা ধীরগতির ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার যে হুঁশিয়ারি তিনি দিয়েছেন, তা অসাধু চক্র বা কাজের ক্ষেত্রে গাফিলতি করা ব্যক্তিদের জন্য একটি কড়া সতর্কবার্তা। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, এই ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগ যেন কেবল শুরুতেই সীমাবদ্ধ না থাকে। অনেক সময় দেখা যায়, নতুন কোনো কর্মকর্তা দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দিকে কর্মতৎপরতা দেখান, যা পরবর্তীতে সময়ের সাথে সাথে ঝিমিয়ে পড়ে। হরিপুরের সাধারণ মানুষ এবং সচেতন মহল প্রত্যাশা করে, গ্রামীণ অবকাঠামোর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ধরনের আকস্মিক ও ঝটিকা পরিদর্শন কার্যক্রম নিয়মিত বিরতিতে অব্যাহত থাকবে। তদারকি ব্যবস্থা যত বেশি আকস্মিক ও কঠোর হবে, কাজের ক্ষেত্রে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ তত কমে আসবে।

আরও পড়ুনঃ  প্রধানমন্ত্রীর অনন্য উপহার এবার নিজের ঘর পাচ্ছেন সাফজয়ী ঋতুপর্ণা চাকমা

 

এই পরিদর্শন কার্যক্রমে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, হরিপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল রশীদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতি প্রশাসনের এই উদ্যোগকে আরও বেশি গণমুখী ও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। গণমাধ্যম ও প্রশাসনের এই যৌথ সচেতনতা যেকোনো অঞ্চলের অনিয়ম রুখতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতে পারে। স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ যেভাবে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, তা থেকে স্পষ্ট যে—জনগণ যেকোনো মূল্যে উন্নয়ন কাজের স্বচ্ছতা ও দীর্ঘস্থায়িত্ব দেখতে চায়। নিয়মিত তদারকি, জবাবদিহিতা এবং জিরো টলারেন্স নীতির এই ধারা যদি হরিপুর উপজেলায় কঠোরভাবে বজায় রাখা যায়, তবে এই অঞ্চলের গ্রামীণ জনপদের প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্প সুচারুভাবে ও টেকসই রূপে বাস্তবায়িত হবে। আমরা আশা করি, হরিপুর উপজেলা প্রশাসনের এই প্রশংসনীয় ভূমিকা জেলার অন্যান্য উপজেলা তথা সমগ্র দেশের মাঠ প্রশাসনের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেল বা দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)’র নতুন কমিটির অভিষেক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন

হরিপুরে ইউএনও’র আকস্মিক পরিদর্শন গ্রামীণ অবকাঠামো রূপান্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নতুন দিগন্ত

আপডেটের সময়: ০৯:৫৩:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

জসিম উদ্দিন ইতি হরিপুর, ঠাকুরগাঁও:  ইতি একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি গড়ে ওঠে তার তৃণমূল তথা গ্রামীণ অবকাঠামোর টেকসই অগ্রগতির ওপর। সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প যখন প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, তখনই কেবল প্রকৃত উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারে। তবে মাঠপর্যায়ে এই উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর শতভাগ স্বচ্ছতা, কাজের গুণগত মান এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা বরাবরই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মাঠ প্রশাসনের সক্রিয়তা ও কঠোর তদারকির কোনো বিকল্প নেই।সম্প্রতি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) চন্দন কর-এর নেতৃত্বে যে নিবিড় এবং আকস্মিক মাঠ পরিদর্শনের চিত্র আমরা দেখেছি, তা নিঃসন্দেহে স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বশীলতার এক উজ্জ্বল এবং প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত। গত ১২ জুন (শুক্রবার) সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু করে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে তাঁর এই নিবিড় পরিদর্শন কার্যক্রম প্রমাণ করে—জনগণের প্রতি প্রশাসনের দায়বদ্ধতা কেবল দাপ্তরিক সময়ের ফ্রেমে বন্দি নয়। ৩ নং বকুয়া ইউনিয়ন এবং ২ নং আমগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ও গ্রামীণ অবকাঠামো সরজমিনে যেভাবে তিনি পর্যবেক্ষণ করেছেন, তা বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত ইতিবাচক এক বার্তা বহন করে।

