
আক্তার হোসেন, কুলাউড়া উপজেলা প্রতিনিধি:
শনিবার সারাদিন বাবা জমসেদ মিয়ার সঙ্গে খেতেই কেটেছিল ৫ বছরের অবুঝ শিশু তামিম ইকবালের। বাবার ধান কাটার পরিশ্রমে ছোট্ট তামিম যেন ছিল এক টুকরো আনন্দের আলো। কিন্তু কে জানত, সেই আলোর প্রদীপ এভাবে হুট করে নিভে যাবে! মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেই আনন্দ রূপ নিল এক বুক কলিজা ফাটা আর্তনাদে। লা/শ হয়ে বাবা-মায়ের কোলে ফিরল একমাত্র সন্তান।
আজ রোববার (২৮ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের কাটাবিল গ্রাম সংলগ্ন ধলাই নদী থেকে নিখোঁজ এই শিশুর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার রাতে কাটাবিল গ্রামে বাড়ির সামনে গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন কাজ দেখছিল তামিম। এ সময় হঠাৎ তার শরীরে কাদা ছিটে পড়ে। কাদা লাগায় তামিম তড়িঘড়ি করে বাড়িতে গিয়ে তার পরনের টি-শার্টটি খুলে ফেলে। এরপর সম্ভবত শরীর বা কাদা পরিষ্কার করার উদ্দেশ্যে কাউকে কিছু না জানিয়ে আবার বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়।
ছেলে ঘরে না ফেরায় রাতের প্রথম প্রহরেই পরিবারে শুরু হয় হাহাকার। পরে পুরো গ্রামবাসী এক হয়ে সারারাত সম্ভাব্য সব জায়গায় ও ধলাই নদীর আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও তামিমের কোনো সন্ধান পায়নি।
অবশেষে আজ রোববার দুপুরের দিকে বাড়ির পাশের ধলাই নদীতে শিশু তামিমের ভাসমান দেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে নদী থেকে তার নিথর দেহটি উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, রাতে অন্ধকারে নদীর ঘাটে কাদা পরিষ্কার করতে গিয়ে বা অসাবধানতাবশত পা পিছলে গভীর পানিতে তলিয়ে যায় শিশুটি।
এক শোকাহত প্রতিবেশী জানান: — “যে ছেলেটি কাল সারাদিন বাবার চোখের সামনে হাসিমুখে ঘুরে বেড়াল, আজ সে চিরতরে স্তব্ধ। মৌলভীবাজারের ধলাই নদী এভাবে একটা তাজা প্রাণ কেড়ে নেবে, কেউ ভাবেনি।”
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবা জমসেদ মিয়া ও মা এখন সম্পূর্ণ বাকরুদ্ধ। সন্তান হারানোর এই চরম ট্র্যাজেডিতে পরিবারসহ গোটা কাটাবিল এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। অবুঝ এই শিশুর এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক বিদায় স্তব্ধ করে দিয়েছে পুরো এলাকার মানুষকে।
প্রতিবেদকের নাম 

























