
মোঃ মিজানুর রহমান, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম):
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বেতছড়ি এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী খাদিজাতুল কোবরা (রাঃ) জামে মসজিদ এবং পার্শ্ববর্তী বেতছড়ি গাউছিয়া কলন্দরিয়া নঈমিয়া দাখিল মাদ্রাসা বর্তমানে তীব্র নদীভাঙন ও পাহাড়ি ঢলের কবলে পড়ে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে মসজিদের ভিত্তি ও সীমানা প্রাচীর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে যেকোনো সময় প্রতিষ্ঠান দুটি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, জরুরি এই পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় না থেকে স্থানীয় সমাজ, মসজিদ পরিচালনা কমিটি এবং সাধারণ জনগণ নিজস্ব অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে অস্থায়ী রক্ষাবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারকাজ শুরু করেছেন। স্থানীয় যুবসমাজও স্বতঃস্ফূর্তভাবে শ্রম দিয়ে এই উদ্যোগে অংশ নিচ্ছেন।
বেতছড়ি মসজিদ পরিচালনা কমিটির আহমদ নুর সিদ্দিকী বলেন, দীর্ঘদিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে মসজিদটি ভয়াবহ ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। তাই এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে প্রাথমিক সুরক্ষামূলক কাজ শুরু করেছি। তবে মসজিদ ও মাদ্রাসাকে স্থায়ীভাবে রক্ষা করতে টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের বিকল্প নেই।
বেতছড়ি সমাজের আবুল কালাম বলেন, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের বিত্তবানদের প্রতি দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। ধর্মীয় এই প্রতিষ্ঠান দুটি রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
ইউনিয়নের বাসিন্দা ফরিদ বিন আলী এবং বেতছড়ি মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আব্দুর রহমান বলেন, মসজিদ ও মাদ্রাসা – উভয় প্রতিষ্ঠানই বর্তমানে নদীভাঙনের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী এবং উপজেলা সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ ইউসুফ বলেন, স্থানীয়দের উদ্যোগে আপাতত অস্থায়ী সুরক্ষার কাজ চললেও এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। তাই পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর এবং সমাজের বিত্তবানদের দ্রুত এগিয়ে এসে টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করলে ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদ ও মাদ্রাসা নদীভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পাবে এবং ভবিষ্যতে ধর্মীয় ও শিক্ষাকার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালিত হবে।
প্রতিবেদকের নাম 


















