Dhaka ১০:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ

যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের খবরে কয়েক ঘণ্টা চিৎকার করেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে ভূপাতিত হওয়া এক মার্কিন নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারের ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইচ্ছাকৃতভাবে সিচুয়েশন রুম থেকে দূরে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।প্রতিবেদনে বলা হয়, সামরিক উপদেষ্টা ও ঘনিষ্ঠ সহকারীরা আশঙ্কা করেছিলেন প্রেসিডেন্টের অস্থির আচরণ চলমান অভিযানে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। এজন্য তাকে প্রতি মুহূর্তের তথ্য না দিয়ে শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে আপডেট দেওয়া হচ্ছিল। ইরানি বাহিনীর গুলিতে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর ট্রাম্প অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে পড়েন। হোয়াইট হাউসের ওয়েস্ট উইংয়ে তিনি কয়েক ঘণ্টা ধরে সহকারীদের ওপর চিৎকার করেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ সময় ১৯৭৯ সালের ইরান জিম্মি সংকট-এর ঘটনা তাকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে। তিনি নাকি ব্যক্তিগতভাবে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার-এর উদাহরণ টেনে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুনঃ  নির্বাচিত সংসদই দেশকে এগিয়ে নেবে: স্পিকার

 

ইস্টার সপ্তাহান্তে পরিচালিত প্রায় ২৪ ঘণ্টার এই অভিযান ছিল অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। মরুভূমির বালিতে উদ্ধারকারী বিমান আটকে পড়ায় এক পর্যায়ে পুরো মিশনই হুমকির মুখে পড়ে। একই সময়ে মার্কিন বাহিনী কৌশলগত নানা পদক্ষেপ নিয়ে ইরানি সেনাদের বিভ্রান্ত রাখে এবং ভূপাতিত বিমানচালককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। পরে আরেকজন বিমানচালককেও সফলভাবে উদ্ধার করা হয়। অভিযান শেষে উত্তেজনা কমেনি। রাতে বিশ্রামের পর সকালে উঠে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে কড়া ভাষায় হুমকি দেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে ইরানকে কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নিলেও পূর্ণমাত্রার স্থল অভিযানের বিষয়ে ট্রাম্প নিজেই দ্বিধায় রয়েছেন। সামরিক পরিকল্পনাকারীরা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেলকেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের প্রস্তাব দিলেও সম্ভাব্য প্রাণহানির আশঙ্কায় তিনি তা নাকচ করে দেন। তার মতে, সেখানে গেলে মার্কিন সেনারা সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  শিপিং সেক্টরে নতুন বাজার সৃষ্টিতে নাবিকগণ দূত হিসেবে কাজ করবে: নৌপরিবহন মন্ত্রী

 

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই সংঘাত দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা এখনো দীর্ঘায়িত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ট্রাম্প কখনো কঠোর, কখনো নমনীয় অবস্থান নিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এদিকে সম্ভাব্য সমাধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এখন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনার দিকে তাকিয়ে আছে। ইউরোপীয় মিত্রদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সমর্থন না পাওয়ায় ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ-এর সমালোচনা করেছেন। পাশাপাশি ন্যাটো-এর ভূমিকাতেও অসন্তোষ জানিয়েছেন। এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও ট্রাম্প অভ্যন্তরীণ বিষয়েও মনোযোগ দিচ্ছেন। ইরানে কতগুলো লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে, সেটিকে তিনি সাফল্যের মাপকাঠি হিসেবে দেখছেন। পাশাপাশি হোয়াইট হাউসে নতুন একটি বলরুম নির্মাণ নিয়েও নিয়মিত আলোচনা করছেন এবং অতিথিদের সেই প্রকল্পের নকশা দেখাচ্ছেন। পুরো পরিস্থিতির এখনো সুস্পষ্ট সমাধান না থাকলেও এই বিষয়গুলোতেও তার সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  তেল সংকট নিয়ে সরকার একটি নাটক করলো: নাহিদ ইসলাম
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

