
ইয়ামিন হোসাইন, সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ধানের হাটে সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে অতিরিক্ত ওজনে ধান ক্রয় এবং খাজনার নামে বাড়তি টাকা ও ধান আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, আড়ৎদার, ক্রেতা, ফড়িয়া ও ইজারাদারদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেটের কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার প্রাচীন ও বৃহৎ ধানের হাটগুলোর মধ্যে সলঙ্গা, চান্দাইকোনা, নিমগাছীসহ অন্তত ১০টি হাটে নিয়মিত ধান কেনাবেচা হয়। পাশাপাশি কমিশনভিত্তিক এক শ্রেণির ফড়িয়া ব্যবসায়ী গ্রামে গ্রামে ঘুরে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মণ ধানের ওজন ৪০ কেজি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে প্রতি মণে ২ থেকে ৩ কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত ধান নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত ওজনের চেয়ে কম হলে অনেক ক্ষেত্রে ধান কিনতে অনীহা প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা। ফলে বাধ্য হয়ে কৃষকদের অতিরিক্ত ধান দিতে হচ্ছে।
এ ছাড়া ইজারাদাররা খাজনার নামে নগদ অর্থ আদায়ের পাশাপাশি প্রতি মণে দেড় থেকে দুই কেজি পর্যন্ত ধান “তোলা” হিসেবে নিয়ে থাকেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়লেও প্রভাবশালীদের ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
চান্দাইকোনা হাটে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “সার, তেল, সেচ ও শ্রমিকের খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে। কিন্তু ধানের দাম বাড়েনি। উল্টো হাটে এলেই ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের ফাঁদে পড়তে হয়।”
তেলিজানা গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, “ঘুড়কা হাটে প্রতি মণে ৩ থেকে ৪ কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত ধান দিতে হচ্ছে। এতে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচই উঠছে না। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ধান চাষ ছেড়ে দিতে হবে।”
আরেক কৃষক আলাউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, “হাটে কোনো নিয়মের তোয়াক্কা করা হয় না। কৃষকদের জিম্মি করে ব্যবসায়ীরা পকেট ভরছে। ধান চাষে খরচ বাড়লেও আমরা লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছি না।”
নিমগাছী হাটের এক বিক্রেতা জানান, “এ হাটে প্রতি মণে ৩ থেকে ৪ কেজি বেশি দিতে হয়। ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা সুযোগ পেলেই ওজনে কারচুপি করে প্রতি বস্তায় দেড় থেকে দুই কেজি ধান কম দেখায়।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু আড়ৎদার ধান কিনে সময়মতো টাকা পরিশোধ না করে নানা অজুহাতে বিলম্ব করেন এবং বাকিতে ধান নিয়ে থাকেন।
তবে নিমগাছী বাজারের এক আড়ৎদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বছরের পর বছর ধরেই এভাবে ধান কেনাবেচা হয়ে আসছে। পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থাপনার খরচের কারণেই কিছুটা বেশি ওজন নেওয়া হয়।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলের দাবি, ধানের হাটে অনিয়ম বন্ধে নিয়মিত নজরদারি, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং খাজনা ও তোলার নামে অতিরিক্ত ধান ও অর্থ আদায় বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রতিবেদকের নাম 


















