Dhaka ১০:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গাইবান্ধায় জলাবদ্ধতা, শহরবাসী চরম দুর্ভোগে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাঙ্গুনিয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-সেতু-কালভার্ট, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ সহানুভূতি নয়, কর্মসংস্থানের পথ ‘ওজন দাদুর’ পাশে ছাত্রদল নেতার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফাইম নোয়াখালীতে রাতের আঁধারে অধ্যক্ষের কক্ষ খুলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বদলের অভিযোগ চৌধুরী হাট ডিগ্রি কলেজ সভাপতির বিরুদ্ধে মুখে ভাষা নেই, রংতুলির আঁচড়ে ক্যানভাসে কথা বলে সাবা পত্নীতলায় ৪০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট সহ ৩ জন মাদক কারবারি আটক হিলিতে’ গ্রেপ্তার৪ মামলার আসামি ‘কালী ঢাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লিন স্কুল টিম গঠনের নির্দেশ: জেলা প্রশাসক ভোলায় কোস্ট গার্ডের পৃথক দুইটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন ও কারেন্ট জাল জব্দ

টানা বৃষ্টিতে সাতকানিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, সাঙ্গু ও ডলুর পানি বৃদ্ধি

মোঃ সৈয়দ মিয়া : চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রামে টানা চার দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি উজানের ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে অব্যাহত বৃষ্টিতে উপজেলার ভোয়ালিয়াপাড়া, রূপকানিয়া, চরতি, কাঞ্চনা, বাজালিয়ার মাহালিয়া, ঢেমশা, কেওঁচিয়া হেডমাস্টার পাড়া সহ বিভিন্ন এলাকার নিচু স্থান প্লাবিত হয়েছে এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

অবিরাম বৃষ্টির কারণে দানুরমার ঘাটের সাঁকোটি পানির তীব্র স্রোতে ভেঙে গেছে। ফলে নদী পারাপারে স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনেও মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  লক্ষীপুর পৌরসভার বাজেট ঘোষণা ৮৬ কোটি টাকা

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাতকানিয়ার দক্ষিণ ভোয়ালিয়াপাড়া ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ২০২৩ সালের বন্যায় ভেঙে যাওয়া নদীতীরের অংশটি এখনো স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হয়নি। চলমান ভারী বর্ষণে ওই স্থানে আবারও বড় ধরনের ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলাকাবাসী প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এদিকে টানা বৃষ্টির মধ্যেও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেক শিক্ষার্থীকে বৃষ্টির মধ্যেই কষ্ট করে বিদ্যালয়ে যেতে দেখা গেছে।

উপজেলার পূর্ব ছদাহা এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। ছদাহা–মাহালিয়া সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  জনদুর্ভোগের অপর নাম: সাবান ফ্যাক্টরি রোড চিতাখোলা

অন্যদিকে পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের কারণে সাঙ্গু ও ডলু নদীতে তীব্র স্রোত দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। ইতোমধ্যে নিম্নাঞ্চলের চর ও বিল এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক কৃষকের আবাদি জমি, সবজি ক্ষেত ও বীজতলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকলে সাতকানিয়ায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে পাহাড়ধস, নদীতীর ভাঙন এবং নদীতীরবর্তী বসতঘর বিলীন হওয়ার ঝুঁকিও ক্রমেই বাড়ছে।

এ অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারের পুরো বিল উত্তোলন

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, টানা বৃষ্টিপাত ও শঙ্খ নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতীরবর্তী এবং নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে তা বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

গাইবান্ধায় জলাবদ্ধতা, শহরবাসী চরম দুর্ভোগে

টানা বৃষ্টিতে সাতকানিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, সাঙ্গু ও ডলুর পানি বৃদ্ধি

আপডেটের সময়: ১২:৩৩:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

মোঃ সৈয়দ মিয়া : চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রামে টানা চার দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি উজানের ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে অব্যাহত বৃষ্টিতে উপজেলার ভোয়ালিয়াপাড়া, রূপকানিয়া, চরতি, কাঞ্চনা, বাজালিয়ার মাহালিয়া, ঢেমশা, কেওঁচিয়া হেডমাস্টার পাড়া সহ বিভিন্ন এলাকার নিচু স্থান প্লাবিত হয়েছে এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

অবিরাম বৃষ্টির কারণে দানুরমার ঘাটের সাঁকোটি পানির তীব্র স্রোতে ভেঙে গেছে। ফলে নদী পারাপারে স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনেও মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সবজি বীজ ও সার বিতরণ উদ্বোধন

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাতকানিয়ার দক্ষিণ ভোয়ালিয়াপাড়া ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ২০২৩ সালের বন্যায় ভেঙে যাওয়া নদীতীরের অংশটি এখনো স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হয়নি। চলমান ভারী বর্ষণে ওই স্থানে আবারও বড় ধরনের ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলাকাবাসী প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এদিকে টানা বৃষ্টির মধ্যেও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেক শিক্ষার্থীকে বৃষ্টির মধ্যেই কষ্ট করে বিদ্যালয়ে যেতে দেখা গেছে।

উপজেলার পূর্ব ছদাহা এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। ছদাহা–মাহালিয়া সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে তারাগঞ্জে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপিত

অন্যদিকে পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের কারণে সাঙ্গু ও ডলু নদীতে তীব্র স্রোত দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। ইতোমধ্যে নিম্নাঞ্চলের চর ও বিল এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক কৃষকের আবাদি জমি, সবজি ক্ষেত ও বীজতলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকলে সাতকানিয়ায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে পাহাড়ধস, নদীতীর ভাঙন এবং নদীতীরবর্তী বসতঘর বিলীন হওয়ার ঝুঁকিও ক্রমেই বাড়ছে।

এ অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  নজিপুর সানরাইজ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফল উৎসব অনুষ্ঠিত

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, টানা বৃষ্টিপাত ও শঙ্খ নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতীরবর্তী এবং নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে তা বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে