Dhaka ১১:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কাহালুতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু কেরানীগঞ্জে ফার্নিচার শোরুমের ৩ তলা থেকে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার হোসেনপুরের উন্নয়নে কর্মকর্তাদের সাথে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের বৈঠক শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্ত স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টঃ উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক পরিষদ গঠিত বৃষ্টি ছাড়াই বজ্রপাত, ঠাকুরগাঁওয়ে গরুর মৃত্যু মোংলায় ভুয়া র‍্যাব পরিচয়কারী আটক গোবিন্দগঞ্জে মাদকসহ ২ জন কে ৩৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বগুড়ার সাবেক পৌর প্রশাসক রাজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ ভোলায় ফ্ল্যাট থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক কাউনিয়ার কুর্শায় নারী কৃষকদের উৎপাদিত দেশি হাঁস-মুরগি ও ডিমের হাট উদ্বোধন

ফেব্রুয়ারিতে ভূমিকম্পে ১০ বার কাঁপল বাংলাদেশ

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৮:১৯:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১২৫ সময় দেখুন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ফেব্রুয়ারি মাসেই ১০ বার কাঁপল বাংলাদেশ, ভয়াবহ বিপদের শঙ্কা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে দেশে অস্বাভাবিক হারে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে। মাত্র ২৭ দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১০ বার মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়েছে। এতে জনমনে আতঙ্কের পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্যোগের শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সর্বশেষ আজ শুক্রবার দুপুর ১টা ৫৪ মিনিটে ৫.৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলায়। জুমার নামাজের পরপরই কম্পন অনুভূত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুনঃ  বিএনপির অশিক্ষিত ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত: আসিফ মাহমুদ

এর আগে বৃহস্পতিবারও দেশের কয়েকটি অঞ্চলে কম্পন টের পাওয়া যায়। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ওই কম্পনের মাত্রা ছিল ৩.৭ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের সিকিম রাজ্যের কাছাকাছি এলাকায়। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই দেশে ধারাবাহিকভাবে কম্পন অনুভূত হচ্ছে। ১ ফেব্রুয়ারি সিলেট অঞ্চলে প্রায় ৩ মাত্রার কম্পনের মাধ্যমে এই ধারার শুরু। ৩ ফেব্রুয়ারি একদিনেই একাধিকবার কেঁপে ওঠে দেশ, যার কেন্দ্র ছিল মিয়ানমার। একই সময়ে সাতক্ষীরার কলারোয়াতেও ৪.১ মাত্রার কম্পন হয়। পরে ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেটে ৩.৩ ও ৪ মাত্রার দুটি কম্পন আঘাত হানে। ১৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতক এলাকায় ৪.১ মাত্রার আরেকটি কম্পন অনুভূত হয়।

আরও পড়ুনঃ  পতেঙ্গায় অবৈধ টমটমের দাপট ও লক্ষ টাকার টোকেন বাণিজ্য

এছাড়া ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতেও ৫.১ মাত্রার মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প হয়, যার উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের সাংগাই অঞ্চলের কাছাকাছি এলাকায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে একটি নতুন প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে—অনেক কম্পনের কেন্দ্রবিন্দু এখন দেশের ভেতরেই অবস্থান করছে। অতীতে বড় ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সাধারণত ভারত বা মিয়ানমারে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে নরসিংদী, সাভার বা ঢাকার বাড্ডার মতো এলাকাও এপিসেন্টারে পরিণত হচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে দেশের অভ্যন্তরীণ টেকটোনিক গঠন সক্রিয় হয়ে উঠছে। ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, ভূত্বকের নিচে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা শক্তি ছোট ছোট কম্পনের মাধ্যমে আংশিক মুক্ত হয়। তবে দীর্ঘ সময় বড় কোনো কম্পন না হলে সেই শক্তি একসময় বড় ভূমিকম্পে রূপ নিতে পারে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ভারতীয় ও ইউরেশীয় প্লেটের সংযোগস্থলে হওয়ায় এখানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই বেশি।

