Dhaka ০৯:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
১০ দিন হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুমার পলিকা পাড়ায় সাংগ্রাই উৎসবে জলকেলির আনন্দে মুখর পাহাড় গাইবান্ধায় অর্থ আত্মসাতের মিথ্যা অপবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন গ্রামাঞ্চলে তীব্র লোডশেডিং গরমে মানুষের হাঁসফাঁস বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ দেখতে গ্যালারিতে জাইমা রহমান সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার স্থায়ী যুদ্ধের অবসান চায় ইরান: উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী জনগণকে গর্জে উঠতে হবে: ডা. শফিকুর রহমান সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা মহিলা দলের সম্পাদিকা রওশন আরা  পাঁচ গ্রামের মানুষের ভরসা ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের কালবার্ট,

পাঁচ গ্রামের মানুষের ভরসা ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের কালবার্ট,

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৫:৪১:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৫ সময় দেখুন

বিশেষ প্রতিনিধি চট্রগ্রাম:-নিজ উদ্যোগে তৈরি কাঠের কালবার্ট দিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির দাঁতমারা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষকে। এভাবে পারাপার করা যেমন ঝুঁকিপূর্ণ তেমনি ভোগান্তিও রয়েছে।

চার হাজারেরও বেশি মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা নড়বড়ে একটি কাঠের কালবার্ট। দৈনন্দিন স্কুল-কলেজমুখী ছাত্র ছাত্রীদের থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, দিনমজুর মানুষের চলাচল এই কালবার্ট দিয়ে। ২০ ফুটের মত দৈর্ঘ্য ও ৪ ফুট প্রস্তে গাছের খুঁটি আর কাঠের বিছানা দিয়ে তৈরি কালবার্ট নিয়ম করে দূর্ঘটনা আতঙ্ক লেগে থাকে । প্রতিদিন ৫ গ্রামের মানুষ মোটরবাইক, বাই সাইকেলে চলাচল করলেও কাঠের কালবার্টটি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ভাঙা-মেরামতের মধ্যেই দাড়িয়ে আছে। কালবার্টটি পাকা ব্রিজে রুপ ধারণ করতে পারেনি।

ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউপি সদর থেকে ৫ কিমি পশ্চিমে দক্ষিণ বান্দরমারা এনায়েতপুরে খুঁটির ওপর ভর করে কাঠ দিয়ে বানানো সরু কালবার্ট দিয়ে পারাপার করতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে উত্তর বান্দরমারা ও দক্ষিণ বান্দরমারা সড়কের উপর কালবার্টটি পাকা করার দাবি জানানো হলেও কোনো সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ চলাচকারী ভুক্তভোগিদের। অতীতেও এই পাকা ব্রিজের জন্য অনেক জায়গায় ধর্না দিয়েও সফল হয়নি কেউ। তবে, প্রতিবছর এলকাবাসী ও স্থানীয় ইউপি সদস্যের প্রচেষ্টায় গাছের খুঁটি ও কাঠ দিয়ে কালবার্টটি তৈরি করে দেন বলে জানায় ওই এলাকার বাসিন্দারা।

আরও পড়ুনঃ  গাইবান্ধা সরকারি কলেজে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ বরণ

