
মোঃ আলাউদ্দীন মন্ডল, রাজশাহী:
রাজশাহীর পবা উপজেলার বায়া মোড় থেকে হিমালয় কোল্ড স্টোরেজ হয়ে বায়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কটি এখন এক চূড়ান্ত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রকার সংস্কার না হওয়ায় পুরো সড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে বিশালাকার খানাখন্দ। এতে চলাচলের চরম অযোগ্য হয়ে পড়ার পাশাপাশি প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা, বিঘ্নিত হচ্ছে হাজারও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
আজ দুপুরে সড়কটিতে অল্পের জন্য বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেয়েছেন একটি যাত্রীবাহী বাসের যাত্রীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সড়কটির বিশাল গর্ত ও পিচ্ছিল কাদার কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে নেমে যায়। সৌভাগ্যবশত যাত্রীরা প্রাণে বাঁচলেও এই ঘটনায় গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়।
অবৈধ দখল ও জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ চরম:
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সড়কটির এই করুণ অবস্থার পেছনে শুধু প্রশাসনিক উদাসীনতাই নয়, স্থানীয় এক প্রভাবশালী মহলের বেআইনি দখলদারিও সমানভাবে দায়ী। হিমালয় কোল্ড স্টোরেজের দেয়াল ঘেঁষে সম্প্রতি নির্মিত পানি নিষ্কাশন ড্রেনটি দখল করে নিয়েছে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তি। ড্রেনের ওপর কাঠ ও খড়ির ব্যবসা পরিচালনা করায় বর্ষার পানি ও দৈনন্দিন ব্যবহৃত নোংরা পানি নিষ্কাশিত হতে পারছে না। ফলে পানি আটকে থেকে পুরো সড়কটি এখন একটি পরিত্যক্ত নর্দমা বা খালে রূপ নিয়েছে।
শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চরম ভোগান্তি:
সড়কটির এই কাদা-পানির নরকযন্ত্রণার সবচেয়ে বড় শিকার বায়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ আশপাশের একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা। পায়ে হেঁটে নিরাপদে যাতায়াত করার মতো ন্যূনতম পরিবেশও সেখানে অবশিষ্ট নেই। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পোশাক ও বই-খাতা নষ্ট হওয়ার ভয় নিয়ে কাদা-পানি ভেঙে স্কুলে যেতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।
জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ:
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর, পবা উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের আশু ও জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের স্পষ্ট দাবি—অনতিবিলম্বে ড্রেন ও সড়কের পাশের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সড়কটি দ্রুত সংস্কার করতে হবে। অন্যথায় যেকোনো মুহূর্তে আরও বড় কোনো মর্মান্তিক দুর্ঘটনার দায়ভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।
প্রতিবেদকের নাম 


