নাগরপুরে তেল পেতে লাগবে ফুয়েল কার্ড

যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের খবরে কয়েক ঘণ্টা চিৎকার করেন ট্রাম্প

আপডেটের সময়: ০৭:০৪:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে ভূপাতিত হওয়া এক মার্কিন নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারের ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইচ্ছাকৃতভাবে সিচুয়েশন রুম থেকে দূরে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।প্রতিবেদনে বলা হয়, সামরিক উপদেষ্টা ও ঘনিষ্ঠ সহকারীরা আশঙ্কা করেছিলেন প্রেসিডেন্টের অস্থির আচরণ চলমান অভিযানে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। এজন্য তাকে প্রতি মুহূর্তের তথ্য না দিয়ে শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে আপডেট দেওয়া হচ্ছিল। ইরানি বাহিনীর গুলিতে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর ট্রাম্প অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে পড়েন। হোয়াইট হাউসের ওয়েস্ট উইংয়ে তিনি কয়েক ঘণ্টা ধরে সহকারীদের ওপর চিৎকার করেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ সময় ১৯৭৯ সালের ইরান জিম্মি সংকট-এর ঘটনা তাকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে। তিনি নাকি ব্যক্তিগতভাবে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার-এর উদাহরণ টেনে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুনঃ  জনগণকে গর্জে উঠতে হবে: ডা. শফিকুর রহমান

 

ইস্টার সপ্তাহান্তে পরিচালিত প্রায় ২৪ ঘণ্টার এই অভিযান ছিল অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। মরুভূমির বালিতে উদ্ধারকারী বিমান আটকে পড়ায় এক পর্যায়ে পুরো মিশনই হুমকির মুখে পড়ে। একই সময়ে মার্কিন বাহিনী কৌশলগত নানা পদক্ষেপ নিয়ে ইরানি সেনাদের বিভ্রান্ত রাখে এবং ভূপাতিত বিমানচালককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। পরে আরেকজন বিমানচালককেও সফলভাবে উদ্ধার করা হয়। অভিযান শেষে উত্তেজনা কমেনি। রাতে বিশ্রামের পর সকালে উঠে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে কড়া ভাষায় হুমকি দেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে ইরানকে কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নিলেও পূর্ণমাত্রার স্থল অভিযানের বিষয়ে ট্রাম্প নিজেই দ্বিধায় রয়েছেন। সামরিক পরিকল্পনাকারীরা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেলকেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের প্রস্তাব দিলেও সম্ভাব্য প্রাণহানির আশঙ্কায় তিনি তা নাকচ করে দেন। তার মতে, সেখানে গেলে মার্কিন সেনারা সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  বাড়ল এলপি গ্যাসের দাম

 

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই সংঘাত দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা এখনো দীর্ঘায়িত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ট্রাম্প কখনো কঠোর, কখনো নমনীয় অবস্থান নিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এদিকে সম্ভাব্য সমাধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এখন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনার দিকে তাকিয়ে আছে। ইউরোপীয় মিত্রদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সমর্থন না পাওয়ায় ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ-এর সমালোচনা করেছেন। পাশাপাশি ন্যাটো-এর ভূমিকাতেও অসন্তোষ জানিয়েছেন। এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও ট্রাম্প অভ্যন্তরীণ বিষয়েও মনোযোগ দিচ্ছেন। ইরানে কতগুলো লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে, সেটিকে তিনি সাফল্যের মাপকাঠি হিসেবে দেখছেন। পাশাপাশি হোয়াইট হাউসে নতুন একটি বলরুম নির্মাণ নিয়েও নিয়মিত আলোচনা করছেন এবং অতিথিদের সেই প্রকল্পের নকশা দেখাচ্ছেন। পুরো পরিস্থিতির এখনো সুস্পষ্ট সমাধান না থাকলেও এই বিষয়গুলোতেও তার সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  স্থায়ী যুদ্ধের অবসান চায় ইরান: উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী