Dhaka ০৬:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মৌলভীবাজারে ইনসানিয়া স্পেশালাইজড হাসপাতাল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন শিপিং সেক্টরে নতুন বাজার সৃষ্টিতে নাবিকগণ দূত হিসেবে কাজ করবে: নৌপরিবহন মন্ত্রী সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, ৫১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে নদীর পাড়ে মাদক সেবন, আটক -১ পুলিশের বিশেষ অভিযান: সাজাপ্রাপ্ত ও পরোয়ানাভুক্ত ১২ আসামী গ্রেফতার বান্দরবান এলজিইডি’তে লুটপাটের ‘হরিলুট নিশ্চুপ নির্বাহী প্রকৌশলী, রাজবাড়ীতে ১০ টি ফিলিং স্টেশনের একটিতেও তেল না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহন চালক গাইবান্ধায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন, সমুদ্রপথে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ২০২৫ ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর: ইউএনএইচসিআর ফটিকছড়ি উপজেলা “ক”জোনের আওতাধীন সকল শাখা কমিটির সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ফেব্রুয়ারিতে ভূমিকম্পে ১০ বার কাঁপল বাংলাদেশ

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৮:১৯:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭৭ সময় দেখুন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ফেব্রুয়ারি মাসেই ১০ বার কাঁপল বাংলাদেশ, ভয়াবহ বিপদের শঙ্কা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে দেশে অস্বাভাবিক হারে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে। মাত্র ২৭ দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১০ বার মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়েছে। এতে জনমনে আতঙ্কের পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্যোগের শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সর্বশেষ আজ শুক্রবার দুপুর ১টা ৫৪ মিনিটে ৫.৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলায়। জুমার নামাজের পরপরই কম্পন অনুভূত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুনঃ  নির্বাচিত সংসদই দেশকে এগিয়ে নেবে: স্পিকার

এর আগে বৃহস্পতিবারও দেশের কয়েকটি অঞ্চলে কম্পন টের পাওয়া যায়। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ওই কম্পনের মাত্রা ছিল ৩.৭ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের সিকিম রাজ্যের কাছাকাছি এলাকায়। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই দেশে ধারাবাহিকভাবে কম্পন অনুভূত হচ্ছে। ১ ফেব্রুয়ারি সিলেট অঞ্চলে প্রায় ৩ মাত্রার কম্পনের মাধ্যমে এই ধারার শুরু। ৩ ফেব্রুয়ারি একদিনেই একাধিকবার কেঁপে ওঠে দেশ, যার কেন্দ্র ছিল মিয়ানমার। একই সময়ে সাতক্ষীরার কলারোয়াতেও ৪.১ মাত্রার কম্পন হয়। পরে ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেটে ৩.৩ ও ৪ মাত্রার দুটি কম্পন আঘাত হানে। ১৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতক এলাকায় ৪.১ মাত্রার আরেকটি কম্পন অনুভূত হয়।

আরও পড়ুনঃ  কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা হবে: তারেক রহমান

এছাড়া ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতেও ৫.১ মাত্রার মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প হয়, যার উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের সাংগাই অঞ্চলের কাছাকাছি এলাকায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে একটি নতুন প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে—অনেক কম্পনের কেন্দ্রবিন্দু এখন দেশের ভেতরেই অবস্থান করছে। অতীতে বড় ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সাধারণত ভারত বা মিয়ানমারে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে নরসিংদী, সাভার বা ঢাকার বাড্ডার মতো এলাকাও এপিসেন্টারে পরিণত হচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে দেশের অভ্যন্তরীণ টেকটোনিক গঠন সক্রিয় হয়ে উঠছে। ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, ভূত্বকের নিচে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা শক্তি ছোট ছোট কম্পনের মাধ্যমে আংশিক মুক্ত হয়। তবে দীর্ঘ সময় বড় কোনো কম্পন না হলে সেই শক্তি একসময় বড় ভূমিকম্পে রূপ নিতে পারে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ভারতীয় ও ইউরেশীয় প্লেটের সংযোগস্থলে হওয়ায় এখানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই বেশি।