জানা গেছে, তারাখো রাবার বাগান সড়কের পাশ ঘেঁষে বয়ে যাওয়া এনায়েতপুর ছড়ার উপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের কালবার্ট দিয়ে বড় বেতুয়া, ছোট বেতুয়া,ঘরকাটা,শেষ ছড়া,হাসনাবাদ, কাঞ্চনা, বৈদ্যের তলি অংশের মানুষ চলাচল করে। একটি পাকা ব্রিজের অভাবে ভয়ে ভয়ে পারাপার করতে হয় স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসা পড়ুয়া শতশত শিক্ষার্থীদের। এছাড়া গ্রামগুলোতে প্রয়োজনে ভারী কোন যান চলাচল করতে হলে কয়েক কিমি পথ ঘুরে নিচিন্তা সড়ক দিয়ে যেতে হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, কাঠের তৈরি কালবার্টটি দিয়ে কোন রকম ভারী যানবাহন না চললেও ঝুঁকি নিয়ে চলছে মোটর সাইকেল, বাই সাইকেল। ২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪ ফুট প্রস্থ ওই কালবার্ট ৮ টির মত গাছের খুঁটি দিয়ে দাঁড় করে রাখা হয়েছে। এতে কোন খুঁটি নষ্ট বা বেকে গেলে যাতায়ত বন্ধ হয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ  জয়পুরহাটে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে পহেলা বৈশাখ উদযাপন

শিশু শিক্ষার্থী আমিন বলেন, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা এই সেতু দিয়ে স্কুলে যাচ্ছি, এই কালবার্টের নিকট আসলে একটা ভয় কাজ করে পড়ে যাচ্ছি কিনা!!

আরও পড়ুনঃ  গাইবান্ধায় অর্থ আত্মসাতের মিথ্যা অপবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

রেজাউল করিম নামে স্থানীয় এক দোকানদার বলেন,এই কালবার্ট দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ যাতায়ত করে,বন্যা হলে তো অনেকদিন যাতায়াত বন্ধ থাকে,নতুন করে কালবার্ট তৈরি হলে যাতায়াত শুরু হয়। অতীতে প্রতিনিধিদের জানিয়েও কোন কাজ হয়নি। শুধু আশ্বাস দিয়ে গেছেন।

মোঃ বাচ্চু মিয়া বলেন, ২০ ফুটের একটি কালবার্ট অভাবে একটি ভালো আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে উঠেনা। সব কিছু পছন্দ হলেও মানুষের পছন্দ হয়না সংযোগ সড়কের কালবার্ট,কবে হবে এই কালবার্ট এটাই দুঃশ্চিতা!!

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হাকিম বলেন, এই ব্রিজের ব্যাপারে ইউপি সচিব উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে আবেদন করেছেন। । কিন্তু দীর্ঘ ২০-৩০ বছর ধরে ওই সেতু হচ্ছে হচ্ছে বলে এখনো হয়নি। সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি। যাতে এলাকার মানুষের দুঃখ লাগব হয়।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

১০ দিন হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পাঁচ গ্রামের মানুষের ভরসা ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের কালবার্ট,

আপডেটের সময়: ০৫:৪১:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি চট্রগ্রাম:-নিজ উদ্যোগে তৈরি কাঠের কালবার্ট দিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির দাঁতমারা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষকে। এভাবে পারাপার করা যেমন ঝুঁকিপূর্ণ তেমনি ভোগান্তিও রয়েছে।

চার হাজারেরও বেশি মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা নড়বড়ে একটি কাঠের কালবার্ট। দৈনন্দিন স্কুল-কলেজমুখী ছাত্র ছাত্রীদের থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, দিনমজুর মানুষের চলাচল এই কালবার্ট দিয়ে। ২০ ফুটের মত দৈর্ঘ্য ও ৪ ফুট প্রস্তে গাছের খুঁটি আর কাঠের বিছানা দিয়ে তৈরি কালবার্ট নিয়ম করে দূর্ঘটনা আতঙ্ক লেগে থাকে । প্রতিদিন ৫ গ্রামের মানুষ মোটরবাইক, বাই সাইকেলে চলাচল করলেও কাঠের কালবার্টটি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ভাঙা-মেরামতের মধ্যেই দাড়িয়ে আছে। কালবার্টটি পাকা ব্রিজে রুপ ধারণ করতে পারেনি।

ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউপি সদর থেকে ৫ কিমি পশ্চিমে দক্ষিণ বান্দরমারা এনায়েতপুরে খুঁটির ওপর ভর করে কাঠ দিয়ে বানানো সরু কালবার্ট দিয়ে পারাপার করতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে উত্তর বান্দরমারা ও দক্ষিণ বান্দরমারা সড়কের উপর কালবার্টটি পাকা করার দাবি জানানো হলেও কোনো সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ চলাচকারী ভুক্তভোগিদের। অতীতেও এই পাকা ব্রিজের জন্য অনেক জায়গায় ধর্না দিয়েও সফল হয়নি কেউ। তবে, প্রতিবছর এলকাবাসী ও স্থানীয় ইউপি সদস্যের প্রচেষ্টায় গাছের খুঁটি ও কাঠ দিয়ে কালবার্টটি তৈরি করে দেন বলে জানায় ওই এলাকার বাসিন্দারা।

আরও পড়ুনঃ  সেলিমাবাদ উপজেলা চাই সংসদে এমপি অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম

জানা গেছে, তারাখো রাবার বাগান সড়কের পাশ ঘেঁষে বয়ে যাওয়া এনায়েতপুর ছড়ার উপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের কালবার্ট দিয়ে বড় বেতুয়া, ছোট বেতুয়া,ঘরকাটা,শেষ ছড়া,হাসনাবাদ, কাঞ্চনা, বৈদ্যের তলি অংশের মানুষ চলাচল করে। একটি পাকা ব্রিজের অভাবে ভয়ে ভয়ে পারাপার করতে হয় স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসা পড়ুয়া শতশত শিক্ষার্থীদের। এছাড়া গ্রামগুলোতে প্রয়োজনে ভারী কোন যান চলাচল করতে হলে কয়েক কিমি পথ ঘুরে নিচিন্তা সড়ক দিয়ে যেতে হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, কাঠের তৈরি কালবার্টটি দিয়ে কোন রকম ভারী যানবাহন না চললেও ঝুঁকি নিয়ে চলছে মোটর সাইকেল, বাই সাইকেল। ২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪ ফুট প্রস্থ ওই কালবার্ট ৮ টির মত গাছের খুঁটি দিয়ে দাঁড় করে রাখা হয়েছে। এতে কোন খুঁটি নষ্ট বা বেকে গেলে যাতায়ত বন্ধ হয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ  গাইবান্ধায় সেচ পাম্প চালু করতে গিয়ে বিদুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক জনের মৃত্যু

শিশু শিক্ষার্থী আমিন বলেন, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা এই সেতু দিয়ে স্কুলে যাচ্ছি, এই কালবার্টের নিকট আসলে একটা ভয় কাজ করে পড়ে যাচ্ছি কিনা!!

আরও পড়ুনঃ  গাইবান্ধা সরকারি কলেজে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ বরণ

রেজাউল করিম নামে স্থানীয় এক দোকানদার বলেন,এই কালবার্ট দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ যাতায়ত করে,বন্যা হলে তো অনেকদিন যাতায়াত বন্ধ থাকে,নতুন করে কালবার্ট তৈরি হলে যাতায়াত শুরু হয়। অতীতে প্রতিনিধিদের জানিয়েও কোন কাজ হয়নি। শুধু আশ্বাস দিয়ে গেছেন।

মোঃ বাচ্চু মিয়া বলেন, ২০ ফুটের একটি কালবার্ট অভাবে একটি ভালো আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে উঠেনা। সব কিছু পছন্দ হলেও মানুষের পছন্দ হয়না সংযোগ সড়কের কালবার্ট,কবে হবে এই কালবার্ট এটাই দুঃশ্চিতা!!

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হাকিম বলেন, এই ব্রিজের ব্যাপারে ইউপি সচিব উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে আবেদন করেছেন। । কিন্তু দীর্ঘ ২০-৩০ বছর ধরে ওই সেতু হচ্ছে হচ্ছে বলে এখনো হয়নি। সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি। যাতে এলাকার মানুষের দুঃখ লাগব হয়।