আরও পড়ুনঃ  ভারত বা পাকিস্তান, কোনো বলয়ে যেতে চায় না বাংলাদেশের মানুষ: মির্জা ফখরুল

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী ঢাকা সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন, নরম মাটি এবং দুর্বল অবকাঠামো মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। তাদের মতে, কেবল উদ্ধার প্রস্তুতি নয়, এখনই বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি, নিয়মিত মহড়া এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর মতো দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে দেশ।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

কাহালুতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু

ফেব্রুয়ারিতে ভূমিকম্পে ১০ বার কাঁপল বাংলাদেশ

আপডেটের সময়: ০৮:১৯:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ফেব্রুয়ারি মাসেই ১০ বার কাঁপল বাংলাদেশ, ভয়াবহ বিপদের শঙ্কা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে দেশে অস্বাভাবিক হারে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে। মাত্র ২৭ দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১০ বার মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়েছে। এতে জনমনে আতঙ্কের পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্যোগের শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সর্বশেষ আজ শুক্রবার দুপুর ১টা ৫৪ মিনিটে ৫.৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলায়। জুমার নামাজের পরপরই কম্পন অনুভূত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুনঃ  কুলিয়ারচরে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী ও একজন সিএনজি চালক নিহত

এর আগে বৃহস্পতিবারও দেশের কয়েকটি অঞ্চলে কম্পন টের পাওয়া যায়। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ওই কম্পনের মাত্রা ছিল ৩.৭ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের সিকিম রাজ্যের কাছাকাছি এলাকায়। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই দেশে ধারাবাহিকভাবে কম্পন অনুভূত হচ্ছে। ১ ফেব্রুয়ারি সিলেট অঞ্চলে প্রায় ৩ মাত্রার কম্পনের মাধ্যমে এই ধারার শুরু। ৩ ফেব্রুয়ারি একদিনেই একাধিকবার কেঁপে ওঠে দেশ, যার কেন্দ্র ছিল মিয়ানমার। একই সময়ে সাতক্ষীরার কলারোয়াতেও ৪.১ মাত্রার কম্পন হয়। পরে ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেটে ৩.৩ ও ৪ মাত্রার দুটি কম্পন আঘাত হানে। ১৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতক এলাকায় ৪.১ মাত্রার আরেকটি কম্পন অনুভূত হয়।

আরও পড়ুনঃ  ভারত বা পাকিস্তান, কোনো বলয়ে যেতে চায় না বাংলাদেশের মানুষ: মির্জা ফখরুল

এছাড়া ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতেও ৫.১ মাত্রার মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প হয়, যার উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের সাংগাই অঞ্চলের কাছাকাছি এলাকায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে একটি নতুন প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে—অনেক কম্পনের কেন্দ্রবিন্দু এখন দেশের ভেতরেই অবস্থান করছে। অতীতে বড় ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সাধারণত ভারত বা মিয়ানমারে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে নরসিংদী, সাভার বা ঢাকার বাড্ডার মতো এলাকাও এপিসেন্টারে পরিণত হচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে দেশের অভ্যন্তরীণ টেকটোনিক গঠন সক্রিয় হয়ে উঠছে। ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, ভূত্বকের নিচে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা শক্তি ছোট ছোট কম্পনের মাধ্যমে আংশিক মুক্ত হয়। তবে দীর্ঘ সময় বড় কোনো কম্পন না হলে সেই শক্তি একসময় বড় ভূমিকম্পে রূপ নিতে পারে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ভারতীয় ও ইউরেশীয় প্লেটের সংযোগস্থলে হওয়ায় এখানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই বেশি।

আরও পড়ুনঃ  বিদ্যুতের দাম বাড়লো

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী ঢাকা সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন, নরম মাটি এবং দুর্বল অবকাঠামো মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। তাদের মতে, কেবল উদ্ধার প্রস্তুতি নয়, এখনই বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি, নিয়মিত মহড়া এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর মতো দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে দেশ।