আরও পড়ুনঃ  রমনা পার্কে নববর্ষের বর্ণিল আয়োজন

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী ঢাকা সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন, নরম মাটি এবং দুর্বল অবকাঠামো মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। তাদের মতে, কেবল উদ্ধার প্রস্তুতি নয়, এখনই বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি, নিয়মিত মহড়া এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর মতো দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে দেশ।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

মৌলভীবাজারে ইনসানিয়া স্পেশালাইজড হাসপাতাল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন

ফেব্রুয়ারিতে ভূমিকম্পে ১০ বার কাঁপল বাংলাদেশ

আপডেটের সময়: ০৮:১৯:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ফেব্রুয়ারি মাসেই ১০ বার কাঁপল বাংলাদেশ, ভয়াবহ বিপদের শঙ্কা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে দেশে অস্বাভাবিক হারে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে। মাত্র ২৭ দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১০ বার মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়েছে। এতে জনমনে আতঙ্কের পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্যোগের শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সর্বশেষ আজ শুক্রবার দুপুর ১টা ৫৪ মিনিটে ৫.৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলায়। জুমার নামাজের পরপরই কম্পন অনুভূত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুনঃ  কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা হবে: তারেক রহমান

এর আগে বৃহস্পতিবারও দেশের কয়েকটি অঞ্চলে কম্পন টের পাওয়া যায়। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ওই কম্পনের মাত্রা ছিল ৩.৭ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের সিকিম রাজ্যের কাছাকাছি এলাকায়। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই দেশে ধারাবাহিকভাবে কম্পন অনুভূত হচ্ছে। ১ ফেব্রুয়ারি সিলেট অঞ্চলে প্রায় ৩ মাত্রার কম্পনের মাধ্যমে এই ধারার শুরু। ৩ ফেব্রুয়ারি একদিনেই একাধিকবার কেঁপে ওঠে দেশ, যার কেন্দ্র ছিল মিয়ানমার। একই সময়ে সাতক্ষীরার কলারোয়াতেও ৪.১ মাত্রার কম্পন হয়। পরে ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেটে ৩.৩ ও ৪ মাত্রার দুটি কম্পন আঘাত হানে। ১৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতক এলাকায় ৪.১ মাত্রার আরেকটি কম্পন অনুভূত হয়।

আরও পড়ুনঃ  জনগণকে গর্জে উঠতে হবে: ডা. শফিকুর রহমান

এছাড়া ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতেও ৫.১ মাত্রার মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প হয়, যার উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের সাংগাই অঞ্চলের কাছাকাছি এলাকায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে একটি নতুন প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে—অনেক কম্পনের কেন্দ্রবিন্দু এখন দেশের ভেতরেই অবস্থান করছে। অতীতে বড় ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সাধারণত ভারত বা মিয়ানমারে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে নরসিংদী, সাভার বা ঢাকার বাড্ডার মতো এলাকাও এপিসেন্টারে পরিণত হচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে দেশের অভ্যন্তরীণ টেকটোনিক গঠন সক্রিয় হয়ে উঠছে। ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, ভূত্বকের নিচে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা শক্তি ছোট ছোট কম্পনের মাধ্যমে আংশিক মুক্ত হয়। তবে দীর্ঘ সময় বড় কোনো কম্পন না হলে সেই শক্তি একসময় বড় ভূমিকম্পে রূপ নিতে পারে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ভারতীয় ও ইউরেশীয় প্লেটের সংযোগস্থলে হওয়ায় এখানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই বেশি।

আরও পড়ুনঃ  গণভোটের রায় বাস্তবায়নে প্রয়োজনে আবারও জীবন দেবো: ডা. শফিকুর রহমান

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী ঢাকা সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন, নরম মাটি এবং দুর্বল অবকাঠামো মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। তাদের মতে, কেবল উদ্ধার প্রস্তুতি নয়, এখনই বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি, নিয়মিত মহড়া এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর মতো দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে দেশ।