আরও পড়ুনঃ  মাদারগঞ্জে প্রাণীসম্পদ কার্যালয়ে আয়োজিত প্রান্তিক চাষীদের মাঝে বিনামূল্যে ছাগল বিতরণ

 

আমাদের দেশের বাস্তবতায় প্রায়শই দেখা যায়, কেন্দ্র থেকে অনেক দূরে অবস্থিত বা প্রত্যন্ত অঞ্চলের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে যথাযথ তদারকির অভাব ঘটে। এর ফলে কাজের গুণগত মান যেমন ব্যাহত হয়, ঠিক তেমনি অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও কাজ বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। এতে জনগণের ভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয় হয়। এই চেনা সংকট কাটাতে হরিপুরের নবাগত ইউএনও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, তদারকারী কর্মকর্তা এবং প্রকল্প কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তদের যেভাবে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ। কাজের মান নিয়ে কোনো ধরনের আপস না করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সমাপ্ত করার এই তাগিদ মাঠপর্যায়ের কাজের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। বিশেষ করে, পরিদর্শনকালে নবাগত ইউএনও চন্দন কর-এর দেওয়া বক্তব্যটি অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং নীতিগতভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেছেন: সরকার নির্ধারিত উন্নয়ন বরাদ্দের প্রতিটি টাকা যেন জনগণের সঠিক কল্যাণে এবং শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে ব্যয় হয়, তা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। কাজের মান নিয়ে কোনো ধরনের আপস বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না।

আরও পড়ুনঃ  ফটিকছড়িতে আয়বর্ধণ মূলক সবজি চাষ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন,

 

তাঁর এই দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা রাষ্ট্রীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক ধরণের ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতারই বহিঃপ্রকাশ। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বাস্তবায়িত প্রতিটি প্রকল্পের সুফল যেন শতভাগ জনগণের কাছেই পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা যেকোনো স্বচ্ছ প্রশাসনের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত। মাঠপর্যায়ের যেকোনো অনিয়ম বা ধীরগতির ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার যে হুঁশিয়ারি তিনি দিয়েছেন, তা অসাধু চক্র বা কাজের ক্ষেত্রে গাফিলতি করা ব্যক্তিদের জন্য একটি কড়া সতর্কবার্তা। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, এই ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগ যেন কেবল শুরুতেই সীমাবদ্ধ না থাকে। অনেক সময় দেখা যায়, নতুন কোনো কর্মকর্তা দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দিকে কর্মতৎপরতা দেখান, যা পরবর্তীতে সময়ের সাথে সাথে ঝিমিয়ে পড়ে। হরিপুরের সাধারণ মানুষ এবং সচেতন মহল প্রত্যাশা করে, গ্রামীণ অবকাঠামোর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ধরনের আকস্মিক ও ঝটিকা পরিদর্শন কার্যক্রম নিয়মিত বিরতিতে অব্যাহত থাকবে। তদারকি ব্যবস্থা যত বেশি আকস্মিক ও কঠোর হবে, কাজের ক্ষেত্রে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ তত কমে আসবে।

আরও পড়ুনঃ  লোকসানের বৃত্তে কৃষক: বিঘাপ্রতি গুনতে হচ্ছে ২৭০০ টাকা ক্ষতি

 

এই পরিদর্শন কার্যক্রমে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, হরিপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল রশীদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতি প্রশাসনের এই উদ্যোগকে আরও বেশি গণমুখী ও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। গণমাধ্যম ও প্রশাসনের এই যৌথ সচেতনতা যেকোনো অঞ্চলের অনিয়ম রুখতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতে পারে। স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ যেভাবে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, তা থেকে স্পষ্ট যে—জনগণ যেকোনো মূল্যে উন্নয়ন কাজের স্বচ্ছতা ও দীর্ঘস্থায়িত্ব দেখতে চায়। নিয়মিত তদারকি, জবাবদিহিতা এবং জিরো টলারেন্স নীতির এই ধারা যদি হরিপুর উপজেলায় কঠোরভাবে বজায় রাখা যায়, তবে এই অঞ্চলের গ্রামীণ জনপদের প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্প সুচারুভাবে ও টেকসই রূপে বাস্তবায়িত হবে। আমরা আশা করি, হরিপুর উপজেলা প্রশাসনের এই প্রশংসনীয় ভূমিকা জেলার অন্যান্য উপজেলা তথা সমগ্র দেশের মাঠ প্রশাসনের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেল বা দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে।