Dhaka ০৬:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মাদারগঞ্জের ৭ নং সিধুলী ইউনিয়নে সরকারি চাকুরীর ক্ষমতা দেখিয়ে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি স্বামীকে বাঁচাতে খালে ঝাঁপ, শেষ পর্যন্ত দুজনেরই মৃত্যু: বদলগাছীতে নবদম্পতির মর্মান্তিক পরিণতি মোংলায় আন্তর্জাতিক ম্যানগ্রোভ প্রতিবেশ সংরক্ষণ দিবস উপলক্ষে ম্যানগ্রোভ চারা রোপণ ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপনে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত পদত্যাগী রাষ্ট্রপতির অতীত কর্মকাণ্ড যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে: আইনমন্ত্রী চট্টগ্রামে সীতাকুণ্ডে গণপিটুনিতে মাদক ব্যবসায়ী নিহত দক্ষতা-সততার ভিত্তিতে সেনাবাহিনীতে পদোন্নতির নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুন্দরগঞ্জের চরাঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে অ্যাডভোকেসি সভা ঈশ্বরদীতে সিএনজিতে অভিযান: ৭ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগরে রিকশার গ্যারেজে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই অনেকগুলো অটো রিকশা ও টিনশেড ঘর

রংপুর শিশু হাসপাতাল চকচকে ভবন, শূন্য জনবল

মোঃ মনিরুজ্জামান ব্যুরো চিফ, রংপুর বিভাগ

ভবন নির্মাণের ৬ বছর পার হলেও এখনো চালু হয়নি রংপুরের ১০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল। প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসাসামগ্রীর অভাবে ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আধুনিক হাসপাতালটি কার্যত কোনো কাজে আসছে না। সম্প্রতি সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে হাসপাতালটি দ্রুত চালুর নির্দেশনা দেওয়া হলেও দাপ্তরিক চিঠি চালাচালি ছাড়া দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি নেই।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে রংপুর নগরীর সাবেক সদর হাসপাতাল এলাকায় ১০০ শয্যার এই শিশু হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংলগ্ন এই প্রকল্পে চিকিৎসক ও কর্মচারীদের জন্য ডরমেটরি ভবনসহ সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়। তবে নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় এটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। ২০২১ সালে করোনা মহামারি শুরু হলে ভবনটিকে ‘করোনা ডেডিকেটেড স্পেশালাইজড হাসপাতাল’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সে সময় ১৫ শয্যার আইসিইউসহ মোট ৩০টি শয্যা চালু ছিল। মহামারি শেষে গত ৪ বছর ধরে হাসপাতালটি আবারও স্থবির হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আধুনিক ভবনটি এখন জনশূন্য। আইসিইউ ইউনিটে থাকা কোটি টাকার যন্ত্রপাতি বছরের পর বছর পড়ে থাকায় সেগুলো বিকল হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, একটি হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে চিকিৎসক, নার্স, আয়া ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিপুল জনবল প্রয়োজন। এখন সব প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করলেও হাসপাতালটি পুরোপুরি সচল করতে অন্তত এক বছর সময় লাগতে পারে।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি হাসপাতালটির বর্তমান অবস্থা ও প্রয়োজনীয় চাহিদা জানতে চাওয়া হয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে জনবল ও সরঞ্জামের চাহিদাপত্র এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. ওয়াজেদ আলী বলেন, “সরকারপ্রধানের নির্দেশনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে একটি ফরমেট পাঠানো হয়েছিল। আমরা গত সোমবার সব প্রয়োজনীয় তথ্য ও চাহিদা পূরণ করে পাঠিয়েছি। আশা করছি, দ্রুতই হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।”
এদিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, মেডিকেল কলেজের শিশু ওয়ার্ডে তিল ধারণের জায়গা নেই। ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় এক বিছানায় দুই-তিনজন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ডের তীব্র সংকট রয়েছে। ১০০ শয্যার এই বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালটি চালু হলে এই অঞ্চলের শিশুদের আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা সহজ হতো।

আরও পড়ুনঃ  নীলফামারীতে জুলাইয়ের চেতনায় ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান এনসিপির
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

মাদারগঞ্জের ৭ নং সিধুলী ইউনিয়নে সরকারি চাকুরীর ক্ষমতা দেখিয়ে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি

রংপুর শিশু হাসপাতাল চকচকে ভবন, শূন্য জনবল

আপডেটের সময়: ০১:৪১:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

মোঃ মনিরুজ্জামান ব্যুরো চিফ, রংপুর বিভাগ

ভবন নির্মাণের ৬ বছর পার হলেও এখনো চালু হয়নি রংপুরের ১০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল। প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসাসামগ্রীর অভাবে ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আধুনিক হাসপাতালটি কার্যত কোনো কাজে আসছে না। সম্প্রতি সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে হাসপাতালটি দ্রুত চালুর নির্দেশনা দেওয়া হলেও দাপ্তরিক চিঠি চালাচালি ছাড়া দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি নেই।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে রংপুর নগরীর সাবেক সদর হাসপাতাল এলাকায় ১০০ শয্যার এই শিশু হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংলগ্ন এই প্রকল্পে চিকিৎসক ও কর্মচারীদের জন্য ডরমেটরি ভবনসহ সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়। তবে নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় এটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। ২০২১ সালে করোনা মহামারি শুরু হলে ভবনটিকে ‘করোনা ডেডিকেটেড স্পেশালাইজড হাসপাতাল’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সে সময় ১৫ শয্যার আইসিইউসহ মোট ৩০টি শয্যা চালু ছিল। মহামারি শেষে গত ৪ বছর ধরে হাসপাতালটি আবারও স্থবির হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আধুনিক ভবনটি এখন জনশূন্য। আইসিইউ ইউনিটে থাকা কোটি টাকার যন্ত্রপাতি বছরের পর বছর পড়ে থাকায় সেগুলো বিকল হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, একটি হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে চিকিৎসক, নার্স, আয়া ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিপুল জনবল প্রয়োজন। এখন সব প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করলেও হাসপাতালটি পুরোপুরি সচল করতে অন্তত এক বছর সময় লাগতে পারে।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি হাসপাতালটির বর্তমান অবস্থা ও প্রয়োজনীয় চাহিদা জানতে চাওয়া হয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে জনবল ও সরঞ্জামের চাহিদাপত্র এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. ওয়াজেদ আলী বলেন, “সরকারপ্রধানের নির্দেশনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে একটি ফরমেট পাঠানো হয়েছিল। আমরা গত সোমবার সব প্রয়োজনীয় তথ্য ও চাহিদা পূরণ করে পাঠিয়েছি। আশা করছি, দ্রুতই হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।”
এদিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, মেডিকেল কলেজের শিশু ওয়ার্ডে তিল ধারণের জায়গা নেই। ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় এক বিছানায় দুই-তিনজন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ডের তীব্র সংকট রয়েছে। ১০০ শয্যার এই বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালটি চালু হলে এই অঞ্চলের শিশুদের আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা সহজ হতো।

আরও পড়ুনঃ  থানারহাট–বাংলাবাজার সড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